somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নুইউওর মানুষ তৈরীর কাহিনী

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রাচীন গ্রীক রুপকথায় প্রমিখিউসের মানুষ তৈরীর কথা আছে । প্রাচীন মিশরের রুপকথায় বলা হয়েছে , দেবতাদের অনুরোধে মানুষের সৃষ্টি হলো । ইহুদিদের রুপকথায় বলা হয়েছে মানুষের সৃষ্টিকর্তা যীসু । প্রাচীন চীনের রুপকথায় মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে কি লেখা আছে ? এতে বলা হয়েছে মানুষের সৃষ্টিকর্তা নুইওয়ো নামে এক মানুষের শরীর ড্রাগনের লেজসম্পন্ন এক দেবী ।

চীনের প্রাচীন রুপকথায় বলা হয়েছে , বীর ফানকু আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পর নুইউও আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে ঘুরে বেড়ায় । তখন পৃথিবীতে পর্বত-পাহাড় , নদনদী ও গাছ ঘাস আর পাখি , পশু , পোকা ও মাছ থাকা সত্বেও পরিবেশ নিস্তেজ ছিলো । কারণ পৃথিবীতে কোনো মানুষ নেই । একদিন নুইউও পৃথিবীর নির্জীব মাটিতে হাটার সময় নিসঙ্গ বোধ করেন , তিনি আকাশ ও মাটির মধ্যে কিছু জীবন্ত জিনিস যোগাতে শুরু করেন ।

নুইউও পৃথিবীর গাছ , ঘাস ও ফুলগুলো পছন্দ করেন । তবে তিনি প্রাণশক্তিতে ভরপুর পাখি , পশু , পোকা ও মাছকে বেশী পছন্দ করেন । নুইউও মনে করেন , ফানকুর সৃষ্ট এই পৃথিবী পরিপূর্ণ নয় , কারণ পৃথিবীর এইসব প্রাণীর বুদ্ধি কম । তিনি তাদের চেয়ে আরো উন্নত প্রাণী সৃষ্টি করতে চান।

নুইউও হলুদ নদীর তীরে হাজির হলেন । নদীর পানিতে নুইউও নিজের সুন্দর মুখ দেখতে পেলেন ,এই জন্য তিনি আনন্দবোধ করেন । তিনি নদীতীরে বসে নরম মাটি দিয়ে অনেক প্রাণী তৈরী করেন । এইসব মাটির প্রাণী তার মতো সুন্দর , তবে নুইউও লেজের পরিবর্তে তাদের গায়ে দুটি হাত ও দুটি পা তৈরী করেন । তারপর নুইউও তার তৈরী এইসব প্রাণীর গায়ে ফুঁ দিয়ে প্রাণ শক্তি যুগিয়ে দেন । এইসব প্রাণী তত্ক্ষনাতই জীবন্ত প্রাণীতে পরিণত হয় । তারা উঠে দাড়াঁতে পারে , হাটতে পারে , কথা বলতে পারে , নুইউও তাদেরকে মানুষ বলেন। তারপর নুইউও কিছু লোকের গায়ে পুরুষ হরমৌন আর বাকী লোকের গায়ে নারী হরমোন দিলেন , যারা পুরুষ হরমোন পান ,তারা পুরুষ হলো আর যারা নারী হরমোন পান , তারা নারী হলো । এইসব নারী পুরুষ নুইউওর চার পাশে দাড়িঁয়ে উল্লাস প্রকাশ করে এবং পৃথিবীকে আরো জীবন্ত করে তোলে ।

নুইউও আরো বেশী মানুষ তৈরী করতে চান । কিন্তু মাটি দিয়ে মানুষ তৈরী করা সময়সাপেক্ষ কাজ । তাই তিনি একটি ঘাসের তৈরী দড়ি নদীর তলদেশে ফেলে নাড়তে থাকেন । যখন এই দড়ি কাদায় মাটিপূর্ণ হয় , তখন নুইউও এই কাদাপূর্ণ দড়ি উঠিয়ে দড়ির কাদা চার পাশে ছিটকানোর চেষ্টা করেন । যেসব জায়গায় কাদা পড়েছে , সেইসব জায়গার ছোট ছোট কাদা এক একটি মানুষে পরিণত হয় । এইভাবে নুইউও পৃথিবীতে প্রচুর মানুষ তৈরী করেন ।

নুইউও পৃথিবীতে মানব জাতি সৃষ্টি করার পর আরেকটি কথা চিন্তা করতে শুরু করেন । সেই চিন্তা হলো মানব জাতি কিভাবে বংশ বাড়াতে পারে ? কারণ সব প্রাণীর আয়ু সীমিত । মানুষের মৃত্যুর পর যদি তাকে আবার নতুন মানুষ তৈরী করতে হয় , তাহলে ঝামেলা বেশী । তাই নুইউও একজন পুরুষ মানুষ ও একজন মেয়ে মানুষকে একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করেন। বাচ্চা হওয়ার পর পুরুষ মানুষ ও মেয়ে মানুষ তাদের দেখাশোনার দায়িত্ববহন করে । এইভাবে মানব জাতি নিজে বংশ বাড়ার কাজ করে এবং গোটা পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে ।



এখান থেকে সংগৃহীত



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিলশানা পারুলদের অযাচিত, অপার্চুনিস্টিক রুপান্তর

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২



দিলশানা পারুল বা দিশেহারা পারুল, যাই বলি না কেন, একসময় তাহাকে আমাদেরই সহযোদ্ধা মনে করিতাম। মনে পড়ে হাসিনা পতনের বছরখানেক আগে পিনাকি ওরফে আবর্জনাকি ভট্টাচার্য যখন তাঁর একটা ভিডিও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×