সব দেশেরই অভ্যন্তরীণ নানা সংকট থাকে, অনেক সময় তাতে বাইরের উস্কানিও জড়িত থাকে। তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামেও একসময় যে চরম সংকট বিরাজমান ছিল - তা দমন করতে সেনাবাহিনীকে তখন যেরকম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই তার চরম অপব্যবহার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়া হলে কী হয় - তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সামান্য কয়েক বছরের নিজ অভিজ্ঞতাতেই আমরা তা দেখেছি, আর পার্বত্য চট্টগ্রামে তো সেই প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনামল থেকে শুরু করে এই এখনও সেনাবাহিনীই একপ্রকার নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় আছে। সেখানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতার দাপট এর মধ্যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বুঝতে এই সামান্য কিছু তথ্যই যথেষ্ট।
এখন এমনটা বলছি না যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পুরোটাই সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল, এবং এও বলছি না যে এই দীর্ঘ সংকট চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীতে কোন ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু শুধু এতেই বিনা অপরাধে যেসব আদিবাসীর উপর নির্যাতন, কোন কোন ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছিল ও ঘটছে - সেগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। সেগুলো এতটাই প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে যে বর্তমান সরকারও সেনাবাহিনীর এসব অপকর্ম আর অস্বীকার করতে পারছে না। এদিকে আবার সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য আদিবাসীদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত - তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে না নেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘেও আলোচনা চলছে। সুতরাং পুরো সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে গিয়ে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসীদেরই একেবারে অস্বীকার করে বসল, যাতে আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের প্রশ্নটাই যেন ভবিষ্যতে আর না ওঠে।
এখন মনে কিছু প্রশ্ন জাগে, জাতিসংঘও যদি কোনদিন পরবর্তীতে আলোচনাসাপেক্ষে এদেশে আদিবাসী হওয়ার ক্ষেত্রে যে সংজ্ঞা প্রযোজ্য ও প্রচলিত - তার পরিবর্তে সরকারের নিজস্ব বানানো সংজ্ঞানুযায়ী কোনভাবে মেনেও নেয় যে সত্যিই এদেশে কোন আদিবাসী নেই, কিন্তু তার সাথে এমন শর্তও জুড়ে দেয় যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী'গুলোর সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যরা শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে না, তখন কি সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধেরও নতুন কোন সুবিধাজনক সংজ্ঞা পয়দা করবে; নাকি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর যারা অন্তর্ভুক্ত, তাদেরকে মানুষ হিসেবেই অস্বীকার করবে?! তারা যদি মানুষই না হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর সেই অভিযুক্ত বর্বর সদস্যরা নিশ্চয় মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ করে নি!!!
বি.দ্র. যার বক্তব্যের জের ধরে সবখানে এত ক্যাঁচাল বাধলো, সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি নিজেও ভালই বোঝেন-জানেন এদেশে আদিবাসী বলতে কাদের বোঝানো হয়, কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। যারা এদের রাজ়নৈতিক ভোল বদলানো বক্তব্যকেই পরম সত্য ধরে নিয়ে লাফালাফি করছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও 'আদিবাসী' দাবিতে দেশবিভক্তির ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছেন, তাদের জন্য স্প্যাশাল মুড়ি
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


