somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন পাগল ও এক প্লেট ভাত

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইজকা রাইতে আর ঘুম আইবো না মনে হইতাসে। এমুন খিদা লাগসে! এমুন খিদা নিয়া কি ঘুমানো যায়?! হেইযে সকালবেলা এক টুকরা রুটি খাইসিলাম। তারপর আর কিছু খাইতে পাই নাই।

আমারে মাইনষে খাইতে ক্যান দিবো? আমারে তো হেরা পাগল কয়। পাগলরে কি কেউ খাওন দ্যায়? আমি না খাইয়া থাকলে কার কি? আমি না খাইয়া থাকি………ঘন্টার পর ঘন্টা। কী খিদা! কী খিদা!! কী কষ্ট!!!

মাঝে মইধ্যে মনে হয়, কেউ একটা থাল ভর্তি কইরা গরম ভাত দিতো আমারে। ধুয়া উঠতাসে এমুন এক থাল ভাত। ডিমের সালুন দেয়া এক থাল ভাত। আমি পেট ভইরা খাইতে পারতাম। কিন্তু, কেউ ভাত দেয় না, লাঠির বারি দেয়। কাছে গেলে ভয় নিয়া তাকায়।

কি দেইখা ভয় পায়?

আমার জটা চুল? আমার ময়লা জামা? নাকি আমার চোখ?

কি দেইখা কয়, ঐ ব্যাটা পাগল?

অনেক বছর আগে যখন যুদ্ধে গেসিলাম, তখনও মাইনষে আমারে পাগল কইসিলো। কইসিলো, তুই ক্যান যুদ্ধে যাবি? মরার শখ হইসে তোর? দেশ বাঁচাইতে পাগল হইসিলাম সেদিন।

যুদ্ধেও দিনের পর দিন না খাইয়া থাকতাম। কাদামাটির মধ্যে দিয়া মাইলের পর মাইল গিয়া তাও যুদ্ধ করসি। দেশ স্বাধীন করসি। খুশিতে পাগল হইসিলাম তখন।

যুদ্ধের পর গ্রামে ফেরত আইসা যখন দেখি, আমার বউটারে রাজাকাররা ধইরা নিয়া গেসিলো। এক সপ্তাহ পর ওর লাশ পাওয়া গেসে নদীতে তখন আমি আবার পাগল হইসিলাম। মনে হইতাসিলো কেউ অন্তরটার ভিতরে আগুন ধরায়া দিসে।

আইজকাল যহন দেহি, আমার এলাকার ঐ রাজাকার পতাকাওয়ালা গাড়িতে চলে, তহন আমি আবার পাগল হই। যহন দেহি পোলাপানগুলা খেলার পর পাকিস্থানের পতাকা নিয়া ‘পাকিস্থান জিন্দাবাদ’ কয় তহন আমি আবার পাগল হই। যহন আমি খাইতে পাই না, তহন আমি আবার পাগল হই।

আমি বারবার পাগল হই।



দশটা টাকা কুড়ায়া পাইসি রাস্তায়! এক প্লেট গরম ভাত কিনসি। পেট ভইরা খামু আজকে। একটা কাউয়া আইয়া আমার দিকে চাইয়া রইসে। ওর মনে হয় খিদা লাগসে। আমি প্লেটটা আমার আরো কাছে টাইনা লইসি। আমি চাইয়া থাকলে তো আমারে কেউ খাইতে দেয় না। আমিও দিমু না।

প্লেটের দিকে তাকাই আমি। গরম ধুয়া উঠা ভাত……

লেখকঃ স্বপ্ন_বিলাস
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৩
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৌতুক কিংবা রম্য - বলুন তো, বিষয়টা কী?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৮

আমি যদি বুঝতেই না পারি যে, আমি তোমাকে যা বোঝাতে চাই তা তুমি বুঝতে পারছো না, তাহলে আমি কীভাবে বুঝবো যে, তুমি কিছুই বোঝো নাই? বুঝেছ? না বুঝলে বরং বোঝার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল

লিখেছেন জুন, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৪


আমার ছোট বাগানের কসমসিয় শুভেচ্ছা।

আজ পেপার পড়তে গিয়ে নিউজটায় চোখ আটকে গেল। চীন বলেছে করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি ভারত আর বাংলাদেশে, তাদের উহানে নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মায়াময় ভুবন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৯

এ পৃথিবীটা বড় মায়াময়!
উদাসী মায়ায় বাঁধা মানুষ তন্ময়,
অভিনিবিষ্ট হয়ে তাকায় প্রকৃতির পানে,
মায়ার ইন্দ্রজাল দেখে ছড়ানো সবখানে।

বটবৃক্ষের ছায়ায়, প্রজাপতির ডানায়,
পাখির কাকলিতে, মেঘের আনাগোনায়,
সবখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×