আমার হৃদয়ে সুখ ছিল,
কখনো কখনো কিছু কষ্ট
ধূমপানের উদ্দেশ্যে আদর্শ হয়ে উঠত,
তাতে পাত্তা দিতাম না।
তবে ধূমপান কিন্তু চালিয়ে নিতাম
এর ব্যাতিক্রম ঘটত না,
প্রিয়তমার বিশ্বাসে তবু সুখি হয়ে উঠতাম।
শিক্ষকতা পেশাটিতে আমার মুখ ম্লান দেখাত
তবে কখনোই কিছু চাওয়ার ছিল না,
নিজ পরিবার আর দেশের জন্যেও ভাবতাম
সেই ভাবনার কোন সঠিক শেষ ছিল না।
লোকেরা বলত আরে ও মাষ্টার,
ছেলে-মেয়ে বড় হচ্ছে যে এখন
তাদের পেছনে কিছু সময় না দিলে হবে?
আমার সাথে তাদের গল্প হত,
গল্প করে তারা চলে যেত।
মাঝে মাঝে সন্ধ্যা শেষে বাড়িতে ফিরলে
ওদের মা কিছু একটা আমায়
সন্তানদের উদ্দেশ্যে করতে বলত,
তার চাওয়া ছিল ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ ভাল হোক।
এসব নিয়ে অনেক কথা চলত তখন।
আজ দীর্ঘ দিন হল ওদের মা মারা গেছে
দিনে দিনে ছেলে মেয়েরাও অনেক বড় হয়েছে,
তবে ওদেরকে সুখি মনে হয় না আগের মত
বেদনায় ম্লান মনে হয়।
ছেলেটা কাদের জন্য যেন কষ্ট পায়!
আমরা তো কখনোই বুঝতে দেইনি কিছু
তবু কেন বুঝে যায় সে বোঝা যায় না।
হয়ত এটি একটি অপ্রাপ্তির কষ্ট।
এই অপ্রাপ্তির কষ্টে তার মনে হয়
এই হয়তো বা তাঁর জন্য অভিশাপ,
কিন্তু তার প্রতি এটি অভিশাপ না কি আশীর্বাদ
তা তো বলার সময় এই বেলা নয়।
মেয়েটিও আর ঠিক আগের মত আদরে নেই,
অভিমান কোরে মাঝে মাঝেই দেখি কথা বলে না।
ওর মা এমন করে অভিমান করত অনেক,
আমার ভাবনা গুলো তখন বেশ আবেগধর্মী ছিল।।
এখনো আমার মনে পড়ে -
সেই আগেকার কথা গুলো।
প্রেয়সীর ভাষা অবেগকেন্দ্রিক ছিল না তখন,
তাঁর বড় হয়ে উঠা নিয়ে বলতে বলতে
স্পষ্ট রকমের বেদনায় ভেঙে পড়ত সে।
সেই কষ্ট কিংবা বেদনার কারণ তখন বুঝতাম না তেমন।
তবে আজ তাঁর অনেকটা আঁচ করতে পারছি,
সুখি মানুষ হবার পথে বোধ হয় বাঁধা ছিল তাঁর।।
আজকে ভাবতে ভাবতে যখন
মেয়ের নিকটে এসে বললাম,
বল তো কিভাবে তুই সুখি হবি?
তখন জবাব দিল জানে না সে।
এই শুনে তখন আমরা-
দুজনেই বেশ হাসলাম কিছুক্ষণ।
সত্যিই আজকে যেন অবুঝ আমরা সকলেই,
কিভাবে সুখি হতে হয় জীবনে
কেউই তা আমরা জানিনে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




