somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারা বেশি জঘন্য- বিএনপি-জামাত না আইএসআইএস?

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত তাদের সন্ত্রাসীদের দিয়ে নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারছে, ধরাও খাচ্ছে। আবার সরকারের উপর দোষ চাপাচ্ছে। সরকার নাকি তাদের আন্দোলন বন্ধ করার জন্য মানুষ মারাচ্ছে। প্রশ্ন হল, সরকার কেন এটা করবে? কোন্ আন্দোলন বন্ধ করার জন্য? কোথায় আন্দোলন?

বিএনপি-জামাত তো পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা ও গাড়িতে আগুন দেয়া ছাড়া আর কিছুই করছে না। সভা-সমাবেশ করা দূরে থাক, ছোট-খাটো কোনো মিছিলও বের করছে না তারা। করছে কি? হরতাল-অবরোধও পালিত হচ্ছে না। তাহলে সরকার কোন্ আন্দোলন বন্ধ করতে চাইবে?

সরকার কেন তবে শুধু শুধু মানুষ মেরে জনগনকে নাখোশ করবে আর নিজেদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে? এমন হাস্যকর মিথ্যাচার বিএনপি-জামাতীরা ছাড়া আর কে করতে পারে? পৈশাচিকতায় মেতে উঠা খালেদা গংরা মিথ্যা বলতে গিয়ে তাল রাখতে পারছে না। তারা বিজেপি সভাপতির সাথে যেমন কথা বলতে পারে নি বা সাইদীকে যেমন চাঁদে পাঠাতে পারে নি তেমনি এ মিথ্যাও তারা বিকাতে পারে নি।

যদি বিএনপি-জামাত এমন কোনো গণআন্দোলন করতে পারতো যে তাদের দাবীর সমর্থনে প্রতিদিন সারা দেশে বড় বড় গণজমায়েত হতো তাহলে না হয় ভাবা যেতো যে, ঐ আন্দোলনকে ধ্বংস করতে চাইতে পারতো সরকার। কিন্তু তেমন কিছুর নামই তো মুখে নিচ্ছে না বিএনপি-জামাত। তারা তেমন কোনো আন্দোলন করতে পারবে বলে তাদের লোকেরাই বিশ্বাস করে না। তাহলে সরকার কী নিয়ে দুশ্চিন্তা করবে?

সন্ত্রাসীরা বোমা মেরে মানুষ খুন করে যাচ্ছে। এটাই এখন বড় সমস্যা। মানুষ চাইছে সরকার যেকোনোভাবে এটা থামাক। সরকারও তা করতে চাইছে। বিএনপির মতানুযায়ী যদি এটা সরকারের কাজ হয়ে থাকতো তবে এ বোমাবাজি বন্ধ করে দিলেই তো সরকার বেচেঁ যায়, তাদের সামনে আর কোনো ঝামেলা থাকে না। দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারে। সরকারও বাহ্বা পেয়ে নির্বিঘ্নে থাকতে পারে। কিন্তু তা তো হচ্ছে না।

এ নৃশংস কাজ সরকার করছে না বলেই তা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য খালেদার নির্দেশে তার পালিত অন্ধকারের জীবেরা এটা করছে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে এ কাপুরুষোচিত চোরাগুপ্তা হামলার পথ বেছে নিয়েছে খালেদারা।

নির্লজ্জ মিথ্যুক বলে এমন জঘন্য কুকর্ম করে আবার অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে তারা। জনগণের টাকা চুরি করে বিলাসিতায় বাস করে সেই জনগণকেই জীবন্ত পুড়িয়ে কয়লা বানাচ্ছে এ পিশাচরা, ক্ষমতায় যাওয়ার ধান্ধায়, দুর্নীতিবাজ তারেক ও রাজাকারদের বাঁচাতে। সাধারণ মানুষকে এভাবে খুন করার অধিকার কে দিয়েছে খালেদাকে?

প্রতিনিয়ত খালেদার পোষা সন্ত্রাসীরা আটক হচ্ছে, গণপিটুনি খাচ্ছে। বোমা মারতে গিয়ে এ পর্যন্ত যারা ধরা পড়েছে তাদের সবাই ছাত্রদল, যুবদল ও শিবিরের। এদের নাম-পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। আবার খালেদারা একবারও নিহত মানুষগুলির জন্য শোক প্রকাশ করে নি বা এ সন্ত্রাস বন্ধ করার দাবীও জানায় নি। এটাই বলে দেয়, এ জাঙ্গলিক বোমাবাজির জন্য কারা দায়ী।

নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে মারা বন্ধ করতে যখন দেখামাত্র গুলি করার বিষয়টি আলোচনায় এল তখন খালেদার সাঙ্গপাঙ্গরা হায় হায় করে উঠলো। ঐ বোমাবাজ খুনীরা যদি খালেদা-নিজামীর কর্মী নাই হবে তাহলে তাদের গুলি করার কথায় খালেদারা ভয় পেল কেন? নির্দোষ সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে কিছু বিষাক্ত নর্দমার কিটের জীবন খালেদার কাছে বড় হয়ে গেল কেন?

