somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমান ক্যামেরার বাজার, ফটোগ্রাফি; আমার হালকা এ্যানালাইসিস

১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বহুদিন ধরেই ক্যামেরা নিয়ে আর ফটোগ্রাফি নিয়ে কিছু একটা লেখার ইচ্ছা ছিলো। কিন্ত ঠিক সময়ও হচ্ছিলো না আবার ইন্সপাইরেশন পাচ্ছিলাম না। আজকে মনে হলো যা আছে ভাগ্যে শুরু করে দিই।

আচ্ছা, শুরু করার আগে বলে নিই, আমি কি নিয়ে কথা বলবো। আমি বলবো ফটোগ্রাফি নিয়ে, সাথে ক্যামেরার বাজার, ট্রেন্ড, আর এখন কি হচ্ছে সেইসব নিয়ে। আমার কথা একদমই আমার পার্সোনাল অপিনিয়ন, যেহেতু এটা আমার পার্সোনাল ব্লগ !

আমি ২০১১ থেকে ছবি তুলি, ছবি তোলার সাথে আছি, অনেক ফটোগ্রাফার ভাই এর সাথে পরিচয় আছে, তারাও একসময় ব্লগিং করতেন। ওইভাবে অনেকের সাথে পরিচয়। এখন তারা আর লেখেন না বা বেশিরভাগকেই সামু ব্লগে দেখি না।

আমি মোটামুটি টেক স্যাভি পারসন, তাই নতুন কিছু, নতুন গ্যাজেট, নতুন ক্যামেরা-লেন্স এইসব নিয়ে বরাবরই একটু জ্ঞান রাখতে ভালো লাগে। তাই ভাবলাম এইটা নিয়েই লিখি।

যাইহোক। ফটোগ্রাফির ব্যপারে বলতে গেলে- মানুষ এখন প্রোফেশনালি অনেকেই অনেক রকম ফটোগ্রাফি করে যাচ্ছে, একটা টেন্ডেন্সি দেখা যায় নতুন ফটোগ্রাফার দের মধ্যে (আমিও নতুন) তারা ভালোমতো না জেনেই ওয়েডিং বা এইসব জায়গায় যাওয়া শুরু করে, তাদের জন্যে এ্যাডভাইস থাকবে- এইসব অবশ্যই ভালো তবে শুরু করার আগে ফটোগ্রাফি কি, কেন, লং টার্ম গোল কি এইসব ভেবে নেওয়ার।

আর আরেকটা ব্যপার, বড় বড় সব ফটোগ্রাফি কম্পিটিশন, দেশের কম্পিটিশন এইসবে পার্টিসিপেট করা ভালো, আমি এই ভুল টা করেছি, বহুদিন কিছু করা হয়নি। এখনও করিনা। হয়তো ইগো হয়তো বা অন্য কিছু, তবে এইসবে পার্টিসিপেশনের আগে, জাজেস কারা, তাদের এ্যাবিলিটি কতোখানি, আর তাদের ফটোগ্রাফিক সেন্স কেমন সেইসব দেখে নেওয়া ভালো।

বাজারে এখন অনেক রকমের ক্যামেরা আছে, মিররলেস, এসএলআর, ডিএসএলআর, কম্প্যাক্ট। প্রথমে বলি, মিররলেস ক্যামেরা হচ্ছে, সেই ধরণের ক্যামেরা, যার মধ্যে ডিএসএলআর এর মতো মিরর নাই, আর ভিউফাইন্ডার টা ইলেক্ট্রনিক- তাই সাইজে অনেক কম্প্যাক্ট কিন্ত ফিচারে সবকিছু ডিএসএলআর এর মতোই বা বেটার কিছু।
মিররলেস টাই এখন সবচেয়ে বেশী কনভেনিয়েন্ট কারণ
১। সাইজে ছোটো (তবে বড় লেন্স লাগালে বডির জন্যে ব্যালেন্সে প্রবলেম হতে পারে, সেইক্ষেত্রে গ্রিপ হেল্প করে)
২। লেন্স বেটার (যদিও দাম একটু বেশী)
মিররলেসের অসুবিধাও এইসবই, লেন্সের সাইজের কারণে বডিটা ছোটো তাই প্রবলেম হয়ে যায়। তবে মিররলেস ক্যামেরার জন্যে অনেক ভালো ভালো অপশন বাজারে আছে।কয়েকটা কমন এক্সাম্পল দিলে মিররলেস ক্যামেরার মধ্যে আসে- ফুজিফিলম এক্স টি২০০, এক্সটি২, এক্সটি৩ বা সনির এ৬০০০ (৩০ হাজারের আশেপাশে এরচেয়ে ভালো কিছু হয়না), এ৬১০০, এ৬৬০০ পর্যন্ত। এইসব আবার এপিএসসি ফর্ম্যাট এর মিররলেস, ফুল ফ্রেমের মিররলেস নিলে ক্যাননের কিছু আছে ইওএস আর৫, ইওএস আর, বা সনির এ সেভেন এস থ্রি এসব।

