somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজিটাল খরগোশ আর বোকা কচ্ছপের গল্প

১২ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিজিটাল খরগোশ আর বোকা কচ্ছপের গল্প

-কাজী তাহমিনা

সে অনেক অনেককাল আগের কথা। একদেশে ছিল এক জ্ঞানী লোক, তার নাম ছিল ঈশপ। তিনি আমাদের যে খরগোশ আর কচ্ছপটার গল্প বলেছিলেন, তারই নাতির নাতির নাতির গল্প বলবো আজ তোমাকে।

দিনে দিনে অনেকদিন চলে গেছে। খরগোশটা এখন থাকে বাংলাদেশ নামের একটা দেশে, একটা ছোটখাটো বনের ভিতরে।। সে খুবই ডিজিটাল, খুবই আধুনিক আর খুবই চালাক। আর কচ্ছপের দাদার দাদার দাদার মতই এখনকার কচ্ছপটাও বেশ পরিশ্রমী, সহজসরল আর, ভালো মানুষ ধরণের।

খরগোশ সারাদিন ঘুরে ঘুরে বেড়ায়, আর বনের পশুপাখি সবাইকে বলে বেড়ায়, দৌড়ে সেই-ই সেরা। কোনকালে কবে কোন কচ্ছপ জিতেছিল, সেটা এখন ভাবলে হবে? এবার আবার প্রতিযোগিতা হলে, সে জিতবেই জিতবে।
কচ্ছপটাকে একদিন সে বলেই বসলো, 'শোন, হে ভায়া। দৌড়ে আমিই সেরা। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, চলো হে, একটা ম্যারাথন রেস লড়ে দেখি।'
কচ্ছপ সরল শান্ত মানুষ। সে ভাবলো, এতো করে যখন বলছে, লড়েই দেখা যাক তবে।সে বললো, 'ঠিক আছে, স্যারজী। চলুন, তবে শুরু করি।'

খরগোশ বললো, 'রোসো, রোসো! সবাইকে আগে খবরটা দিই।কালকে সকাল ১১টায় চলে এসো।আমি বাপু, আবার দশটার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারিনে। '

কচ্ছপ বললো, 'তথাস্তু। তবে তাই হোক। এখন বিদায়।'
কচ্ছপ বাড়ি গিয়ে খুব করে কাঁচা ছোলা খেয়ে, বারকয়েক বুকডন দিয়ে, সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়লো। তাড়াতাড়ি উঠতে হবে কাল।

আর এদিকে, খরগোশ তো, চারিদিকে মাইক লাগিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে, ঢেঁড়াপেটা করে বলতে লাগলো, 'ভাইসব, ভাইসব, আগামীকাল আবার সেই ঐতিহাসিক দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। কচ্ছপ দি স্লো ম্যান আর খরগোশ, দি চ্যাম্পিয়ন সেখানে অংশ নেবে। আপনারা সকলে আমার জন্য ফুলের মালা আর হাততালি নিয়ে চলে আসবেন। কারণ, আপনারা জানেন যে, আমিই আসলে সেরা।'

বনের যত পশুপাখি, খরগোশের প্রচারণা শুনতে শুনতে প্রায় বিশ্বাসই করে ফেললো, আর পরের দিন সবাই মিলে চলে এলো খরগোশের কীর্তি কারখানা দেখবার জন্য।
কচ্ছপ ও চলে এলো ঠিকঠাক, সময়মত। এদিকে খরগোশ আর আসেনা, আসেনা। আসবে কি করে, সে তো রাতভর ইউটিউবে নাচ দেখে ঘুম থেকে উঠতেই পারেনি!

ভাগ্যিস, এলার্ম ঘড়িটা বাজতে বাজতে বন্ধ হয়ে যায়নি। এগারোটা যখন বাজলো বাজলো, এলার্মের আওয়াজ কানে গেলো খরগোশের আর সে তড়িঘড়ি লাফ দিয়ে তড়াক করে উঠে পড়লো। ধুপধাপ রেডি হয়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে সে চলে এলো, অনুষ্ঠানের মাঠে।

তারপর, শুরু হলো রেইস। বনের রাজা সিংহ একটা বাঁশি বাজাতেই খরগোশ দিলো দৌড়। সে কি দৌড় তার!লাফাতে লাফাতে অর্ধেক পথ সে চলে এলো ঘণ্টা খানেকের মাঝে।
আর এদিকে, কচ্ছপ তো খুবই পরিশ্রমী আর নিয়মনিষ্ঠ। সকালে উঠেই সে ব্যায়াম করেছে। পথটা ঠিকঠাক বুঝে নিয়েছে। এখন রেইস শুরু হতেই,সে গুটি গুটি হাঁটা শুরু করেছে। সে এগোচ্ছে তো এগোচ্ছেই, কিন্তু পথ আর শেষ হয়না।

বেশ অনেকদূর পৌঁছে খরগোশ ভাবলো, কচ্ছপের যেই গতি, তার তো সারাদিন লেগে যাবে ওর কাছাকাছি আসতে। তারচেয়ে বরং একটু জিরিয়ে নেওয়া যাক।
যেই ভাবা, সেই কাজ!
সে কিছুক্ষণ গুগল করেই ধারেকাছে একটা রিসোর্ট পেয়ে গেলো। সেখানে গিয়ে সে খানিকক্ষণ ফেসবুক করলো, বন্ধুবান্ধবদের সাথে ভাইবারে কথা বললো।তারপর স্পা নিতে নিতে খানিক ঘুমিয়েও নিলো। বিকেল যখন হবু হবু, তখন সে গুগল ম্যাপ দেখে, শর্টকাট একটা পথ বের করে, বেশ খানিকটা পথ উবারের গাড়িতে চলে আসলো। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে উবারের গাড়িটা ছেড়ে দিয়ে, খুব করে লাফাতে লাফাতে, যেন সে সারাদিন দৌড়ে হাঁপিয়ে উঠেছে, এমন একটা ভাব নিয়ে, হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ের ট্র্যাকে ছুটলো।
শেষপ্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে গিয়ে সে দেখে কচ্ছপ গুটি গুটি পায়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে প্রায় পৌঁছে যাচ্ছে। খরগোশের কি বুদ্ধি কম? হুড়োহুড়ি করে একটা শোরগোল তুলে দিয়ে, সবাই যখন শোরগোলের উৎস খোঁজায় ব্যস্ত, তখন আস্তে করে, কচ্ছপকে ল্যাং মেরে পেছনে ফেলে, ঝপাঝপ ফার্স্ট হয়ে গেলো সে।
ব্যাস, বেচারা কচ্ছপ সারাদিন খেটেখুটে হেরে গেলো, আর চালাক খরগোশ তড়িঘড়ি সেলফিসহ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে দিলো, 'ফিলিং প্রাউড, কজ, পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি। গড ইজ উইদ দোজ হু আর অনেস্ট।'

বিঃদ্রঃ সার্কাজম এলার্ট!

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাতিম গাছের ছায়ায়

লিখেছেন আবু সিদ, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩


সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×