প্রলুব্ধকরনে নারীরা আর অক্রিয় যৌনতার বস্তু হিসেবে বসে নেই , তারা নিজেরাই এখন পুরোদমে সক্রিয় প্রপঞ্চ , শক্তির প্রতীক। এখানে নারীদের এই প্রলুব্ধকারী শক্তির রূপটা যতনা শারীরিক তার চেয়েও মানসিক , যতোনা তেজস্বী তার চেয়েও বক্র এবং ধূর্ত। পুরাতন টেস্টামেন্টের বেথশেবা , ট্টয়ের হেলেন, চীনের সি সি এবং সর্বকালের শ্রেষ্ট সাইরেন মিসরের ক্লেওপাত্রার এমনি নারী ছিলেন । তারা আগুন জ্বালিয়েছেন, যে আগুনে প্যারিস , বাইবেলের কিং ডেভিড , রাজা ফু চাই এবং জুলিয়াস সীজাররা অনুগত দাসের মত শুধু ঝাপ দিয়েছেন।
আদিম শিকারি-সংগ্রাহক পরিবেশে জৈবিক তাড়না এবং নিজ ও সন্তান সন্ততির নিরাপত্তাই ছিল নারী-পুরুষের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু যার মৌলিক আকর্ষণ-যোজন নির্যাসটা এখন পর্যন্ত অটুট থাকলেও সামাজিক বিবর্তনে প্রেমের কার্যপ্রণালীতে অনেকগুলো গুনগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলোর পেছনে পুরুষের চেয়ে নারীর ভূমিকাটাই অগ্রগণ্য।
হাজার হাজার বছর আগে ক্ষমতা দখলের একমাত্র হাতিয়ার ছিল শারীরিক সহিংসতা । আর সেই ক্ষমতাকে অটুট রাখতে ব্যবহার করা হতো পাশবিক শক্তিমত্তা। রাজা বা সম্রাটদের সুক্ষ্মদর্শী হওয়ার দরকার পড়তো না। তাদের হতে হত নির্দয় নির্মম। অল্প সংখ্যক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকত সকল ক্ষমতা । এই রকম রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভুক্তভোগী ছিল – আর কেউ নয় , নারীরা। প্রতিযোগিতা করার মত অবস্থায় তারা ছিল না। পুরুষদের রাজনৈতিক , সামাজিক এমনকি বাসগৃহে কোন কিছু মানাতে বাধ্য করানোর মতো এমন কোন অস্ত্র নারীদের হাতে ছিলোনা ।
অপরদিকে পুরুষদের একটা দুর্বলতা অবশ্যই ছিল – চির-তৃপ্তিহীন যৌন আকাঙ্ক্ষা । একজন নারী ইচ্ছে করলেই পুরুষদের এই চির-তৃপ্তিহীন যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে খেলতে পারতো কিন্তু যখনই সে নিজেকে সমর্পন করতো নিয়ন্ত্রন পুনরায় চলে যেত পুরুষদের হাতে। যদি সে বাধা দিত , পুরুষেরা অন্য নারীর দিকে নজর দিতো অথবা শক্তি প্রয়োগের আশ্রয় নিত। নারীদের আসলে এই পরিস্হিতির সাথে মানিয়ে না নেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলো না। এরকম যৌনাবেদনময়ী ক্ষমতায় কি লাভ যখন তার স্হায়ীত্ব এত সংক্ষিপ্ত ?
কিছু নারী এ অবস্হা মানতে পারেননি । তারা ক্ষমতার জন্য ক্ষুধার্ত এবং অত্যন্ত মেধাবী। এই নারীরা প্রলুব্ধকরনকে পরিনত করেছেন সফস্টিকেটেড শিল্পে যাকে তুলনা করা যায় শক্তি এবং প্ররোচনার সর্বোচ্চ শিখর হিসেবে । তারা জানেন কি করে প্রথমে পুরুষদের মনস্তত্ব নিয়ে কাজ করতে হয় , তার ফ্যান্টাসীকে সিমুউলেইট করতে হয় , একজন পুরুষকে আরও বেশী চাইতে বাধ্য করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত আশা আর নিরাশার নকশায় বন্দী করতে হয়।
জন্ম হোল কর্পোরেট ভালোবাসা ।
বিঃদ্রঃ যদিও লেখাটা সংগৃহীত তবুও ভাবনার খোরাক যোগায় বৈকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


