somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাজুল ইসলাম মুন্না
সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ালেখা করছি। পাশাপাশি অনলাইন জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করছি দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে। ব্লগে ফেরার ইচ্ছা বহুদিনের। একদিন হয়তো হুট করে আবারও রেগুলার হয়ে যাবো।

বৃষ্টিবিলাস... (একটি বৃষ্টিতে ভেজার গল্প এবং সাথে একটি বরষার গান...)

২০ শে মে, ২০১০ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুক্ষণ আগেই বৃষ্টি হয়ে গেল। এখনো বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে (এই পোষ্ট লেখার সময়)। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে এই বৃষ্টি সবার কাছে যেনো শান্তি বয়ে আনলো। বৃষ্টি শুরু হবার সময় রাস্তায় ছিলাম। বিকালের হাটাহাটি শেষ করে বাসায় আসবো আসবো করছিলাম। অমনি শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। সবাই যে যেদিকে পারলো দৌড়াদৌড়ি শুরু করলো। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম। আশ্রয় নিলাম একটা রিকশার গ্যারেজের নিচে। কিন্তু বৃষ্টি দেখে মাথা আর ঠিক রাখতে পারলাম না। যা থাকে কপালে, ভেবে বের হয়ে ভেজা শুরু করলাম। শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট নিয়েই ভিজতে শুরু করলাম। কি শান্তি যে লাগলো! হাটার সঙ্গী ছিল এক ফ্রেন্ডের চাচা। চাচার বয়সও খুব বেশি হবেনা। ১৯ কি ২০। আমার সাথে খুব ফ্রি। তাকেও ভিজতে বললাম। সে রাজী হলোনা। তার নাকি জ্বর হবে। কি আর করার? একা একাই ভিজতে লাগলাম। রিকসার গ্যারেজের সবাই অবাক হয়ে দেখতে লাগলো সতের বছরের এই বালকের কান্ড। বৃষ্টিতে ভিজছে আর বৃষ্টির পানি হা করে খাচ্ছে। পকেটে মোবাইলের ভাইব্রেশন শুনতে পেলাম। আম্মু কল করেছে।

: এই তুই কোথায়?
: তাজলেনের পাশে। বৃষ্টিতে ভিজছি।।।
: দেখিস। জ্বর না হয়।
: না। জ্বর হবেনা। তবে মোবাইলটার জ্বর হতে পারে। বৃষ্টির মধ্যেই কথা বলছি।
: আচ্ছা, তাড়াতাড়ি বাসায় আছিস।
: ওক্কে।।।

মানুষ অবাক হতে খুব ভালবাসে। আস্তে আস্তে রিকসার গ্যারেজে মানুষ বাড়ছিল আর আমার ভিজা দেখছিল। কিন্তু কেউ আমার সঙ্গী হলোনা। অবশেষে সঙ্গী পেলাম কিছু পথের শিশুকে। তাদেরকে নিয়েই ভিজতে লাগলাম। আমাকে ভিজতে দেখে চাচারও লোভ হলো। চাচাও আসতে চাইলো। আর আমার হঠাৎ করে ক্ষুধা লাগলো। রিকসার গ্যারেজের দোকান। একটা বিস্কিতমতো জিনিস পেলাম। গোল, উপরে চিনি ফালানা। বিশাল আকৃতি। পাচ টাকা দিয়ে একটা কিনলাম। মানিব্যাগ জানান দিলো, “তোমার ব্যালেন্স শেষ তাজুল। দ্রুত রিচার্জ করো...”। ;) ঐটা খেতে লাগলাম আর বৃষ্টির পানিতে ভিজতে লাগলাম। চাচা এতোক্ষণে আমার সঙ্গী হলো। চাচার বাসা পর্যন্ত তার সাথেই আসলাম। তারপর তাকে বিদায় জানিয়ে একা একাই ভিজতে ভিজতে বাসায় আসলাম। আসার পথে দেখলাম কিছু বড় বড় ছেলে রাস্তায় ফুটবল খেলছে। ফুটবল খেলতে পারিনা। ফুটবলে লাথি মারলে পা ভাঙ্গার সমূহ সম্ভাবনা আছে। তাই খেলার প্রতি বেশি একটা আগ্রহ দেখালাম না। বাসায় ফিরলাম পুরো ভেজা শরীর নিয়ে। বাসায় ঢুকেই এক দৌড়ে বাথরুম। একেবারে গোসল করে তারপরে বের হলাম। আম্মু একদমই রাগ করলোনা। ছেলের এই পাগলামীর সঙ্গে সে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। সে জানে যে, বৃষ্টি দেখলে তার ছোট ছেলের মাথা ঠিক থাকেনা। গোসল করে লুঙ্গি পড়ে এখন এই পোষ্ট লিখছি। মজাই লাগছে। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। তবে এই পোষ্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ আছি। এখন গান শুনছি। কণা’র বরষা। আপনাদের জন্য গানটা দিয়ে দিলাম। লিরিক্স ব্লগার জর্জিস এর কাছ থেকে ধার করা।।।



মেঘের গায়ে, নূপুর পায়ে, নাচে বরষা
বৃষ্টি কি তার ছন্দ জেনেছে
শ্রাবণ কি তার মন্ত্র বলেছে

দুহাত তুলে কোমল সুরে
ডাকে কুয়াশা ভেজে বরষা

চোখে কি তার ছায়া ফেলেছে
হৃদয়ের কাছে ছোঁয়া মিলেছে
কাজল দীঘির ক্লান্ত বধির
তুলেছে কি ঢেউ
সুরের মায়ায় কোমল ছায়ায়
দেখেছে কি কেউ

মনে কি তার আগল খুলেছে
আধারের পাশে মূর্তি গড়েছে
ঢেউয়ের তালে বানের জলে
মেশে মোহনায়
ছন্দ তালে নদী ভিজে যায়





ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক (ক্লিক করলেই ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে...)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১০ রাত ৮:৩০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×