somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিবিরের বোমা কেড়ে নিল অনিকের স্বপ্ন

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ছোড়া বোমার আঘাতে অন্ধ হওয়ার পথে ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেধাবী ছাত্র মিনহাজুল ইসলাম অনিক। তার ডান চোখ ও ব্রেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোমায় একমাত্র ছেলের এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা পরিবার। একমাত্র ছেলেকে প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বোমা বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার পথে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনিকের মা ছেলের অপরাধ কি তা জানতে চেয়েছেন বোমাবাজ আর তাদের নির্দেশদাতাদের কাছে।
অনিকের পিতার নাম মিজানুর রহমান (৪৭)। ২০০৫ থেকে ওমান প্রবাসী। মা জেসমিন রহমান (৩৮) গৃহিণী। একমাত্র বোন ফাহমিদা আফ্রিন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া থানাধীন জৈলসকুর গ্রামে। সুখের সংসার। সচ্ছল পরিবার। তেমন আর্থিক টানাপোড়েন নেই। দুই সন্তানকে মানুষ করাই মায়ের একমাত্র কাজ। বিদেশে পিতার ঘাম ঝরানো টাকায় তাই করছিলেন মা। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতেই পরিবারটি ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু বিধি বাম। সে স্বপ্নে বালি পড়েছে। বোমায় তছনছ করে দিয়েছে সে স্বপ্ন।
গত ৫ জানুয়ারি। বিকেল আনুমানিক পৌনে ৫টা। প্রতিদিনের মতো অনিক তার সহপাঠী একই স্কুলের ছাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী হৃদয়ের (ডাকনাম) সঙ্গে মাস্টারপাড়ার বিজয় স্যারের বাসায় গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরছিল। ওইদিন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সারাদেশে সমাবেশ করার চেষ্টা করছিল। এ নিয়ে ফেনীতে ব্যাপক হাঙ্গামা হচ্ছিল। পুলিশের বাধার মুখে ফেনীর বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলা চালায় ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা।
অনিক আর হৃদয় ডাক্তার গলির কাছে এলে একটি বোমা তাদের মুখে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভিজে যায় দুই ছাত্র। ওই রাতেই আহতদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে হৃদয়কে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আর অনিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে শুয়ে আছে ভবিষ্যতের মেধাবী প্রজন্মের অন্যতম সদস্য অনিক। ছেলের বিছানার পাশেই বিলাপ করে কাঁদছেন মা জেসমিন রহমান।
অনিকের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাওয়া মাত্রই উচ্চৈস্বরে কাঁদতে থাকেন। বলেন, আমার একমাত্র বুকের ধন। তার ডান চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রেনেও মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত। ভবিষ্যতে অনিকের অবস্থার কতটা উন্নতি হবে তা নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকরা। তারা সুস্পষ্ট করে তেমন কিছুই বলতে পারছেন না। বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। তিনদিন ধরে এক কাপড়ে হাসপাতালে আছি। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। ক্ষুধা নেই। কিছুই খেতে ইচ্ছে করে না। মাত্র ২ মাস আগেই ছেলের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি দেখতে বাড়ি এসেছিলেন স্বামী। সুস্থ-স্বাভাবিক ছেলেকে রেখে গেলেন। আর এখন কি অবস্থা। আমি এর কি জবাব দেব। জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে অনিক। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা। একমাত্র ছেলেকে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা। বুয়েটে সুযোগ না পেলে বিদেশ থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়ানোর ইচ্ছা আছে। কিন্তু আজ সবই অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে অনিকের কি অবস্থা হতে পারে সে সম্পর্কে চিকিৎসকরা আগাম তেমন কিছুই জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এরপরই আবার গগনবিদারী আর্তনাদ করতে থাকেন অনিকের মা। অজানা আশঙ্কায় তিনি সবার কাছে পাগলের মতো দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
কান্নারত অনিকের মা বিলাপ করে বলছিলেন, ঘরে বসে টেলিভিশনে খবর দেখেছি। কোনদিন ভাবিনি নিজেরাই একদিন পত্র-পত্রিকা, বেতার-টেলিভিশনের খবর হয়ে যাব। বোমার আঘাতে আমার স্বপ্ন উড়ে যাওয়ার যোগাড় হয়েছে। ছেলের চোখ আর ব্রেন চিরতরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কি অপরাধ ছিল আমার ছেলের। আমি তার জবাব চাই বোমাবাজ আর বোমাবাজদের নির্দেশদাতাদের কাছে। বোমাবাজরা আমার সব কেড়ে নেয়ার যোগাড় করেছে। ছেলের যদি মারাত্মক কিছু হয়ে যায়, আর মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর কি হবে আমার আর আমার স্বামীর? আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? আমি বোমাবাজ আর তাদের নির্দেশদাতাদের আমার ছেলের পরিণতির মতো শাস্তি চাই।
আমাদের ফেনী সংবাদদাতা জানান, বোমা হামলায় দুই স্কুলছাত্র আহত হওয়ার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘটনার পরদিন থেকেই ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছে। কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, বিভিন্ন সংগঠন, ফেনী পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দিন ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষ। সংসদ সদস্য আহত দুইজনের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে একলাখ টাকা আনুদানসহ চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সুত্র
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×