বাংলাদেশের ভ্যাম্পায়ার বলছি..............
আমরা বাংলাদেশের ভ্যাম্পায়ার।
ছোটবেলায় যখন কচি মনে পড়তে গিয়েছিলাম "আমার জীবনের লক্ষ্য" রচনাটি; তখন বেশিরভাগ রচনার বইতেই দেখেছিলাম তারা "ডাক্তার" হইতে চেয়েছিলেন আর ইহা হওয়ার কারণও বহুভাবে লিখেছিলেন। ছোটবেলায় মনে হয়েছিল ডাক্তার পেশাটি অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা।
এরপর জীবন চলতে লাগল। এস,এস,সি আর এইচ,এস,সি র গন্ডি পেরিয়ে গেলাম। আর আশ্চর্যের সাথে দেখতে পেলাম সরকারী মেডিকেল কলেজেও চান্স পেয়ে গেছি। তারপর পড়ে গেলাম মহাসমুদ্রে। চারিদিকে বই আর বই এবং সাথে কলুর বলদের মতো পড়াশোনা।
দেখতে দেখতে কোন রকমে সবগুলো কঠিন কঠিন প্রফ পাড় করলাম কোন মতে। কিন্তু পাড় করে কি দেখলাম?????
ডাক্তার না হয়ে, হয়ে গেছি ভ্যাম্পায়ার।
বর্তমানে আমরাই নাকি বাংলাদেশের সকল গরীব মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছি।
আমরাই নাকি রোগীদের জোর করে মেরে ফেলছি।
মিজানুর রহমান নামক এক গরীবের বন্ধু সকল ডাক্তারকে "গরীবের রক্তচোষা" বললেন পাবলিক মিডিয়ার সামনে........ আমরা কোন বড় প্রফেসর অথবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারও কাছ থেকেই পেলাম না কোন প্রতিবাদ। কোথায় গেল ডাক্তারদের আত্ম-সম্মান বোধ, অপমান বোধ?????
(কিছুদিন পর হয়ত শোনা যাবে দেশের শেয়ার কেলেংকারীর জন্যও ডাক্তারাই দায়ী।
হয়ত হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান কোন ভুল করলেন। দোষ কার??? ডাক্তারের।
নার্স ডিউটিতে আসেন নি। দোষ কার???? ডাক্তারের।
হাসপাতাল অপরিষ্কার। দোষ কার???? ডাক্তারের।
ল্যাবে পড়ে আছে সূচ খোলা অবস্থায়। দোষ কার??? অবশ্যই ডাক্তারের।
ডাক্তারের চেম্বারে বিশাল রোগীর লাইন। দোষ কার??? ডাক্তারের তো অবশ্যই। কে বলেছে তাকে এত রোগী দেখতে।
রোগ নির্ণয়ের সুবিধার জন্য ল্যাব পরীক্ষা দেওয়া। দোষ কার??? ডাক্তারের।
আসুন ডাক্তারদের আরও দোষারোপ করি। কারণ উহারা যত যাই বলুন কিছুই বলবেন না। উহারা গন্ডার হইয়া গিয়েছেন। তাদের গায়ে এখন গন্ডারের চামড়া। অর্থাৎ, বর্তমানে তারা ভ্যাম্পায়ার-গন্ডার হইয়া গিয়াছে।
বলুন, ডাক্তারদের আপনাদের যা খুশি। দেশে যাই ঘটুক, সকল দোষ আমাদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

