somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ মোবারক,২০২৩।

০১ লা জুলাই, ২০২৩ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ঈদ মোবারক'২০২৩।



সকল ব্লগারকে জানাই ঈদুল আজহার ঈদ মোবারক ২০২৩।



আজ (২৯শে জুন) ঈদের সকালের ঘটনা নিয়ে আজকের লেখা
রাত থেকেই ঝুম বৃষ্টি, সকাল ৬.৩০ মি: এ নামাজে যাবার কথা কিন্ত কিভাবে যাব!
৭.০০ টায় নামাজ যখন ৬.৪০ মি: আর অপেক্ষা না করে বেরিয়ে পড়লাম।


তখনও ভাবিনি কি দুর্ভোগ সামনে আছে । রাস্তায় এসে দেখি গাড়ী চলছে না , লোকজন অত্যন্ত ধীর গতিতে হাঁটছে ।

মসজিদ এখান থেকে ২ ব্লক দুরে তারপরও মনে হচ্ছিল নামাজ বোধহয় পাবোনা ।
রাস্তায় প্রচুর বৃষ্টির পানি হাঁটুর নীচ পর্ষন্ত ডুবে যাচ্ছে ।পানিতে প্রচুর ময়লা , পলিথিন আর খড়কুটা ।
এমন ময়লা পানি দিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি, বাসা থেকে গোসল অজু করে ফ্রেশ হয়ে নামাজে যাচ্ছি কিন্ত
এমন ময়লা পানি দিয়ে গিয়ে নামাজের প্রস্তুতির শুদ্ধতা থাকবে কি ???



মসজিদের কাছে এসে আরও হতাশ, মসজিদের সামনে প্রচন্ড জট আর পানির গভীরতা বেশি ।
অনেক কষ্টে প্রবেশ করে অবাক, এখানে ও প্রায় ৫/৬ ইন্চি পানি । বাহিরের অজুখানা ডুবে আছে , এখন কি করব ?
কিছু লোক দেখলাম সরাসরি মসজিদে প্রবেশ করছে, এভাবেই কি তারা নামাজ পড়বে ? খুঁজে পেলাম মসজিদের মাঝেও
একটি অজুখানা আছে, সেখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ৩য় তলায় নামাজের জন্য গেলাম ।
অন্য সময়ে এই মসজিদে নামাজ পড়ার এতটুকু স্হান পেতে যুদ্ধ করতে হয় একবার তো সিড়িঁতে নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছিলাম ।
ফ্লোরে মাত্র আমরা ৫/৬ জন, ১৫০০ জন ধারন ক্ষমতা প্রতি তলায়, এখানে সবাই গাড়ী নিয়ে আসে নামাজে
তাহলে কোথায় গেল এত মুসল্লী ? ঠিক ৭টায় নামাজ শুরু হলো এলাকার প্রায় ৫০০০ মুসল্লী এবার নামাজ পড়ার সুযোগ
পেল না যা অত্যন্ত দুঃখজনক ।
নামাজ শেষে একটু অপেক্ষা করতে চাইলাম যেন পানি কমে যায় এবং বৃষ্টি থেমে আসে, কিন্ত কোনটাই হচ্ছে না বিধায় অন্য মুসল্লিদের মত পানি ঠেলে বাসার অভিমুখে রওনা হলাম ।

এবার দেখলাম মুসল্লিদের ক্ষোভ ঝরে পড়ছে । পাশ থেকে একজন বল্ল এ কেমন আবাসিক এলাকা ?
--- হবেনা বিরাট ডুব এলাকা ভরাট করে করা হয়েছে
--- তাতে কি ? এত অর্থ বিত্তর মালিক, খালি আবাসন এলাকায় প্লট বিক্রি করলেই কি দ্বায়িত্ব শেষ ?
--- আরে হবে না , পাপ করেছে পাপ, তার প্রায়শ্চিত্ত করছি আমরা ।
--- হতে পারে , শুনেছি যারা আদি বাসিন্দা ছিল তারা অনেকেই জমি দিতে চায়নি । তখন ছলেবলে নিয়েছে ।
--- আরে ভাই এখন কথা বলে কি হবে ? শুনে ছি তারা অনেক শক্তিশালী,ভয়ে কেউ কিছু বলে না।
--- তাই তো দেখলাম,আশপাশের কাউকে ব্যবসা করতে দিতে চায়না ,রাস্তা ঠিক না করে দেওয়াল তুলে ,আবার প্রবেশ পথ বন্ধ করে ।
--- ড্রেন ঠিক নাই , নিয়মিত পরিস্কার করেনা, দেখুন পানিতে কি ময়লা ও দুর্গন্ধ, পানি তো সরছেই না ।



