আমি আমার বাবা মায়ের কাছ থেকে যে অজস্র জিনিস শিখেছি, তার মধ্যে একটা হল কৃতজ্ঞতা বোধ । এই কৃতজ্ঞতা যে শুধু বাবা মায়ের প্রতি তা নয়; আমার কৃতজ্ঞতা বোধের ব্যাপ্তি বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি কৃতজ্ঞ স্রস্টার প্রতি, আমাকে এত সুন্দর পরিবারে জন্ম নেওয়ার সৌভাগ্য দেয়ার জন্য। আরও কৃতজ্ঞ, বৈবাহিক সূত্রে আর একটা চমৎকার পরিবার আমাকে উপহার দেয়ার জন্য। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ, আমাকে একেবারে আমার , একান্তই আমাদের একটা পরিবার শুরু করার সুযোগ দেয়ার জন্য। আমি কৃতজ্ঞ যে স্রস্টা আমাকে অদ্ভুত সুন্দর মনের কিছু মানুষকে বন্ধু হিসাবে পাওয়ার সৌভাগ্য দিয়েছেন। দিয়েছেন সৎভাবে , সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ , শিক্ষার সুযোগ, মাথার উপর নিশ্চিত আশ্রয়, তিনবেলা ভাল মন্দ খেয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ, সুস্থ বিনোদনের সুযোগ, চমৎকার একটা পরিবেশে দারুন কিছু সহকর্মীর সাথে কাজ করার সুযোগ। আমার কত সৌভাগ্য যে প্রতিদিন দ্বিধাহীন বেঁচে আছি এই পৃথিবীর আলো, হাওয়া, মাটি –জলের সান্নিধ্যে। আমাদের বাসায় প্রতি সকালে যখন এক গাদা চড়ুই আর শালিখ আমাদের দেয়া চাল খেতে/খুঁজতে আসে আর কিচির মিচির শব্দে আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়, তখন বারান্দায় গিয়ে আমাদের টবের গাছগুলোকে দেখি আর মনে মনে ভাবি, এই অদ্ভুত সুন্দর জীবন আমাদের! আমাদের!
আমাদের বেশির ভাগেরই সমস্যা হচ্ছে, আমরা সব কিছুই take for granted ধরে নেই। যা কিছুই পাইনা কেন,আমরা তা প্রাপ্য বলেই ধরে নেই। আমাদের উপলদ্ধিতে কৃতজ্ঞতা বোধ ব্যাপারটাই বোধ হয় একটু কম।এটা কম বেশি সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আর এ জন্যই বোধ হয় আমাদের হাহাকারের সীমা নেই, হাজার পেয়েও না- পাওয়াগুলো ভুলিনা।
সুখে থাকাটা যদিও একটা আপেক্ষিক ব্যাপার, আমার মনে হয় ছোট একটা সূত্র আছে এর। আর সেটা হল ইঁদুর দৌড়ে যোগ না দেয়া আর কৃতজ্ঞ থাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


