somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের শীর্ষ ৫০ সম্পদশালী

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্বাধীনতার চার দশকে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষণীয় বিকাশ ঘটেছে। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি খাত। অর্থনীতি বড় হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যাও। ২০১৩-১৪ করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৫ জন। আর ৫০ কোটি বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিকের সংখ্যা ৪৭।
মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যে সম্পদ থাকে, তা-ই নিট সম্পদ। একজন ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছাড়াও নগদ ও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ, বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ারসহ সব ধরনের সম্পদের সমষ্টিই হচ্ছে মোট সম্পদ। এ থেকে ঋণ ও অন্যান্য দায় বাদ দিলে যা থাকে, সেটাই ওই ব্যক্তির নিট সম্পদ।
নিট সম্পদের হিসাবে শীর্ষে আছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তার প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা। ফিনলে প্রপার্টিজের অংশীদার এ ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংকেরও পরিচালক। দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যক্তি নাভানা গ্রুপের সাইফুল ইসলাম, যার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা।
সম্পদশালীর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাদাত সোবহান। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২০৫ কোটি টাকা। ২০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হোসাফ গ্রুপের মোয়াজ্জেম হোসেন। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, যার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৬৫ কোটি টাকা। শীর্ষ সম্পদশালীর তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছেন আফরোজা বেগম। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৫৮ কোটি টাকা। ১৫৫ কোটি টাকা নিট সম্পদ নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা পরিবারের আরেক সদস্য সাফওয়ান সোবহান।
সম্পদশালীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছেন আকিজ পরিবারের। এ পরিবারের পাঁচ সদস্য এস কে বশিরউদ্দিন, এস কে জামিল উদ্দিন, এস কে জসিম উদ্দিন, শেখ শামীম উদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিন প্রত্যেকেই ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক। ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক এম এ খালেকও। যৌথভাবে তারা রয়েছেন তালিকার অষ্টম স্থানে। ১৩৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান। ১৩৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম রয়েছেন দশম স্থানে। এছাড়া আনোয়ার হোসেনের নিট সম্পদ রয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিট সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে রফতানি ব্যবসা করছি। দেশের শীর্ষ পাঁচ রফতানিকারকের একটি নাসা। পাশাপাশি আবাসন, ব্যাংকসহ নানামুখী ব্যবসা রয়েছে আমাদের। এর ফলেই নিট সম্পদ এত দাঁড়িয়েছে।’
প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরীর নিট সম্পদ রয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। ১২০ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মো. সাইফুল আলমের। একই পরিমাণ নিট সম্পদের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরীও।
শতকোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিকের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছেন এনটিভির কর্ণধার মো. মোসাদ্দেক আলী। তার সম্পদের পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। হাজি ইউনুস আহমেদের নিট সম্পদ রয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। গাজী গ্রুপের কর্ণধার গোলাম দস্তগীর গাজীর নিট সম্পদের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। ১০০ কোটি টাকা করে নিট সম্পদের মালিক মোরশেদ আলম ও নিটল-নিলয় গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মাতলুব আহমাদ।
নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘শুরু থেকেই সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কর, ভ্যাট কোনো কিছুই ফাঁকি দিইনি। ফলে আমাদের সম্পদ ধীরে ধীরে বেড়েছে। গ্রুপের ভিত্তিও প্রতিনিয়ত মজবুত হচ্ছে।’
শীর্ষ সম্পদশালীদের তালিকায় থাকা মো. ফারুকের নিট সম্পদের পরিমাণ ৯৬ কোটি ও মো. হানিফের ৯৫ কোটি টাকা। ৯০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম খানের নিট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ কোটি, মো. আমানউল্লাহর ৮৬ কোটি, এম মোয়াজ্জেম হোসেনের ৮১ কোটি, মেহদাদুর রহমানের ৮১ কোটি ও সৈয়দ হোসেন চৌধুরীর ৭৬ কোটি টাকা।
প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর নিট সম্পদের পরিমাণ ৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া মতিউর রহমানের নিট সম্পদ রয়েছে ৭২ কোটি, আব্দুস সালামের ৭০ কোটি, আজিজ আল মাহমুদের ৬৮ কোটি ও মনোয়ারা বেগমের ৬৭ কোটি টাকা।
৬৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের কর্ণধার কুতুবউদ্দিন আহমেদের। ৬৪ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে সালমা হকের।
এছাড়া মিজানুর রহমানের ৬৪ কোটি, ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মো. নূর আলীর ৬০ কোটি, নাসিফ সিকদারের ৬০ কোটি ও নজরুল ইসলাম স্বপনের ৫৯ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে।
৫৮ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে সম্পদশালীদের তালিকায় রয়েছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী।
যোগাযোগ করা হলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। ব্যবসার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। লক্ষ্য ছিল সরকারের প্রাপ্য ঠিকমতো বুঝিয়ে দেয়া। সরকার সিআইপিসহ বিভিন্নভাবেই আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের একটি তালিকায় স্থান আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায়ই আজকের এ অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে।’
সম্পদশালীদের তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছেন মো. ইউনুছ। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান রাগীব আলীর নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি, জ্যোত্স্না বেগমের ৪৪ কোটি, মনজুর মোর্শেদ খানের ৪২ কোটি ও আজিম উদ্দিনের ৪০ কোটি টাকা।
এ তালিকা সম্পর্কে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, করদাতারা স্বেচ্ছায় যে সম্পদের বিবরণী দেন, তাতে কখনো প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে না। এনবিআর অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে সম্পদশালী ব্যক্তির তালিকা করলেই সেখানে সঠিক চিত্র উঠে আসবে।
এছাড়া শীর্ষ ৫০ তালিকার বাইরে সম্পদশালীদের মধ্যে আলী আজগর ৩৯ কোটি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ২৭ কোটি, লতিফুর রহমান ২৬ কোটি, ইস্টকোস্ট গ্রুপের কর্ণধার আজম জে চৌধুরী ২৫ কোটি ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ২১ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক।
সুত্র
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×