সামগ্রীক দিক ভেবে দেখলে আমার মতে, ক্যাননের বেস্ট একটা মিররলেস এপিএসসি ফর্ম্যাট (যেটা ডিএসএলআর এ ইউজ হওয়া সেন্সর) এর ক্যামেরা ক্যানন এম৫০, সনির এ৬১০০, ফুজির এক্সটি ২০০ এসব। এসবের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার এর মধ্যে।

আচ্ছা এবার লেন্সের ব্যপারে আসি, লেন্স একটা ইম্পর্ট্যান্ট ফ্যাক্টর যেটা আমরা ক্যামেরা কেনার সময় ভুলে যাই। ক্যামেরা বডির চেয়ে লেন্স ইম্পর্ট্যান্ট আমার মতে, একটা ভালো লেন্স যেমন ৫০ এমএম 1.4 এর দাম অনেক বেশী ৫০ এমএম 1.8 এর চেয়ে। এর পেছনে কারণ আছে, বোকেহ থেকে শুরু করে শার্পনেস সবকিছুই লেন্সের উপরে অনেকখানি ডিপেন্ড করে, কালার, ফোকাসিং এসবেও লেন্স একটা বড় পার্ট।

কিট লেন্স বা ১৮-৫৫ বা মিররলেসের ১৫-৪৫ অনেক ভালো লেন্স সন্দেহ নাই, কিন্ত যখন প্রোফেশনালি কাজ করতে যাওয়ার প্রশ্ন আসে তখন এসব লেন্সের চেয়ে একটু দামী- একটু ভালো লেন্স অনেক ভালো পার্ফরমেন্স দেয়। তাই আমার সাজেশন শুরুতে, ১৮-৫৫ দিয়ে শুরু করলেও, একটু ভালো প্রাইম লেন্স বা ৮৫ এমএম, জুমের মধ্যে ৭০-২০০ 2.8 বা ২৪-১০৫, ১৭-৪০ এসব লেন্স নিয়ে ট্রাই করে দেখলে অনেক ভালো আইডিয়া হবে, সেন্সও ডেভেলপ করবে। ক্যামেরার বাজেটের মধ্যে অর্ধেক বাজেট একটা ভালো লেন্সের জন্যে রাখা উচিত। সেটা কিট হোক, বা প্রাইম হোক।

প্রাইম লেন্স ফটোগ্রাফি শিখতেও হেল্প করে। ফটোগ্রাফি বলতে ক্রিয়েটিভ ভিজুয়ালাইজেশন, স্টোরিটেলিং, লাইট, কালার, কম্পোজিশন বুঝতে লেন্স টা অনেক বেশী ইম্পর্ট্যান্ট।

প্রোট্রেটের জন্যে ভালো একটা লেন্স ৮৫ এমএম, বা ৭০-২০০ 2.8 বা এই ধরণের বড় এ্যাপারচারের কোনো জুম লেন্স। দাম ১০০০ ডলারের আশেপাশে, আর অলএ্যারাউন্ড কিছু হলে একটা মোটামুটী কিট আর জুম (টেলিফটো), সাথে ওয়াইড প্রাইম। তারপর ধীরে ধীরে নিজের স্কিল ডেভেলপ হলে অন্য সব অপশন নিজেই বোঝা যায়।

লাইটিং। অনেকেই বলে লাইটিং টা ন্যাচারাল হলেই ভালো, কিন্ত সাজেশন থাকবে- আর্টিফিশিয়াল লাইট/এক্সটার্নাল ফ্ল্যাশ/ এসব ভালোমতো শেখার। দুইটার কম্বিনেশনে ভালো ছবি হয়, যেটা অন্যদের ছবি থেকে নিজের ছবিকে স্ট্যান্ড আউট করতে হেল্প করবে। লাইটিং টা ভালো ছবির একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, কারণ লাইটিং এর কারণে হোয়াইট ব্যালেন্স, কালার, ডিটেইল এসবে অনেক বড় ইফেক্ট পরে। লাইটিং এর জন্য বাজারে কিছু ভালো এক্সটার্নাল ফ্ল্যাশ আছে, ইয়ংনুও, গোডোক্স, ভিলট্রক্স ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাশ অনেক ভালো। ইয়ংনুও ৫৬৫ টু বা গোডক্স ৮৬০ অনেক ভালো ফ্ল্যাশ। দাম ৬ থেকে ২০ হাজার। বিগিনারের জন্যে অটোমেটিক বা ম্যানুয়াল দুইটাই ভালো, ম্যানুয়াল ফ্ল্যাশে তুলতে পারলে প্রথম দিকে একটু কস্ট হলেও ম্যানুয়ালে শেখা ভালো।