বিএনপি-জামাতিরা অনলাইনে অহরহ তাদের সঙ্গীদের আহবান জানাচ্ছে মানুষ পোড়াতে, গাড়ি জ্বালাতে। আবার নিজেদের সন্ত্রাসীদেরকে অভিনন্দিতও করছে মানুষ খুন করার পর।
যেড ফোর্স আন্দোলন সেল নামের বিএনপি গোত্রীয় এক ফেসবুক পেজের ১৬ই জানুয়ারির একটা পোস্ট উল্লেখ করছি। তারা বিএনপি-জামাত কর্মীদের উপদেশ দিয়ে লিখেছেঃ-

“এবার আপনারা আওয়ামী লীগের ঐ পতাকা ও ব্যানার গজারী লাঠিতে বেধে এবং সাথে আক্রমন করার মত সরঞ্জাম নিয়ে ১৫ জন বা ২০ জনের গ্রুপ করে, সুবিধামত সময়ে জয় বাংলা … জয় বঙ্গন্ধু…বলে মিছিল বের করে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ভ্যানের কাছে চলে যান বা টহল পুলিশের কাছে চলে যান। পুলিশ নিজেদের সহযোগী মনে করে রিলাক্স মুডে থাকবে। পুলিশ কিছু বুঝে উঠার আগেই অতর্কিত আক্রমন করে ফেলবেন। অস্র কেড়ে নিয়ে গাড়িতে আগুন দিয়ে গোপালী পুলিশগুলোকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। একই কায়দায় রাস্তায় যানবাহনে, আওয়ামীলীগের অফিসে, আওয়ামী নেতাদের বাড়িতে, হলুদ মিডিয়ার কর্ণধারদের অফিসে বা বাড়িতে আক্রমন চালাবেন। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই অপারেশন শেষ করে নিজের নিরাপদ অবস্থানে চলে যান।”

সূত্র: https://m.facebook.com/Zforceandolon

যে কাপুরুষেরা আন্দোলনের ডাক দিয়ে নিজেরা গর্তে লুকিয়ে থাকে আর কর্মীদের দিয়ে নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারে এবং এটাকেই আন্দোলন বলে চালায়, যে ভ্রষ্টা নেত্রী নিজের ঘরের মেয়েদের পরীক্ষার জন্য নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে দেশের ১৫ লাখ শিশুর পরীক্ষা হরতাল দিয়ে বন্ধ করে রাখে তাদেরকে সমর্থন করা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। কোনো মুসলমান এমন দুষ্কর্ম সমর্থন করতে পারে না। এদের সাথে যারা আছে তারা মুনাফিক, জাহান্নামের সর্বনিম্নে যাদের জায়গা।

হরতাল মানে কোনো দাবী আদায়ের জন্য স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা, জোর করে কাউকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা নয়। অবরোধও তাই। যারা দাবীর পক্ষে তারা হরতাল পালন করবে আর যারা দাবীর পক্ষে নেই তারা তা পালন করবে না। এ অধিকারই গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে হরতাল-অবরোধ পালন করানোর চেষ্টা করা শুধু অগনতান্ত্রিকই নয়, অপরাধও।

মানুষ হরতাল-অবরোধ না মেনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে, দোকান-পাট খুলছে, রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ বিএনপি-জামাতের ডাকে আন্দোলন করতে রাজি নয়। তাই বিএনপি-জামাতীরা বোমা মেরে, পুড়িয়ে, খুন করে, ভয় দেখিয়ে মানুষকে হরতাল-অবরোধ পালনে বাধ্য করতে চাইছে।

যে কেউ সরকারের কাছে যেকোনো দাবী জানাতে পারে। দাবী তুললেই তা মানতে হবে এমন কোনো আইন নেই। দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলন হতে পারে। তবে সে আন্দোলনের জন্য মুল্য যা দেওয়ার আন্দোলনকারীরা দিবে। দরকার মনে করলে নিজেদের জীবন দিবে, রাস্তায় শুয়ে থাকতে হলে থাকবে। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারা অসভ্য জংলিদের কাজ।

আইএসআইএস নিরাপরাধ মানুষ খুন করে সারা বিশ্বে নিন্দিত হচ্ছে। তবে অন্ততঃ দু’টি কারণে তাদের কৃতকর্ম বিএনপি-জামাতের নরাধমদের জঘন্য অপকর্মের চেয়ে কম বেদনাদায়ক। আইএসআইএস শুধু তাদের চিহ্নিত শত্রুদের খুন করে এবং তারা তাদের সকল দুষ্কর্মের দায় স্বীকার করে। কিন্তু বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসী জীবেরা এত নীচু শ্রেণীর কাপুরুষ যে, নিজেদের কুকর্মের দায় স্বীকার করা তো দূরের কথা, বিনা কারণে তারা খেঁটে খাওয়া মানুষদের খুন করে যাচ্ছে।

এখন তাই বিএনপি-জামাতের অমানুষদের প্রতিহত করার আন্দোলনই শুরু হওয়া দরকার।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×