somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিয়মিত নিঃশ্বাস-০৩

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বসাহিত্যের ভ্রাম্যমান লাইব্রেরীটা তখন নতুন চালু হইছে । মেম্বার হওয়ার পর প্রথম যে বইটা নিছিলাম অইটার নাম মনে আছে খালি “শয়তান”... রাইটার ছিলো রাশিয়ান । বইটা ভালোই ছিলো , ইন্টেরেস্টিং ব্যাপার যেটা ছিলো সেটা হলো এই বইয়ের দুই ধরনের এন্ডিং ছিলো । সো পাঠকের হাতে অপশন ছিলো যেকোন একটা বেছে নেয়ার । লাইফের অনেক বিশাল বিশাল সমস্যার সৃষ্টি হয় এই অপশনের availability ’র কারণে ।

স্কুলে থাকতে মাল্টিপল চয়েস দাগাইতাম । সারাজীবন ধরে যে এতো এতো বার এই কাজটা করতে হবে (খুব সম্ভবত স্কুলের চেয়েও অনেক কঠিন কঠিন জায়গায় ) সেটা কোনদিন আমি ভাবি নাই-এইটা হইতেই পারে । কিন্তু আমার চার বছরের ছোট মামাতো বোনও যে বুঝে নাই সেটাই ভয়াবহ ব্যপার । আমার অতিশয় মেধাবী (খুব শীঘ্রই ভার্সিটির টিচার হতে যাওয়া) বোনটা তার বয়ফ্রেন্ড আর বেস্টফ্রেন্ডের মধ্যে বিয়ের জন্য কাকে বেছে নিবে সেটা নিয়ে ব্যাপক টেনশিত । এই ব্যাপারে সে এই অধমের পরামর্শও গ্রহন করতে রাজী ।


হাতের রিমোটটার উপর কিছুক্ষন অত্যাচার চালিয়ে আমি প্রতিদিন একবার করে শিউর হই যে, পৃথিবীতে বর্তমানে সকল বয়সী মানুষের প্রধান কাজ “প্রেম” করা । অ্যাড থেকে শুরু করে নাটক, গান ...সব কিছুতে এতো এতো ভালোবাসা উপচাই পরে যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এমনিতে দুই তিন ইঞ্চি বেড়ে যাবে । আর রাস্তাঘাট, রেস্টুরেন্ট, পার্কের কথা “বলিয়া লজ্জা দিবেন না ” টাইপ অবস্থা ।


একবার গ্রামে গিয়ে পুথি-টাইপস একটা আসরে বসছিলাম । অইখানেও মূলকথা ছিলো প্রেমের টানে বাড়িঘর-বাপ মা ছেড়ে ছেলে চলে গেছে সাত-সমুদ্র তের নদী পার হয়ে অচীন দেশের রাজকন্যার খোঁজে । গল্প-ঊপন্যাস-নাটক জুড়েতো প্রেমশক্তির জয়-জয়াকার । ইভেন নিজের চোখেও কি কম দেখছি... চার মাসের পরিচিত একজন মানুষের জন্য একজীবনের ঋন যে বাপ-মায়ের কাছে তাইতো চোখের সামনে কতজন অস্বীকার করল ।


এইসব ভাবতে ভাবতে ভিতর থেকে আরেকজন চিল্লাই উঠে, আসছে...নীতিবান...নিজে একবার প্রেম কর, দেখা যাইব কত ধানে কত চাল । প্রেমের নাম ত্যাগ নাকি বেদনা কি জানি একটা...বুঝছো জীবনে নিজে...?


এই যে নামের ব্যপারটা...এইটা নিয়ে একটা সময় আমার ঘোরতর আপত্তি ছিল । কেন সব জিনিসেরই একটা নাম থাকতে হবে । না হয় মানলাম...মানুষ-গরু-ছাগল এইসবের নাম দরকার । কিন্তু তাই বলে কয়েক সহস্র আলোকবর্ষ দূরে যেসব গ্রহ অইগুলারেই বা কেন নাম দেয়া (অইগুলারে গুতানেরই বা কি দরকার । ৬৪০০ কি.মি. ব্যসার্ধের পৃথিবীতে কি গুতানোর মত কম জিনিস আছে ?)। তখন মনে হইত, মানুষ হয়তো পরিচয়হীনতাকে ভয় পায় । সব সময় মানুষ একটা ফিক্সড পরিচয় খুঁজে । অর্থহীন চিন্তাভাবনা ...যত্তোসব...!!!


এইসব অর্থহীন চিন্তা-ভাবনার কুফল হইলো অনেক বেশী নিউরন সেল এইসব কাজে বিজি থাকলে স্বাভাবিক কাজ কামের কথা আমরা অল্প অল্প ভুলে যাইতে থাকি । ভুলে যাওয়ার সাথে মানুষের ইচ্ছাশক্তির সম্পর্কটা সমানুপাতিক না ব্যাস্তানুপাতিক তা নিয়ে মাঝে মাঝেই কনফিউশন সৃষ্টি হয় । কখনো দেখা যায় চাইলেও অনেক জিনিস ভোলা যাচ্ছে না । আবার কখনো কখনো অনেক দরকারি এবং মনে রাখার ঘটনাও বেমালুম ভুলে যায় মানুষ । মনে হয় ব্যাস্তানুপাতিক রিলেশন্টাই বেশী খাটে ।


কিছুদিন আগে ইমনের গলায় ফাঁসি পড়লো । কেন জানি বন্ধু-বান্ধবের বিয়েতে যাইতে ইচ্ছা করে না । ফেবুতে ছবি দেখলাম সেদিন । ঘুরে ফিরে কেমনে জানি শারমিনের একটা ছবি থেকেই যায় সবখানে । কত জিনিস ভুলে যাই ...অথচ এই অর্থহীন মেমোরিগুলা কেন চাইলেও ভুলতে পারি না...?? নাকি আমি আসলে অনেস্টলি কখনো চাই-ই না । ম্যাসোকিসম টাইপের মেমোরি অবসেশনে ভোগার লক্ষণ...!!থাকুক ...এইসব ফিলিংসেরে বেইল দেয়ার টাইম নাই !! দুনিয়ার করার মত বহুত কাম আছে ।!!

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:২১
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×