somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসীরা কেন পরিবার থেকে এমন আচরন পেয়ে থাকে

২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




১৭/১৮ বছরের ছেলেটা কাঁদছে, বড্ড বেমানান লাগছে তার কান্নাটা।
দেশে ফেরার পথে সবাই যেখানে হাসিখুশি থাকে সেখানে সদ্য কিশোরে পা রাখা এই ছেলেটা কাদছে কেন?


গত ৬ই আগষ্ট ২দিনের ছুটিতে দেশে যাচ্ছিলাম, এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছি এমন সময় চোখে পরে বড্ড বেমানান এই দৃশ্যটা।
এতদিন জানতাম বাংলাদশ বিমাল সিডিউল মিস করে কিন্তু এখন দেখছি, মালিন্দো এয়ার বিমানের চেয়েও খারাপ সার্ভিস দিচ্ছে। ৫টার ফ্লাইট ৯টা করা হয়েছে, জানিনা আর পিছানো হবে কিনা। সেই ২টার সময় এয়ারপোর্টে এসে বসে আছি, বিরক্তির মাত্রা যেন ১০০ ডিগ্রীর উপরে পৌছে গেছে।
দেশে যাওয়ার পথে কিংবা সিঙ্গাপুর আসাতে আমার আনন্দ কিংবা আবেগ কোনটাই নাই, প্রতি বছরেই দুই একবার যাওয়া হয় ছোট্ট ছুটিতে। তাছাড়া ১০ বছর পরবাসে থাকার পর সব আবেগ আনন্দ নিশ্চিত করেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, আমারও তাই হয়েছে।

নতুন ছেলেগুলি বিমানে উঠার সাথে সাথেই জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাবে, ৩৫ হাজার ফুট উপর থেকে দেশটাকে দেখতে চাইবে। আমিও প্রথম দুইবার এমন করেছি, জানালার পাশে সিট দেয়ার জন্য কাউন্টারে হাজার রিকুয়েষ্ট করেছি। আহা কি শান্তি লাগত, ৪ঘন্টা জার্নি ১ মিনিটের জন্যও চোখ বন্ধ করিনি। এখন যাওয়া আসার মাঝে কেবল খাবারের সময়টাই একটু সজাগ থাকি বাকি সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই, প্রথম প্রথম ৩৫ হাজার ফুট উপরে ঘুম না হলেও এখন অনেক ভাল ঘুম হয়। নতুন ছেলেগুলি জানালার পাশে সিট না পেলে কেমন উকি ঝুকি দেয়ার চেষ্টা করে একটু আকাশ দেখার জন্য, আমি অবশ্যক নতুন কোন ছেলেকে এমন করতে দেখলে জানালার পাশের সিট ছেড়ে দেই। ছেলেটা দেখুক মনের মত করে আকাশ, জানতে শিখুক তার আকাশটা কত বড়।

প্রথমবার যখন আমি বিমানে উঠি তখন জানালার পাশের ছিটের জন্য খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কাউন্টার থেকে দিতে পারেনি, আবার ভিতরে সবাই নতুন তাই পাশের জনও ছাড়তে চাইনি। আমি উকিঝুকি দিয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করেছিলাম। আবেগ আর কষ্ট কাকে বলে সেইদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, বুকের ভিতরে যে একট হৃদয় থাকে সেইদিন প্রথম অনুভব করলাম। বাবার সাথে আমার সব সময় কথা কাটাকাটি চলত অথচ বাবাকে জড়ায়ে ধরে কেঁদে ফেল্লাম, চোখের পানি লোকানোর ব্যার্থ চেষ্টা করতে কত কিছুর অভিনয় করতে হল। কথা বলা বন্ধ করে দিলাম, শুধু হাতের ইশারায় সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। বাড়ির বাহিরে আসার পর ইচ্ছে হল নিজের আড্ডা দেয়ার ঘড়টা একটু দেখতে কিন্তু ফুফাতো ভাই আটকিয়ে দিল, বিদায় মূহুর্তে নাকি পিছনে ফিরতে নেই। সেইদিন বুঝতে পারলাম দেশ মাটি এবং মানুষগুলিকে আমি কত ভালবাসি।
এয়ারপোর্টে গেইটে যখন বাবাকে আটকিয়ে দিল তখন আমি একা বড্ড একা এক পৃথিবীতে অবস্থান করছি, হাতে পাসপোর্ট কাধে ব্যাগ। কেও সাহায্য করার নেই, নিজের পৃথিবীতে নিজেই নিজের সাহায্য কারি হতে হল। এক মাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করেই শুরু করলাম পথচলা। গ্লাসের ফাক দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে মলিন সেই হাসিটা দিয়ে হাত নেরে বিদায় নিলাম। পা রাখলাম আমার নিজের ভূবনে।

