somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলতে পথে

১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের জীবনটা নাকি একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন শুধু। কথাটা পুরপুরি বিশ্বাষ হয় না আমার। সব অনিশ্চিয়তার মাঝেও তো মানুষের জীবনে কিছু স্বাভাবিক সত্য আছে। মানুষ জন্মে । কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন, বার্ধক্য মৃত্যু এসব তো সব মানুষের জীবনেই সমান। তাহলে জীবনটা শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন হতে যাবে কেন? তবুও অদৃষ্ট বলে একটা কথা সবসময় থেকেই যায়। আমাদের জীবনে আগামীকাল ঘটবে সেটা আমরা জানি না। এই সব অদৃষ্টের মাঝেই পথ চলতে গিয়ে একজন মানুষ সান্যিধ্য আসে অনেক মানুষের । তাদের কেউ কেউ বন্ধু হয়। জীবনের সাথে জড়িয়ে যায় তারা।
আমার বন্ধু সানি। যার সাথে আমার পরিচয় ফেইসবুকে। আমারই সমবয়েসী। পরিচয়ের এক পর্যায়ে জানা গেল তার ও জন্ম রাজশাহীতে। আর একটু ঘনিষ্ট হওয়ার পর জানা গেল লতায় পাতায় সে আমার আত্মীয়। দিনে দিনে আমার বন্ধুটি আমার জন্যে অপরিহার্য হয়ে উঠছিল। তখন সবে মাত্র আমার ভার্সিটির এডমিশন টেষ্ট শেষ হয়েছে। হাতে অজস্র অবসর। রেজাল্ট আর ভর্তির জন্য অপেক্ষা। তার দশাও তথৈবচ। কলেজ জীবনের বন্ধুরাও দূরের হয়ে গেছে। কারো কারো সাথে যোগাযোগ থাকলেও সম্পর্কটা আগের মত উষ্ষ নেই। আসলে দূরত্ব মনের দূরত্বকে ও বাড়িয়ে দেয়। সেই সময়ে আমার মনের শূন্যতার সবটুকুই মুছে দিল সানি। সারাদিন বসে আড্ডা মারতাম দুজনে। এমন ও হয়েছে টানা ষোল-সতের ঘন্টা ইয়াহু ম্যাসেন্জারে বসে তার সাথে আড্ডা দিয়েছি। মনের সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি হত। অদল বদল করতাম দুজনের অনুভূতি গুলো। সানি কবিতা লিখত। ভালবাসত কবিতাকে । কবিতা আমারো প্রচণ্ড পছন্দের বিষয়। সমস্যায় পড়লে সর্বপ্রথমেই দারস্থ হতাম তার। ভাবতাম, একটা মানুষকে দেখিনি অথচ কতইনা জড়িয়ে গেছে জীবনের সাথে। কি অদ্ভুদ! নিজেকে আমি যতটুকু বুঝি না তার চেয়েও বেশী বুঝি সানির ভেতারটাকে । বন্ধু হিসেবে সানি ছিল স্বাতন্ত্র। মনের মাঝে কোন লুকচুরি নেই। কোন কুটিলতা নেই। অদ্ভুদ খোলামেলা।
এর মাঝে আমার ভার্সিটির ক্লাস শুরু হল। স্বপ্নের ভার্সিটি, বর্ণিল জীবন। প্রতিদিনের নানা অভিজ্ঞতা, ঘটনাগুলো সানি কে বলতে না পারলে আমার সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ই যেন অপূরণ রয়ে গেল। ভার্সিটিতে অনেক নতুন বন্ধু পেলেও সানির গুরুত্ব আমার জীবনে একটুও কমেনি। এরই মাঝে এক সকালে সানির ফোন পেয়ে অবাক হলাম। ফোন ধরার পর চমকের পর চমক। সে নাকি আমার ভার্সিটিতে এসে বসে আছে, আমি যেন তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে গিয়ে হাজির হই। আনন্দে আর চমকে আমি দিশেহারা। ভার্সিটিতে গিয়ে ষ্টেশনের বাইরে বেরুতেই সানির ডাক। আমি বেশ অবাক হলাম আমাকে চিনল কি করে। ফেইসবুকে শুধু ছবি দেখে মানুষকে দূর থেকে চেনা সম্ভব? সানি তার পুরো পরিবার সমেত চত্বরে দাঁড়িয়ে। আমি তার বাব-মাকে সালাম দিলাম। সানি তার ছোট ভাই-বোনদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। কোকরা চুল ওয়ালা মাঝারি গড়নের একটা মেয়ে। তাদের নিয়ে সারা ভার্সিটি ঘুরলাম। আসার পথে নামল ঝুম ঝুম বৃষ্টি। সবাই ভিজলাম একসাথে। আমার নিজেকে পৃথিবীর সবচে সূখী মানুষ মনে হচ্ছিল তখন।
সানির সাথে আমার চলছিল বেশ। তবুও একটা রাতের ঘটনায় সানির সাথে আমার সম্পর্কটা পাল্টে গেল। সানি আমার কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশী কিছু চেয়েছিল। গেল। প্রেম ভালবাসার প্রতি বিশ্বাষ আমার কখনোই ছিল না। আমার দৃঢ় বিশ্বাষ ছিল প্রেমের সম্পর্কের চেয়েও বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেক দীর্ঘস্থায়ী। আমার চারপাশের পরিবেশই আমার মাঝে এমন বদ্ধ ধারণা সৃষ্টি করেছিল। জানতাম, গুণাগুণের দৃষ্টিকোণে সানি আমার চেয়ে অনেক উপরে। তবুও সানিকে আমি শুধু নিখাদ বন্ধু হিসেবে দেখেছি। ছেলে কিংবা মেয়ে সেটা কখনো ফরক করি নি। সানি আমার এমন বন্ধু যাকে আমি কখনোই হারাতে চাই নি। অথচ সানি আমাকে বুঝল না। আমাদের সম্পর্কটা ঠান্ডা হতে শুরু করল। সানিকে আমি ফেরতে চেয়েছি অনেক। পারিনি। জীবনে এই প্রথম নিজেকে বন্ধু হিসেবে ব্যর্থ মনে হল।
সানির চলে যাওয়া আমার জীবনে রাঘব প্রভাব ফেলে গেল। মানুষের বন্ধুত্ব কি এতই টুনকু? এতদিনের সম্পর্ক কি নিমেষেই শেষ করা যায়? বন্ধুত্ব শব্দের প্রতি আমার যে নিবিষ্টতা তা শেষ হয়ে গেছে। অনেকের সাথেই চলাফেরা করি, অথচ অর্থহীন মনে হয়। আমার অভিধানে বন্ধুত্ব শব্দের অস্তিত্ব নেই। নিজেই নিজের মত চলার চেষ্টা করি। একলা পথ চলতে শিখি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×