এতকথা শুনতে শুনতে প্রায় অর্ধেক পথ চলে এসছি , এমন সময় গর্তে পড়ে পরেই যাচ্ছিলাম ।এই ময়লায় পড়ে গেলে
কিযে হতো জানি না । মনে হলো কথা গুলোর যথেষ্ট সত্যতা আছে ।
তবে একটা বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আবাসিক এলাকার প্লান তো আর্কিটেক্ট ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা করে থাকে তবে তাদের
স্বাধীনতা কতটুকু ছিল সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে । এ ধরনের আবাসিক এলাকার জন্য অনেকগুলি প্যারামিটার চিন্তায়
আনতে হয় :- যেমন .......
--আবাসিক এলাকায় কি পরিমান বাড়ী হবে ।
-- জনসংখ্যার চাপ কেমন হবে ।
-- পানি ,বিদ্যুৎসহ মৌলিক বিষয় গুলোর যোগান কিভাবে থাকবে ?
-- জনসাধারনের চলাচল কতটা সহজতর করা যাবে ।
-- পয়: ,পানি ও আর্বজনা নিষ্কাষন কতটা দ্রুত ও জামেলা বিহীন হবে ?
-- জন সাধারণের চাহিদার লক্ষ্যে রেখে বাজার, ঘাট, স্কুল কলেজ ,বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ।

আমার মনে হয় অনেক কিছুই এখানে করা হয় নাই ।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় ভবনের উচ্চতা কিহবে, প্লিন্থ লেভেল সকল ভবনের একই থাকবে এবং তা বেন্চমার্ক
অনুসারে হবে । এই আবাসিকে কোন প্রকার বেন্চমার্ক আছে বলে আমার জানা নেই । যা থেকে শহরের প্রধান সড়ক,
আবাসিক এলাকার রাস্তা, ভবনের প্লিন্থমার্ক, পয়: নিষ্কাষন লেভেল রাখাটা বাধ্যতামূলক থাকবে ।
এই আবাসিকে হয়েছে উল্টো ।
অনেক বাড়ীঘর হয়ে যাবার পর সম্প্রতি রাস্তা উচুঁ করা হয়েছে , ড্রেনের গভীরতা নেই , পানির চাপ সহ্য করার ।
এখন একটু বৃষ্টি হলেই পানি দ্রুত সরে না গিয়ে ব্লক গুলোর আভ্যন্তরীন রাস্তা সয়লাব করে সমস্ত পচাঁ গলা ড্রেনের ময়লা
জনসাধারনকে অসুস্হ করে তুলছে ।
পয়: নিষ্কাষনে মাষ্টার প্ল্যান ছিল না ,সরকারী রাস্তার সংস্কার ও প্রসস্হ নির্মান না হলে এতোদিনে মানুষের
কষ্ট অনেক বেড়ে যেতো ।
আমি ১০/১২টি দেশ ঘুরেছি কোথাও এধরনের অব্যবস্হা প্রত্যক্ষ করি নাই ।
এখানে শুধু আবাসন ব্যবসায়ির একমাত্র দ্বায়িত্ব নয় , সরকারের বিরাট ও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে ।

অতএব, ঘটনার প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতায় জনসাধারণ ভাবতেই পারে,
একজনের পাপে অন্য আবাসিকরা পাপের ফল ভোগ করবে,তা বর্তমান জামানার বাস্তবতা ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২৩ রাত ৩:৪৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিটেকটিভ, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার: মধ্য বৃত্ত

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৭


প্রফেসর সাজিদ এলাহী, বয়স সাতান্ন। ইংরেজি বিষয়ের প্রফেসর। লম্বা চওড়া শরীর, গায়ের রং হালকা তামাটে। প্রতিদিন সকালে উঠে এক ঘণ্টা করে হাঁটাহাঁটির কারণে এখনও শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট নয়। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোষ্ট প্রকাশের পর, আপনি কি কিছুক্ষণ সামুতে থাকেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫০



আমি পোষ্ট দেয়ার পর, বেশ কিছু সময় সামুতে থাকি; ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, আমি প্রায়ই পোষ্ট দিই না সামুতে। অবশ্য আজকাল, আমি আমার নিজের নিয়মও খুব একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত ইবাদত এবং হালুয়া রুটি খাওয়ার উৎসবের ঘনঘটা

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২২

BVNEWS24 ||



আলোকসজ্জা করা যাবে কি?
শবে বরাত রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আলোকসজ্জা করেছেন। এর মাধ্যমে একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়। এই উৎসব করা কিসের ভুল? উৎসব মাধ্যমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র লাইলাতুল বরাত রজনীতে মডারেট মুসলিম হওয়া উদাত্ত আহ্বান জানাই।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪


শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।

ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×