ঠিক ১৬মাস পর আমি প্রথম দেশে আসি, ঐ মূহুর্তের আনন্দ কাওকে বলে বুঝানো যাবেনা। চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে বাবা মা ভাই বোন সব আত্নীয় স্বজনদের ছবি। কখন আসবে সেই মূহুর্ত, কবে পৌছাব আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে।


আমি নিজে জানি কতটুকু আনন্দ দেশে ফেরার পথে, কিন্তু আজ ছেলেটির কান্না দেখে আমি বড় হতাশ হলাম। কিছুটা কৌতুহল নিয়ে ছেলেটার পাশে গিয়ে বসলাম, আস্তে করে জানতে চাইলাম "ভাই তুমি কাদঁছ কেন?"
উত্তরে ছেলেটি যা বল্ল সব শুনে নিজেই থ হয়ে বসে থাকলাম। ছেলেটির ভিসার মেয়াদ শেষ এবং কোম্পানি ভিসা নবায়ন না করাতে দেশ ফিরে যেতে হচ্ছে, কিন্তু আসার সময় যে ঋণ করে আসছে তার কিছুই শেষ করতে পারেনি। এখন পরিবারের প্রতিটা মানুষ তার উপর খুব রাগ, এমনকি দেশে গেলেও বাড়িতে না ফেরার জন্য বলছে।
আমি পাশে থাকতেই ছেলেটি তার বোনের সাথে কথা বল্ল, অনেক অনুরোধ করছে বোনকে বাবাকে একটু বুঝিয়ে বলার জন্য।
কথাটা ছিল কিছুটা এমন "আপা তর দুইটা পায়ে দরি, আব্বারে একটু বুঝাইয়া কও। আমি ইচ্ছা কইরা আইতাছিনা, কোম্পানির ভিসার মেয়াদ শেষ তাই পাঠাইয়া দিতাছে"
কিন্তু বোন তার কর্কশ কন্ঠে উত্তর দিচ্ছিল "আগে বাড়িতে আস, পরে বোঝামু ঠেলা"

অনেকের সাথে কথা বলে ছেলেটা হতাশ হয়ে বসে বসে কাঁদছে, আমি অসহায়ের মত পাশে বসে থাকলাম। অনেকটা সময় পর, শুধু বল্লাম তোমার পাসপোর্টের একটা কপি দিয়ে যাও তোমার জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। সাথে সাথেই ছেলেটা আমার হাতে একটা পাসপোর্টের ফটোকপি দড়িয়ে দিল, কেমন জানি ছেলেটার চোখে আশার আলো দেখিয়ে দিয়েছি। আমি শুধু ভাবছি ছেলেটার জন্য কিছু একটা করতেই হবে, যে করেই হোক।
ছেলেটি আমাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল, আমি এই পরিস্থিতিতে বেশিক্ষন থাকতে পারিনা তাই চলে এলাম।
পাউডার মুখে কাদঁতে নেই, জামায় দাগ লেগে যেতে পারে...........
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:১৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×