আচ্ছা, এখন কথা হচ্ছে ডিএসএলআর এর ব্যপারে। ক্যানন বা নাইকন তাদের ফোকাসটা অনেকটাই মিররলেসের দিকে দিয়ে দেওয়ায়, ডিএসএলআর কিছুটা অবসোলিট হয়ে যাচ্ছে, তবে এখনও বাজারে অনেক ভালো ডিএসএলআর আছে, ইন ফ্যাক্ট, ডিএসএলআর দিয়ে শুরু করাই ভালো আমার মতে। কারণ বেশী লেন্স এ্যাভেইলেবল, গ্রিপ ভালো, বিল্ড কোয়ালিটি ভালো, সাথে প্রচুর অপশন। যেমন ক্যাননের ৭৫০ডি, ৮০০ডি, ৭৭ডি, ৮০ডি এসব বা নাইকনের ডি৫৬০০, ডি৩৩০০ এইসব এখনও অসাধারণ পার্ফরমেন্স দেয়। কালার থেকে শুরু করে, ক্যামেরার অপারেশন অনেকটাই ইজি, বিগিনার দের সুবিধা হবে। এছাড়া ক্যামেরা টা যতোটা না ফ্যাক্ট, তারচেয়ে লেন্স অনেক বেশী প্রায়োরিটি পায়। লেন্স এর কথা চিন্তা করলে এসবের, বিশেষ করে ক্যাননের মাউন্ট (ইএফ) এর জন্য প্রচুর লেন্স এ্যাভেইলেবল, যেটা মিররলেস আর বা এম লাইনআপ এর ক্যামেরায় বেশ কম আর কস্টলি।

আসলে, দিনশেষে, ভালো ফটোগ্রাফির জন্যে ক্যামেরা লেন্স- এইসব যতোটা না ইম্পর্ট্যান্ট তারচেয়ে অনেক বেশী ইম্পর্ট্যান্ট হচ্ছে, অনেক অনেক ছবি তোলা- ভালো ফটোগ্রাফার দের ছবি দেখা। ছবিতে গল্প খোঁজা, নতুন কিছু করার চেস্টা করা, কারণ দুনিয়া এখন এমন অবস্থায় চলে গেছে, সামনে এতো অসাধারণ কিছু ছবি আমরা এ আর, ভি আর, এ আই এর কল্যাণে দেখবো- সেসব আমাদের ফটোগ্রাফির ট্রেডিশনাল আইডিয়ার বাইরে। তাই ভালো কিছু করতে গেলে, সবসময় আপডেটেড থাকতে হবে। নিজের ক্যামেরা কে বুঝতে হবে, একটা ১০ বছর আগের ডিএসএলআর ক্যানন ৭ডি, সেটাও কিন্ত এনাফ, যদি আপনার ফটোগ্রাফিক সেন্স থাকে- নিজের মাথায় গল্প সাজানোর- সব সিচুয়েশনে, লাইটিং এ কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে। নতুন কিছু হলেই সেটা ভালো না, সবকিছুই একরকম গিমিক, আলটিমেটলি, নিজেকে বুঝতে হবে ভালো ছবি কি, কেন সেটা ভালো হলো আর সবসময় চেস্টা করতে হবে নিজের দেখার চোখটাকে ইম্প্রুভ করার, তাহলেই ফটোগ্রাফিতে ইমপ্রুভমেন্ট দেখতে পাবেন, সেটা যেই গিয়ারেই হোক না কেন।

এইটা একদম বিগিনার দের জন্য লেখা, আমার কিছু লিখতে ইচ্ছা হচ্ছিলো তাই লেখা। কারও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে- করতে পারেন। আমি সব জানি তা না, তবে অনেক কিছুরই উত্তর দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। সবাই ভালো থাকবেন।

তানজিম/ ১৫ নভেম্বর/২০২০










সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×