somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে জঙ্গিরা

০৬ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর হত্যাকাণ্ডটি জঙ্গি হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা নিজেদের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। এ ধরনের হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা নিজেদের অস্তিত্ব ও শক্তি উভয়ই

প্রকাশ করেছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জেএমবির মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গি গোষ্ঠীকে র‌্যাব শক্তিশালী আক্রমণের মধ্য দিয়ে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু এখন জঙ্গি নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের ‘হচ্ছে’ বা ‘হবে’ নীতি অনুযায়ী চললে জঙ্গিরা আবার পুনর্গঠিত হবে। আমার মতে, জঙ্গিদের কার্যক্রম রুখতে তাদের দৌড়ের ওপর রাখতে হবে। কিন্তু এমনটি করা যাচ্ছে না বলেই তারা প্রায়ই সংগঠিত হয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। এর ফলে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ আরও অনেক দল গঠিত হচ্ছে। যারা টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সাহস ও ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। আব্দুর রশিদ বলেন, জঙ্গিরা মিতুর হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে নিজেদের দুঃসাহস প্রকাশ করতে চাইছে। কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্য হবে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করা। তিনি আরও বলেন, প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় জঙ্গিদের শাস্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এজন্য দ্রুত বিচার ব্যবস্থার আওতায় এনে জঙ্গিদের গ্রেফতার ও শাস্তি দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জঙ্গিবিরোধী আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এনে জঙ্গিদের বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) আছে কি নেই এ নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক আছে। আর বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততা আছে এমন ধারণা পাকাপোক্ত করতেই জঙ্গিরা একে একে টার্গেট কিলিং করছে। একইসঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জঙ্গিরা নিজেদের শক্ত অবস্থান আছে এমনটি প্রমাণ করতে চাইছে। এই নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, জঙ্গিদের রুখতে কাউন্টার টেরোরিজম বৃদ্ধি করতে হবে। তার মতে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই নমনীয় হওয়ার সুযোগ নেই এবং এদের বিরুদ্ধে নমনীয় কৌশলও নেওয়া যাবে না। বরং এদের বিরুদ্ধে শিগগিরই শক্ত অভিযান শুরু করতে হবে। এমনকি দেশীয় জঙ্গিদের যে মদদদাতারা উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। এই মদদদাতাদের জঙ্গিদের থেকে পৃথক করতে হবে। জঙ্গিদের ব্যাপারে আর একমুখী কৌশলে থাকা যাবে না। এজন্য সংশ্লিষ্টদের দ্বিমুখী কৌশলে যেতে হবে। মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, এখন নিরীহ মানুষদের খুনের মাধ্যমে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হচ্ছে তার অনেকগুলোই পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কারণে ঘটছে না। আমরা লক্ষ্য করছি, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শিয়া ও ইসলামী সুফিবাদে বিশ্বাসীদেরও হত্যা করা হচ্ছে। ধারণা করছি, আইএস যেভাবে টার্গেট কিলিং করে, বাংলাদেশের জঙ্গিরাও নিজেদের অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে আইএসের মতো করে সহজেই হত্যা করা যায় এমন মানুষদের হত্যা করছে। বাংলাদেশেও আইএস আছে এই বার্তা বিশ্বকে জানানোর জন্যই তারা এমন করছেন।

তবে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, দেশে সম্প্রতি জঙ্গি হামলায় অপরাধীদের গ্রেফতারে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে অভিজিৎ ও জুলহাস হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য হত্যা মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও আলাপচারিতায় ধারণা করছি যে, অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য তারা তদন্তের খুব কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গেছে এবং শিগগিরই পুলিশ অপরাধীদের ধরবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আবার এই কথাও সত্য যে, এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ক্ষেত্রে অপরাধী গ্রেফতারে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে তার ফলে আমরা অনেক হত্যাকারীকেই চিহ্নিত করতে পারছি না। এর ফলে জনমনে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। জঙ্গিদের পরবর্তী টার্গেট কে হবেন তা নিয়ে সাধারণের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমি মনে করি, জঙ্গি গোষ্ঠীকে নির্মূল না করলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৯:৩৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×