somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ও কেনো এতো সুন্দরী হোলো -- জানেন কেনো ? আসুন শোনা যাক কিছু গান আর কিছু কথা ও কাহিনী

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





বেশ জমজমাটি শীত পড়েছে এবার । আর আমাকে একটু বেশী করেই জানান দিয়েছে তার উপস্থিতি । অবশ্যই কবিতা শোনানোর জন্য নয় । জ্বর কাশিতে নাজেহাল করার জন্য । তবুও শীত মানেই নস্টলজিয়া । দিদিমার দেওয়া সোযেটারে হাত দিয়ে তাঁর আদরের ওম পাওয়ার দিন ।পুরোনোকে ছোঁয়ার দিন ।এই সর্দি-জ্বরের কাহিল অবস্থায় আমিও পুরানো গান শুনছি দিনরাত । সেই সাথে এসব গানের পিছনের কিছু গল্পও শুনলাম । তারই কিছু আপনাদের সাথে শেয়ার করার ইচ্ছে হোলো ।





ললিতা গো ওকে আজ চলে যেতে বল না


এক ঘরোয়া আসরে মান্না দে ভজন গাইছিলেন ঘুংঘট কে পট খোল রে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিতাঁকে গানটি আবার গাইবার জন্য অনুরোধ জানালেন। মান্না দে গাইলেনও । তারপর পুলকবাবু সেখানেই একজনের কাছ থেকে খাতা জোগাড় করে কী যেন লিখতে শুরু করলেন। সেদিন তিনি লিখেছিলেন। আর তাতে সুর দিয়ে গেয়েছিলেন মান্না দে ।





ও শাম কুচ অজীব থি


হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হারমোনিয়াম নিয়ে অলস ভাবে বসে আছেন। সামনে কবি গুলজার।হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন ' কিছু বলো। আমার যে কিছুই আসছে নাহ। ' একটু পরেই গুলজার বলে উঠেছিলেন ও শাম কুচ .......
এভাবেই গানের মুখরা লেখা হয়েছিল । বাকিটা তিনি পরে লিখেছিলেন। তবে সেদিনই এই পুরো সুরটা তৈরী করেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । আর সেই সুর অনুযায়ী কথা লিখতে হয়েছিল গুলজারকে।






চৌদভিঁ কা চাঁদ হো


এই গানের কম্পোজার ছিলেন রভি । একবার তিনি রাতের বেলা বাড়ি ফিরছিলেন। তখন গাড়িতে বসে ভাবলেন এখন তো মুভিতে টাইটেল সং হচ্ছে ( সে সময়ে টাইটেল সং এর চল ছিল )এই ফিল্মেরও টাইটেল দিয়ে একটা গান শুরু করলে কেমন হয়! যেমন ভাবা তেমনি কাজ। মাথায় সুর খেলে গেলো তাঁর। বাড়িতে এসেই শাকিল সাহাবকে ফোন করে ওনার বাড়ি আসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। শাকিল সাহেব আসতেই বললেন সব কথা। তারপর চৌদভিঁ কা চাঁদ হো
- এইটুকুর সুর শোনালেন। এবার রভি বললেন এই দিয়ে তুমি কী কিছু লিখতে পারো? শাকিল সাহেব মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে বললেন ইয়া আফতাব হো। সাথে সাথে সুর হোলো। এর পরেই তিনি বলে উঠলেন যো ভি হো খুদা কি কসম লা জবাব হো।
এভাবেই মাত্র পাঁচ, সাত মিনিটের এই সুবিখ্যাত গানটি তৈরী হয়ে গিয়েছিল।







ও কেনো এতো সুন্দরী হোলো


একবার পূজো এসে যাচ্ছে, তবু পুলক বাবু কিছুতেই আর গান লিখে উঠতে পারছেন নাহ।একদিন তিনি এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছেন। সাথে মান্না দে। কিন্তু বিপত্তি। বাড়ি চিনতে পারছেন নাহ। একজায়গায় গাড়িতে বসিয়ে তিনি একটা বাড়িতে খোঁজ করতে গেলেন। তারপর মান্না দে তাঁকে হাসতে হাসতে ফিরে আসতে দেখে ভাবলেন ' যাক বাড়ি পাওয়া গেলো '। কিন্তু নাহ। তিনি এসে বললেন যে তিনি পুজোর গান পেয়ে গেছেন। গান লেখা হয়ে গেছে। মান্না দে হতবাক হয়ে বললেন ' আমি তো এখান থেকে দেখলাম তুমি বাড়িটাতে গিয়ে বেল বাজালে। একজন মহিলার সাথে কী কথা বললে, তারপর চলে আসলে! এরমধ্য গানটা লিখলে কখন? '
এবারে পুলক বন্দোপাধ্যায় হেসে বললেন যে ওই ভদ্রমহিলা দরজা খুলে বলেছিলেন যে ওটা ভুল বাড়ি।তবে উনি খুব সুন্দরী। আর সাথে সাথে আরও একটা কথা যোগ করলেন। আমি তো মানুষ।তারপরই ও কেনো এতো সুন্দরী হোলো ...
এভাবেই লেখা হয়েছিল এই বিখ্যাত গানটা । তবে এটা জানা নেই যে ঐ ভদ্রমহিলা এই গানের পিছনের কাহিনীটা জানতেন কিনা!

তথ্যসূত্র - গুগুল , রেডিয়ো , গাতা রহে মেরা দিল
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪৭
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×