somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিয়মিত নিঃশ্বাস-০২

২৭ শে মে, ২০১১ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেবার চিশ্তি ভাইয়ার বিয়ের সময় ছোট চাচা যে ঝামেলাটা করেছিলো তার জন্য লজ্জার চোটে উনি অনেকদিন বাসায় আসেন নি । ঘটনা আসলে তেমন কিছুই ছিলো না । কনের বাপ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক ফাঁপড় নিয়ে চলতেছিল অনেক্ষন ধরে । তো চাচা উনার ফোলানো বেলুনে ছোট একটা জাটকা মাছের কাঁটা ঢুকাই দিছিলেন । এরপর থেকে আম্মার ভয়ে উনি আর আমাদের বাসার দিকে মুখ করেন নি ।

তো গতকাল সন্ধ্যায় চাচার আগমনে আমি কিঞ্ছিত সঙ্কিত হয়ে উঠেছিলাম ।কাচুমাচু করে চাচা আম্মাকে কি জানি বোঝাচ্ছেন , আর আম্মা ভাবলেশহীন চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে ।ঘটনা পরে বিস্তারিত জানলাম । চাচার হাই-স্কুল পড়া মেয়েটা নাকি “বংশের মুখে চুনকালি” দেয়া টাইপ কি কি কাজ করছে ।হাউজ টিউটর প্রেম টাইপের কিছু একটা । শুনে বড়ই মজা মজা একটা ফিলিংস পাইছি (যদিও পরিবারের সবাই এই নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন) ।

দোষটা আসলে বয়সের । সবাই তাই জানে । আমিও তা মানি । ঘটনাটা হইলো হাউজটিউটর বেটা পড়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে । আমার কাজিনটা পড়ে মনে হয় নাইন বা টেন এ । কে জানি একবার বলছিলো মেয়েরা প্রেম বা বিয়ের ক্ষেত্রে সিনিয়রদের অগ্রাধিকার দেয় (!) ।অবশ্য তার এই দাবীর বিপরীতে অনেকে অনেক প্রমান হাজির করছিলো তখনই ।

সমস্যাটা হইলো অই ব্যাটার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ।তার চেয়ে দশ-বারো বছরের ছোট একটা মেয়ের সাথে কমিউনিকেশন বিশেষত ইমোশনাল কন্ট্যাক্ট ব্যাপারগুলা কেমনে করছে সে...?? ‘আমার বাপ আমার মায়ের চেয়ে বয়সে আট বছরের বড় ছিলো ‘—
কমলের ঝটপট জবাব ।আমি উত্তর খুঁজতে থাকি ।‘ কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা তো বাচ্চা প্রোডাকশনের জন্য বিয়ে-শাদী করে না,তাদেরতো অনেক মানসিক চাওয়া পাওয়ার ব্যাপার সেপার আছে না...??’ আমতা আমতা করে বলার চেষ্টা করি ।‘সব সময় বয়স দিয়েই যে ম্যাচিওরটির হিসাব হবে তা কিন্তু না, ছেলে-মেয়ের মানসিকতার মিলের ক্ষেত্রে বয়স আসলে কোন ফ্যাক্টরই না,হুমায়ুন আহমেদ তো বুড়া বয়সে শাওনের সাথে প্রেম করলেন’—উদাহরনসহ যুক্তি হাজির করলো মারুফ ভাই ।

চুপ মেরে যাই । মানতে কষ্ট হয় । এইটা একটা বিশাল সমস্যা একবার একটা জিনিস মাথায় ঢুকে গেলে ,শত যুক্তি উদাহরন দিয়েও জিনিসটা মাথা থেকে সরানো যায় না ।

আজকে একবার ইচ্ছে করতেছিলো রিকশাটা শাহবাগ দিয়ে ঘুরাই নিয়ে যাইতে ।ঘুরাবো কি ঘুরাবো না ভাবতে ভাবতে অনেকটা পথ হেঁটে চলে আসলাম ।ভাবলাম হেঁটেই যাই ।
কিন্তু ঠিক যাদুঘরের সামনে এসে কেমন জানি ভয় ভয় করতে লাগল । আমার ফেলে আসা পৃথিবীটা আগেরমতো আছে তো ? ফুটপাতগুলা কি আগের মতোই আছে ...? অই যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেখা যায় । এখনো নিশ্চয় গাঁজার আসর বসে । ফুটপাতে হাটার সাথে সাথে বিলিয়ন বিলিয়ন মেমোরী রীতিমতো বোমারু বিমানের মতো হামলা চালায় ।

আমাদের সবার একটা বড় সমস্যা হলো পরিবর্তনকে আমরা অনেক ভয় পাই । কিছু বদলে গেছে এই আশঙ্কায় আমরা কত কিছুই না করি । চেনা জগতকে নিজের মতো করে সংজ্ঞায়িত করে নিই আমরা সেই কৈশোর বা তারুন্যে । এরপর প্রতিনিয়ত আমরা সেই সংজ্ঞাগুলোকেই সবকিছু মাপার একক হিসেবে ব্যবহার করি আমরা । কোথাও কোন সংজ্ঞার ব্যতীক্রম ঘটলে প্রথমত আমরা বলার চেষ্টা করি “exception is not an example”…কিন্তু যখন এই exception এক নাগাড়ে ঘটতেই থাকে তখন আবার অস্বীকার করার চেষ্টা করি...না যা হচ্ছে টা হওয়ার কথা না । টাইম স্পেইস এ প্রত্যেকটা ঘটনাকেই যেন আমরা আগে থেকে জেনে নিতে চাই ।ধূর আবার বাল-ছাল চিন্তা ভাবনা...!

গত পরশু হঠাৎ করে বাসায় আম্মা একটা আমার অনেক পুরানো পেনড্রাইভ খুজে পায় কোন চিপায় জানি । অইটা ওপেন করি দেখি আমাদের ভার্সিটির কিছু ছবি রয়ে গেছে কেমনে জানি ! সেবার আমরা রাজশাহী গেছিলাম...জুথিকার ওড়নায় আওয়াল কাঁদা মেখে দিচ্ছে পদ্মার পাড়ে...ছবিটা দেখে কেন জানি খুব হাসি পায়...!!শারমীন আর আমার পিঠে পিঠ হেলান দেয়া ছবিটা আসতেই কেন জানি পেন-ড্রাইভ টা ফরম্যাট করে দিলাম...!!সেলফ ডিফেন্স এখন অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে । নিজের জন্য ভালো না এমন কিছু আর আগের মত গ্রহন করতে পারি না। মহত্ব টহত্ব টাইপ জিনিসগুলা কেন জানি ভন্ডামী মনে হয়...!!



সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১১ রাত ৩:১২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×