somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাশের মিছিলের উপরে বাংলাদেশ

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া , রুপসা থেকে পাথুরিয়াব্যাপী লাশের মিছিল চলছে । প্রতি মূহুর্তে লাশের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে । নতুন নতুল লাশ । কেউবা গুলি খাওয়া লাশ , আগুনে পোড়া লাশ , চিকিৎসার নামে হত্যা করা লাশ , জবেহ করে মেরে ফেলা লাশ , শ্বাস রোধে হত্যা করা লাশ , গুম করে মেরে ফেলা লাশ , রিমান্ডের নামে মেরে ফেলা লাশ , টর্চার সেলে মেরে ফেলা লাশ , ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা লাশ এবং আরও যে কত শ্রেনীল লাশ । শুধু লাশ আর লাশ । এভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে লাশে পরিপূর্ন হয়ে যাবে । গতকয়েক সপ্তাহ ধরে এত পরিমান সুস্থ মানুষ লাশে পরিনত হয়েছে যার প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখ করা সম্ভব নয় । মূহুর্তের ব্যাবধানে লাশ বেড়েই চলছে । লাশের বোঝা পরিবারের কাছে যতটুকুবচ কষ্টের তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি কষ্টের হয়ে গেছে রাষ্ট্রের কাছে । দেশ যেন এ বোঝা বইতে অক্ষম । কেন এত লাশ ? অতীতে তো এত লাশ ছিল না । তাহলে কেন লাশের মিছিল শুরু হল ? কে দায়ী এত মানুষ লাশ হওয়ার পিছনে ? কেইবা নিবে এত লাশের দায়ভার ? লাশের প্রতি আত্মীয় স্বজনের শোক প্রকাশের দূ:খে দেশের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে । যা দাবানল , সুনামির মত শক্তি নিয়ে যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে জীবিতকে লাশ করার জন্য দায়ীদের উপর । আঘাতটা হবে কোথায় ? কেউতো লাশর দায়ভার নিতে রাজি না । আপাত দৃষ্টিতে যাদের কারনে এত মানুষ লাশ হচ্ছে বলে মনে হয় , তারাও লাশের দায়ভার নিতে রাজি নয় । তাদের কারনে কেউ নাকি লাশ হচ্ছে না । তাদের একজন দাবী করছেনি , তিনি গনতন্ত্র রক্ষা করার জন্য স্থির আছেন আর অন্যজন দাবী করছেন তিনি গনতন্ত্র পূনুরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছেন । কার পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান করে লাশের মিছিলের পক্ষে বা বিপক্ষে বলব ? মানবতাবাদীরা কখনো লাশ চাইবেন না , দেশপ্রেমিকারা তো নয়ই । দেশে তো মানবতাবাদী এবং দেশপ্রেমিকের অভাব নেই তবে কেন এত লাশ ?

সরকারদলীয় নেত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন , লাশের ব্যাপারে তিনি দায়ী নন , বিরোধীদলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তই এর জন্য দায়ী । বিরোধীদলীয় নেত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন , সব কিছুর মূলে সরকারী দলীয় নেত্রী । তার খাম-খেয়ালীপনার জন্য আমাকে আন্দোলন করতে হচ্ছে । যার কারনে আমার দলের কর্মীরা শান্তিপূর্ন মিছিল এবং অবস্থান করার পরেও পুলিশ বাহীনি এবং সরকারী দলে ক্যাডাররা আমার দলের নেতা কর্মীদের হত্যা করছে । পুলিশ বাহীনিকে এর কৈফিয়ত দিতে বললে তারা বলে , আমাদের উপর উপরের নির্দেশ আছে । কিন্তু সে উপরটা যে কোন পর‌্যন্ত তা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় । সরকারীদলের নেতা কর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে আমাদের কি দোষ বলূন , আমাদের উপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে আর আমরা বসে বসে আঙুল চুষব সেটা তো হয় না । আমাদেরও তো একটা প্রেসটিজ আছে । আমরা সরকার দলীয় লোক । আন্দোলনকারীদের কাছে আন্দোলনে মাঠে নামার কারন জিজ্ঞাসা করলে তারা ইতিহাস শুনায় , আমাদের উপর কেউ কখনো অন্যায় অত্যাচার করলে আমরা তা মাথা পেতে নিতে রাজি না । আমাদের পূর্বসূরীরাও সেটা নেননি । দেখেননা তারা কিভাবে পাকিস্তানের সাথে মরনপণ যুদ্ধ করে সবুজ পতাকা ছিনিয়ে এনেছে । আমরা কখনো মাথা নোয়াবার জাতি নই । তাই তো আমাদের এক কবি বলেছেন “ সাবাস বাংলাদেশ , এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় ; জ্বলে-পুড়ে-মরে ছাড়খার , তবু মাথা নোয়াবার নয় । আন্দোলন কারীদের মুখের কথা শুনে তাদেরকেই সঠিক মনে হয়েছে । তবে সত্য কথা বলতে কি , আলাদা আলাদা ভাবে যখনই যার কথা শুনেছি তখনই তার কথা সত্য-সঠিক মনে হয় ।

উপায়ান্তর না দেখ লাশের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমরা মরতে গেলে কেন ? লাশ উত্তর দিল কেইবা মরতে চায় বলেন ? আপনারা যারা জীবিত আছেন তারা জীবনকে যতটা ভালবাসেন আমরাও তার চেয়ে জীবনকে কম ভালবাসতাম না । তবে বাংলাদেশে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে সেটা আওয়ামীলীগ বনাম বি এন পি এর মধ্যকার যুদ্ধ নয় । এ যুদ্ধ আওয়ামীলীগ বনাম গোটা দেশের , সত্য বনাম মিথ্যার । দেশকে রক্ষা করা তথা দেশের গনতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আমরা যদি এগিয়ে না আসি তাহলে দেশটাকে কে রক্ষা করবে বলুন ? তাদের পরিবারের পরিনতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন , পরিবারের দু:খ কষ্ট লাঘব করার জন্য বাবা মা আমাদের অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছে তাইতো অত্যন্ত দূ:খ হয় আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না । তবে এই ভেবে সান্ত্বনা পাচ্ছি যে আমরা পরিবারের উপর দেশের স্বার্থকে প্রধান্য দিতে পেরেছি । তবুও সকল কল্পকাহিনীর উর্ধ্বে উঠে বলতে চাই লাশ কোন অবস্থাতেই কাম্য নয় সুতরাং যাদের কারনে লাশের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে তাদের অবিলম্বে সামাজিক ভাবে বয়কট করা উচিত । সে যে দলের হোক , যে মতাদর্শের হোক ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×