somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেমন বাংলাদেশ বানাতে চায় হিযবুত তাহরীর

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো হবে পুরুষতান্ত্রিক, রাষ্ট্রভাষা হবে আরবি!
এমনই এক ‘ইসলামী খিলাফতভিত্তিক’ রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এখনো সক্রিয় নিষিদ্ধ উগ্রপন্থি সংগঠন হিযবুত তাহরীর।


গত ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দুই হিজবুতকর্মীর কাছে ৪০ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার ওপর লেখা রয়েছে ‘খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধান’।

সেই ‘খসড়া সংবিধানে’ বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বদলে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

১৮৬টি ধারা নিয়ে তৈরি ওই পুস্তিকার একটি অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ হওয়ার নয় মাসের মাথায় ২০১০ সালের ১৬ অগাস্ট তারা এই ‘খসড়া সংবিধান’ প্রকাশ করে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন সময় সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রচারপত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও তাদের এই ‘খিলাফত’ রাষ্ট্রের সংবিধান এই প্রথম পাওয়া গেল।

শুক্রবার বন্দরনগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনে থেকে বেশ কিছু প্রচারপত্রসহ সাত হিজবুতকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব প্রচারপত্রে কথিত সেই ‘খিলাফত রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীকেও উস্কানি দিয়ে বক্তব্য এসেছে।

একটি প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, “যালিম হাসিনা আপনাদেরকে তার দুঃশাসনের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে গোলা-বারুদ নিয়ে দমন-নিপীড়নে নেমেছে; তার কবল থেকে মুক্তির একমাত্র পথ- সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারদের নিকট তাকে অপসারণ করে খিলাফত প্রতিষ্ঠায় হিযবুত তাহরীর- এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি তুলুন।”

হিযবুতের পরিকল্পিত সেই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, বিচার বিভাগ এবং নাগরিকদের কর্মকাণ্ড কেমন হবে- সে বিষয়েও বলা হয়েছে ‘খসড়া সংবিধানে’।

এর ৮ ধারায় বলা হয়েছে, “ইসলামের ভাষা হচ্ছে আরবি। একমাত্র আরবি ভাষাই রাষ্ট্রের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”

১৬ ধারায় রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাকে ‘এককেন্দ্রিক’ করার কথা বলা হয়েছে। আর শাসক কিংবা রাষ্ট্রের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই মুসলিম হতে বলে এর ১৯ ধারায় বলা হয়েছে।

১৮ ধারায় রাষ্ট্রের শাসকদের জন্য চারটি পদ নির্ধারিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- খলিফা, মুওয়াউয়িন তাফউয়িদ (প্রতিনিধিত্বকারী সহকারী), ওয়ালী (গভর্নর) ও আ’মীল (মেয়র)। বাকি সব পদ হবে কর্মচারীর।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনজুর মোরশেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হিযবুতের খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানটি তাদের কর্মীরা বিশ্বাস করে এবং এর আলোকেই তাদের নেতারা কর্মীদের মগজ ধোলাই করে থাকে।”

হিযবুতের ওই কথিত সংবিধানের ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সব মুসলমান নাগরিকের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ১৫ বা তদুর্ধ্ব সব পুরুষের ‘জিহাদের’ প্রস্তুতিমূলক সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ‘ফরজ’।

এর ৫৮ ধারায় বলা হয়েছে, খিলাফত রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হবে একটি একক বাহিনী, পুলিশ হবে তার শাখা বিশেষ। সশস্ত্র বাহিনীকে ইসলামী সেনাবাহিনী হিসেবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় যুদ্ধ উপকরণ ও সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার কথা বলা হয়েছে ৬৫ ধারায়।

‘হিযবুতি সংবিধানে’ বিচার ব্যবস্থায় কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা রায় খারিজের কোনো বিধান রাখা হয়নি, অর্থাৎ প্রতিটি রায়ই চূড়ান্ত।

এ বিষয়ে ৭৪ ধারায় বলা হয়েছে, ঘোষিত রায় তাৎক্ষাণিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

১০৮ নম্বর ধারায় নারীকে প্রধানত ‘মা’ ও ‘গৃহবধূ’ গণ্ডিতে রাখা হয়েছে। আর এর পরের ধারায় পুরুষ ও নারীকে ‘মৌলিকভাবে’ পৃথক রাখার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘শরীয়া অনুমোদিত’ প্রয়োজন ছাড়া নারী-পুরুষের মেলামেশা করার অনুমতি নেই।

তবে গ্রেপ্তার সাত হিযবুতকর্মীর কাছ থেকে চট্টগ্রামে সংগঠনটির নেতৃত্ব সম্পর্কে কোনো তথ্য আদায় করতে পারেনি পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, “চট্টগ্রামে কে বা কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে- সে ধরনের কোনো তথ্য বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার কারো কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।”

আন্দরকিল্লায় গ্রেপ্তার সাত হিযবুতকর্মীর মধ্যে একজন নগরীর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী। এছাড়া একজন নৌ প্রকৌশলীও রয়েছেন। বাকি পাঁচজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

ওসি মহিউদ্দিনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতার কারণে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে না পেরে হিযবুত এখন বিভিন্ন পেশার লোকজনকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×