somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি গন্ধে আপনি হারা

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন ক'জন বন্ধু মিলে একটা ক্যাফেতে খেতে গিয়েছি । বন্ধুদের মধ্যে দুজন আমেরিকান,আমরা তিনজন বাঙালী । কথায় কথায় স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার প্রসঙ্গ উঠল । আমি বললাম - বাংলাদেশের মানুষ স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখতে পছন্দ করে । প্রধাণত: ফুটবল আর ক্রিকেট । একজন আমেরিকান প্রশ্ন করল - ক্রিকেট তো সারাদিনের খেলা,দর্শকরা এই এতটা সময় শুধুই খেলা দেখে,তারা বোরড্ হয়না ? আনন্দ করার অন্যতম উপাদান হলো ড্রিংক করা । আমেরিকায় দর্শকরা ওয়াইনের বোতল ছাড়া স্টেডিয়ামে যাবার কথা চিন্তাই করতে পারে না । অন্তত: কয়েক ক্যান ্ বিয়ার, তা না হলে তাদের আনন্দ পূর্ণ হয় না । যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ ড্রিংক করে না, এতটা সময় তারা কি করে ?

মেজাজ খারাপ করে দেবার মত প্রশ্ন । আমার বলতে ইচ্ছা হল - মাথা মোটা উজবুক, ড্রিংক করা ছাড়া পৃথিবীতে সময় কাটানোর বা আনন্দ করার আর কি কিছুই নেই ? আমি শুধু বললাম - দেখো, আমরা এভাবেই অর্থাৎ ড্রিংক করা ছাড়াই বড় হয়েছি । সময় কাটানো বা আনন্দ করবার জন্য আমাদের ড্রিংক করার দরকার হয় না । আমাদের জন্য এটাই স্বাভাবিক ।
রুঢ় শোনাল কি-না জানি না ।

অন্য জন এবার প্রশ্ন করল - উইকএন্ডে তুমি কি করো বা অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যায় ?
আমি বলতে চাইলাম - ছুটির দিনে অনেক দেরী করে ঘুম থেকে উঠি, তারপর সবাই মিলে গল্প করতে করতে নাশ্তা করি, এরপর আমার ঘরের জানালা দিয়ে সকালের যে একটুকরো রোদ আমার বিছানায় এসে পরে, বসে বসে সেটা গায়ে মাখি, ঐ মিষ্টি রোদটার মধ্যে বসে পেপার পড়ি, একটু গান শুনি, ভেতরটা শান্তিতে আর আনন্দে ভরে ওঠে ..... - এসব বললে ওরা তো কিছুই বুঝবে না, হাঁ করে তাকিয়ে থাকবে । যদি বলি - সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেকের পাড়ে গিয়ে একটু বসি, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গরম গরম পিঠা খাই , সুযোগ পেলে ম ঞ্চ নাটক দেখি, গ্যালারিতে গিয়ে ছবি দেখি কিংবা এমনি এমনিই রিক্সা দিয়ে ঘুরি, এতেই তো মনটা ভরে যায় ..... এসব ওরা কিছুই বুঝবে না ।

এসব ভাবি আর ওদের জন্য আমার একটু একটু করুণা হতে থাকে । ওদের আনন্দ করার, আনন্দ পাওয়ার বিষয় গুলো বড়ই উচ্চকিত, সব কিছুই ওরা বোধহয় খুব প্রবল ভাবে পেতে চায় । আত্মমগ্নতা, সি্নগ্ধতাকে ওরা কিভাবে বিশ্লেষণ করে, কে জানে !

আচ্ছা, ওদের ওরকম ভেবে কি লাভ, আমাদের মধ্যেই তো অনেকে আমাদের এই রকম জীবন থেকে আনন্দটুকু খুঁজে নিতে জানে না, হয়তোবা পারেও না ।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানির ক্যানভাসে ডুবন্ত শহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



প্রতিবেদক: আশরাফুল ইসলাম
স্থান: প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম
সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট


ক্যামেরার লাল বাতিটা জ্বলছে। লেন্সের ওপর বৃষ্টির ছোট ছোট কণাগুলো অবাধ্য হয়ে জমছে। আমি মাইক্রোফোনটা শক্ত করে ধরে লেন্সের দিকে তাকালাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×