somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমবিয়ের গল্প

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগে একজনকে আড়াই বছর ধরে চিনতাম। অনেক ঘুরাঘুরি করেছি অনেক বাদাম খেয়েছি তার সাথে বসে। সে আমাদের বাসায় আসতো আমিও তাদের বাসায় যেতাম। তারপর দুজন তিন মাস আগে পরে বিদেশে এসেও যাতায়াত ছিল। উইকেন্ডে দেখা হতো। উক ডে তেও মাঝেমাঝে হাজির হতো। তারপর মাস ছয় আগে থেকে লোকটাকে বিরক্ত লাগতে শুরু করে। এমন না যে সে খারাপ লোক। জাস্ট আমার বিরক্ত লাগতে শুরু করে।

ও হ্যা আড়াই বছরের পরিচয় থাকলেও আমরা কেউ কখনো কমিটমেন্ট জাতীয় কিছু করিনি। ঘুরাঘুরি করার জন্য কমিটমেন্ট করতে হবে এইসব আজকাল উঠে গেছে।

তারপর পাঁচ মাস আগে ওদের বাড়ি থেকে বিয়ের প্রস্তাব। এক বছর আগে এই প্রস্তাব এলে হয়তো লুফে নিতাম। কিন্তু সেদিন বললাম আমাকে সপ্তাহ খানেক সময় দিন ভাবতে। বিরক্তি কাটিয়ে এক সপ্তাহ চেষ্টা করলাম ওর পাশে নিজেকে ভাবতে। সপ্তাহ পার হতে মনে হলো হবে না। খামাখা সারাজীবনের জন্য একটা অসহ্য অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে। ছেলে তো আমার কথা শুনে কাহিল। দেখি চোখ থেকে জল টপ টপ করে কফির কাপে পড়ছে। সে নাকি কবে থেকে কী ভেবে বসে আছে ইত্যাদি। আমি বললাম এতদিনে একবারও এই কথাটা আমাকে না বলে কথা নাই বার্তা নাই বাড়ি থেকে প্রস্তাব পাঠাবা কেন? ও কিছু না বলে ছাদের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবে। আমি কোনরকম সিমপ‌্যাথি বোধ করি না। আমার মহা বিরক্ত লাগতে থাকে। এক সময় উঠে চলে আসি। আসার সময় কাউন্টারে বিল দিয়ে আসি।

এর তিন দিন পরে সে বিশাল একটা ইমেইল করলো। তার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের স্ক্রিনশট সহ। আমি নাকি সেদিন বিল দিয়ে তাকে এবং তার বংশকে অপমান করেছি ইত্যাদি। আপনারাই বলেন বিদেশে বসে এইসব ভাল্লাগে ? মেইলের জবাবে বললাম, বাড়ি বসে বেলের শরবত খাও আর ভবিষ্যতে আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করবা না।

এই হলো গত এক বছরের মধ্যে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা বড় ঘটনা। কে যেন জানতে চেয়েছিল। তাই বললাম।
১৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে আয়না আর প্রতিচ্ছবি রাখে না

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমাদের ভালোবাসা ছিল এক গোপন সন্ধ্যার মতো,
জোনাকিরা তখন শব্দহীন কবিতা হয়ে বসত সিঁথির পাশে,
হাত ধরলেই হৃদয় জেগে উঠত,
বুকের ভেতর গুনগুন করত অনন্ত প্রতিশ্রুতির গান।

তুমি তখন আমার দেহে নয়,
আমার সত্তার স্পর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×