somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদালতকে জামায়াতের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হরতাল দিলে যে রায় পাল্টায় না তা গত দুই বছরে বুঝতে পেরেছে দেশবাসী। কিন্তু বোঝেননি জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিন থেকে এ পর্যন্ত দলটি ৩২ দিন হরতাল পালন করেছে, যার মধ্যে ২৫ দিনই ছিল সরাসরি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করে ডাকা। কিন্তু বিচার ঠেকানো যায়নি। এরই মধ্যে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। ৯০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দলটির সাবেক আমির গোলাম আযমের। দলের শীর্ষস্থানীয় আরো কয়েক নেতাই সাজা ভোগ করছেন কিংবা ফাঁসির অপেক্ষায় আছেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছর ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছিলেন, 'আরেকটি প্রবণতা শুরু হয়েছে, রায় পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করা। রায়ে আপনি সংক্ষুব্ধ হতে পারেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন, কিন্তু রায় প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ নেই; তা যে পক্ষই হোক না কেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে আপনারা আমাদের আহত কমরন- এটি আদালত অবমাননার শামিল। আশা করি, এটি থেকে বিরত থাকবেন।'
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের এ বার্তা কানে নেয়নি জামায়াত। এর পরও আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রায় প্রত্যাখ্যান করে ২০টি হরতাল পালন করেছে দলটি। সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে কোনো আবেদন করেনি আদালতে। আদালতও স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ সপ্তাহেও ছুটির দিন ছাড়া বাকি সব কটি দিনই জামায়াতের হরতালের কবজায়।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দেওয়া- এটি স্পষ্ট আদালত অবমাননা। এটি আদালতও বলেছেন, আমিও বলি। কিন্তু আমাদের যে আদালত অবমাননা আইন রয়েছে, সেখানে এ অপরাধের দায়ে শাস্তির বিধান নেই।' তিনি বলেন, "আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতালের অপরাধে শাস্তি দিতে চাইলে আদালত অবমাননা আইনটি সংশোধন করতে হবে। তবে দেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির আওতায় হরতালকারীদের শাস্তির অওতায় আনার বিধান রয়েছে। এ আইনে শাস্তির মাধ্যমে এ রকম অদালত অবমাননার 'গর্হিত' কাজ বন্ধ করা যেতে পারে।" প্রবীণ এই আইনজীবী আরো বলেন, 'আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দিয়ে নৃশংসতম অপরাধ ও জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টও উদ্যোগ নিতে পারেন। কারণ হাকোর্টের রায়েও হরতালের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।'
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর জামায়াতের ডাকা হরতালকে আদালত অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত সোমবার কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায় দেওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'যাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তারাই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকে। জামায়াতও রায় নিয়ে হরতাল ডেকে আদালত অবমাননা করছে। তারা প্রমাণ করছে, আইনের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই।' তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি দেখব। তবে এটি একা আমাদের বিষয় নয়। আদালতও বিষয়টি দেখতে পারেন।'
ভারতে বন্ধ্-এর বিরুদ্ধে কঠোর আদালত : জানা যায়, হরতাল বা বন্ধ্-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ভারতের আদালত। সে দেশের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় আছে এ ধরনের কর্মসূচির বিরুদ্ধে। বন্ধ্-এর বিরুদ্ধে প্রথম রায় আসে ১৯৯৭ সালে কেরালা হাইকোর্ট থেকে। ওই রায়ে জোর করে বন্ধ্ পালনে বাধ্য করাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরের বছর প্রধান বিচারপতি জে এস ভার্মাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ ওই রায় বহাল রাখেন।
বন্ধ্ ডাকায় জরিমনা হয়েছিল বিজেপির : ২০০৪ সালে বোম্বে হাইকোর্ট ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিজেপি ও শিবসেনাকে ২০ লাখ রুপি করে জরিমানা করেন মুম্বাইয়ে বন্ধ্ ডাকার দায়ে। জোর করে বন্ধ্ পালন করায় শহরের ৫০ লাখ রুপির সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে একটি বেসরকারি সংস্থা রিট করলে ওই রায় দেওয়া হয়। একই বছর তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা 'বাংলা বন্ধ্' অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন কলকাতা হাইকোর্ট। ২০০৭ সালের জুন মাসে দিল্লিতে ডাকা এক বন্ধ্-এ জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়াকে জাতীয় লজ্জা বলে উল্লেখ করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
কানাডার সংবিধানে হরতাল অধিকারই নেই : কানাডার সংবিধানে ধর্মঘট বা হরতাল জাতীয় কোনো কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই। ওই দেশের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৮৭ সালে একটি রেফারেন্স মামলায় এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×