somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওরা নারী অগ্রযাত্রার প্রতীক

০৭ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গ্রাম বাংলার সড়কে এটি কোনো শোভাযাত্রা বা সাইকেল র‌্যালি নয়। কোনো এনজিওর কর্মসূচিও নয়। এটি নারী অগ্রযাত্রার প্রতীক। এ দৃশ্যই বলে দিচ্ছে নারীরা আর পিছিয়ে নেই। তারাও আজ পারবে নিজেরাই সামনে এগিয়ে যেতে। এটি প্রতিনিয়ত স্কুল ছুটির পর ফিরে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ পথের দৃশ্য। দিনাজপুরের সদর, বিরল, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কেই এভাবেই স্কুল যেতে দেখা যাবে মেয়েদের। দূর-দূরান্ত থেকে মেয়েরা দল বেঁধে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসছে। স্কুল ছুটির সময় একসঙ্গে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় মনে হতে পারে এটি হয়তো সাইকেল র‌্যালি। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তারা প্রতিনিয়তই এগিয়ে যাচ্ছে। এসব স্কুলছাত্রী কেউ ১ থেকে ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত সাইকেলেই আসছে স্কুলে। যদিও বৃষ্টি এলে সমস্যা হয়। সাইকেল না হলে পায়ে হেঁটেই আসতে হতো অথবা কিছুটা পথ হেঁটে এসে হয়তো রিকশা-অটো-ভ্যানে আসতে হতো। কিন্তু স্বাধীনভাবে নিজে সাইকেল চালিয়ে এলে সময় ও সুবিধা দুটোই পাওয়া যায়। বিরলের অকড়া গ্রাম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী কামরুন নাহার প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে বিরল পাইলট হাইস্কুলে আসে। এ স্কুলে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের মহেশপুর থেকে আসে পাঁচজন, পুড়িয়া থেকে ছয়জন। এভাবে দূর-দূরান্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন শ্রেণির পড়ুয়া ২০-২৫ জন আসে একই ভাবে। এ ব্যাপারে কামরুজ্জামানের কন্যা কামরুন নাহার জানায়, কোনো অসুবিধা হয় না। তবে বৃষ্টি-ঝড়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিরলের রঘুপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হোসেন আলী বলেন, এ স্কুলে শতকরা ৩৫ ভাগ মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। যখন ৮০ ভাগ মেয়েরা সাইকেলিং করে স্কুলে যাতায়াত করবে তখন মনে করব মেয়েরা লেখাপড়া থেকে সব দিকে এগিয়ে গেছে তারই প্রতিফলন। যে সব মেয়েরা সাইকেলিং করে স্কুলে যাতায়াত করে তাদের মাঝে কোনো প্রকার জড়তা থাকে না। তারা অনেকটা অগ্রগামী হয়। তাই সব ছাত্রীদের সাইকেল নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সাইকেল নিয়ে আসতে পারে না। এ ছাড়াও রাস্তায় কেউ বিরক্ত করলে জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব বলে তাদের জানিয়েছি। তবে দেশের সার্বিক উন্নতি হলেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও নারীরা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। অনেক গ্রামে ভালো রাস্তা-ঘাট নেই, শিশুরাও স্কুলে যেতে পারছেন না। কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে হচ্ছে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিয়ে। ধর্মীয় বাধা বা মোল্লাদের ভয়ভীতি কমে গেছে। আজ দিন পাল্টেছে নারীরা নিজেদের জীবনের উন্নতি করতে চায়। চায় পুরুষদের পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে অবদান রাখতে। আর ঘরে থাকতে তারা চায় না। তাই তারা বেরিয়ে পড়েছে শিক্ষার আলো নিতে, বিশ্বকে জানতে। সমাজের পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীদের ন্যায্য সম্মানসহ সব পেশায় দক্ষতার ছাপ রাখতে। সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×