somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গর্তে লুকানো কিছু সমকামিতা

২৩ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গর্তে লুকানো কিছু সমকামিতা

ক.
দুজন গেলে আমাদের কথা গুরুত্ব দেবে না, ওর চে' বরং তিনজন নিয়ে যাওয়াটাই বেটার হবে। যাকে নায়েবে মোহতামিম বলা হয়, লম্বা লাল কালো মিশ্রিত দাড়িঅলা তিনি। আমাদেরকে এই ফজরের পরে দাড়ানো দেখে তিনি চশমার উপর থেকে চোখ বের করে বললেন, কী হয়েছে, বলেন? আমরা কী করে কথাটা শুরু করবো ইতস্ততবোধ করতে লাগলাম, তখন আমার পাশের ছাত্রটি বলতে শুরু করল, -অমুক কারী সাব হুজুর রাত্রি আমাদের ক্যারাত খানায় ঘুমায়, আর ছাত্ররা তার খেদমত করে। না.মোহতামিম সাঃ কিছুটা 'এ কত্ত বড় সাহস' বলার ভঙ্গিতে বললেন, কবে থেকে এরম করতেছে সে? আগে জানাওনি ক্যান? আমরা আমতা আমতা মুখ করে চুপচাপ বসে রইলাম। তারপর তিনি বললেন, যাও তোমরা, আমি দ্যাখপানি।
`
খ.
রাতে লাইট বন্ধ হয় শোয়া দশটায়। এর ভেতরে খাবার-দাবার খেয়ে বিছানা করে শুয়ে পড়তে হবে, এটাই সেখানের নিয়ম। বড় রুম, অথচ সেখানে রাত্রে থাকা ছাত্রের সংখ্যা নিতান্ত কম। আমি সহ পনের বিশজন। তো ঠিক শোয়া দশটায় লাইট অফ হল, গুমগুমে অন্ধকার। গরমে ফ্যান চলছে তার নিজস্ব শব্দে। খানিক পরে মৃদু ধাক্কায় দরজা খুলে চলে এলো সেই 'অমুক' নামের কারি সাব। কেউ কোন কথা বললো না, বা বলার সাহস পেল না। তখন আমার কান খাড়া হয়ে গেল গতদিনের মতো কিছু অদ্ভুৎ শব্দ শোনার অপেক্ষায়। এরঠিক আধঘন্টা অথবা চল্লিশ মিনিট পর গালে ভাত আটকে যাওয়ার মতো কারো গোঙরানির আওয়াজ শুনতে পেলাম। কে হতে পারে সেটা? আমার ভেতরে খুব আগ্রহ জন্মালো। একদিন পড়ে ওঠার পর কারি সাব আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, রাত্রে আমার সাথে দেখা কোরো! মনে থাকে যেন! আমি রাতে চলে এলাম তার কাছে, সে আমাকে পা টিপতে বলল। আমি টিপে দিলাম। হাত টিপতে বলল, টিপলাম। আর ভাবতে লাগলাম তালি এরই নাম 'খেদমত'! তাহলে এটা নালিশ করার কী? হঠাৎ তিনি তার লোমঅলা এক পা আমার রানে উঠিয়ে আমার হাত যথাস্থানে নিয়ে গেলেন, আমার গা ঘেমে গেল তখন। এক ঝটকায় সরিয়ে নিলাম সব। এবং অন্ধকারে দৌড়ে আসলাম।
`
গ.
দিত্বীয় বছরে সে কারি সাব বিদায় নিল। কিন্তু আমি ছিলাম। বছরের শেষ দিক, বোধহয় বৃষ্টি হচ্ছিল তখন। এক দুপুরে মসজিদের তিনতলায় বসে আমি ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বই পড়ছিলাম, ঐখানে নাকি কতৃপক্ষ কর্তৃক ওঠা নিষেধ। সেই না.মোহতামিম সাঃ আমাকে নিচ থেকে দেখে উপরে উঠে আসলেন, আমি তো খুব ভয় পেয়ে গেলাম কিনা জানি বলে এখন। কিন্তু সেসব কিচ্ছু না। উনি এসে আলতো করে বকা দিলেন, এই এখানে উঠছির ক্যানো? তাই বলে আমার লুঙ্গির উপর দিয়ে কিছু ছুঁলেন।
`

`
(আমারও একটি শৈশব ছিল/বাল্যস্মৃতি)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:১০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×