রাত গভীরের ক্লান্তি প্রেমীকের চেতনাকে এখন জরিয়ে ধরছে বার বার। আগ্রহ তাঁর পড়ে আছে খেলা দেখার মধ্যে। মিষ্টি একটা গন্ধে ভড়ে আছে তার রুম।আর্জেন্টিনার সাপোর্টার বলে বন্ধুরা কেউ আজ সঙ্গ দেয়নি তাকে। ঘুমু ঘুমু একটা ভাব নিয়ে হয়ত একাই সে খেলা দেখছে।
চোখ দিয়ে কান্নার রং গড়িয়ে পড়ছে আমার। হৃদয়ের ভালবাসা কান্না হয়ে যাচ্ছে বার বার। স্মৃতির গভীরে হয়ত নতুন করে কিছু একটা ঢুকে গেছে এখনি। আর সেটা আমাদের দূরত্বের মাঝে আরো বেশি দূরত্ব সৃষ্টি করে দিয়েছে। ভালবাসার অনুভবে আঘাতের ব্যাপকতা যেন নিষ্ঠুর নির্যাতনে রূপ নিয়েছে। আমার মাথা নেশাগ্রস্থের মত ঘুরছে। কঠিন জীবনের উপর আমার অভিজ্ঞতা বেড়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।
কয়েকটি বেলি ফুল রেখে এসেছিলাম ওর বিছানার পাশে। দু'একটা বই আর ডায়েরীও ছিল ওখানে। এখন খেলা দেখার সময় ফুলের গন্ধ নিশ্চয় অবাক করে দিয়েছে ওকে। ঈদের দিন ব্যস্ততার জন্য যেতে পারিনি কোথাও। কাজের কথা বলতে গেলে কিছুই করিনি। সব কিছু আম্মুই করেছে, কিন্তু তবুও মনে হয়েছে আমি ব্যস্ত আছি ভীষণ!
ঈদের দিনের বিকেলটা ভেজা ভেজা ছিল। রোদের ছায়া ছিল না বাগানের পাশে। হালকা বাতাসে একাকীত্বের মায়া যেন আদরের মত ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আমার অনেক প্রাপ্তি, অনেক না বলা কথা ভেতরে ভেতরে অসহায় বন্দিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিল। কিন্তু সন্ধ্যা এবং রাত এসে প্রতিদিনের মতই সবকিছু সাধারণ করে দিল। আমার জীবনের অসাধারণ একটি দিন আর পেতে দিল না।
আজ খেলায় যদি আর্জেন্টিনা জয় পায় নিশ্চয় ওর অনেক ভাল লাগবে। কারণ ফেসবুকে দেখলাম বন্ধুরা ওকে অনেক জ্বালিয়েছে।
আমার খুব একটা ভাল লাগছে না, এখনি অফলাইন হয়ে যাচ্ছি আমি। অগোছালো জীবনটা ভারী হয়ে উঠেছে খুব। দায়িত্বের বোঝা ক্লান্ত করে দিয়েছে আমাকে। অথচ কোন বাস্তবতা নেই এসবের। চিন্তা করতে করতে হতাশা গ্রাস করে নিচ্ছে। তবু হতশার মাঝেই ঘুমানোর একটা প্রস্তুতি নিচ্ছি আমি। ঘুম ছাড়া নিঃসঙ্গতা দূর করার আর কিছুই নেই আমার। তাই ঘুমাতে যাচ্ছি দারুণ একটা ঘুমের প্রত্যাশায়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




