বাসে ভিতরটা লোকজনে গিজগিজ করছে।যেখানে পা রাখতেই জায়গা পাচ্ছিনা সেখানে বসার জন্য একটা সিট পাবো সেটা আমি ভুল করেও ভাবিনি।কিন্তু আমার ভুল কে সত্য করে একজন লোক সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।সামনের স্টেশনেই ভদ্র লোক নামবেন।আমি আর ডানে-বায়ে,সামনে-পিছনে না দেখে তাড়াতাড়ি বসে পরলাম।কারন এত লোক দাঁড়িয়ে ছিল যে,আমি ডানে-বায়ে দেখতে দেখতে যেকোন ভদ্রলোক সিটখানা দখল করে নিতে পারেন।বসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম।হঠাৎ দেখি একজন মধ্য বয়স্ক লোক ছোট একটা শিশু নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।এত লোকের ভিড়ে বাচ্চাটা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে লোকটির খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারলাম।পাশের সিটের মহিলা লোকটার কষ্ট বুঝতে পেরে বাচ্ছাটা কোলে নিতে চাইলেন।কিন্তু বাচ্ছাটা মহিলার কোলে যেতেনা যেতেই কান্না শুরু করে দিল।এত জোরে কাঁদছিল যে বাসের সকল যাত্রীর মনোযোগ বাচ্ছাটার দিকে চলে আসলো।মেয়েরা মায়ের জাত,তথাপি ঐ মহিলা বাচ্ছাটাকে রাখতে পারছেন না।শেষ অবধি লোকটা এই ভিড়ের ভিতরেই বাচ্ছাটাকে আবার নিজের কোলে নিলেন।সাথে সাথেই বাচ্ছাটার কান্না থেমে গেলো।বাচ্ছাটা তার বাবার কাঁধে শুয়ে ভয়হীন চোখে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।বুঝলাম বাচ্ছাটা তার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।আমি অবাক হয়ে গেলাম,যে শিশুটি এখনো কথা বলতে শিখেনি,এতটাই অবোধ যে,আগুনের কয়লায় হাত দিতে ভয় করেনা সে শিশুটিই তার বাবার কোল ছেড়ে একজন মহিলার কাছে থাকতে চাইলোনা।আর শিশুটির বাবাও এত ভিড় আর ঠেলাঠেলির ভিতর বাচ্ছাটাকে কোলে নিয়ে অনেক কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছে।বাবা-সন্তানের এই ভালবাসা দেখে আমার চোখে জল চলে আসলো।চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো;বাবা,তোমাকে অনেক ভালবাসি।আমি উঠে দাঁড়িয়ে লোকটাকে বসতে দিলাম।আমি শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি, আজ যে শিশুটি তার বাবার কোলে শোয়ে নিজেকে নিরাপদ ভাবছে,আগামীকাল শিশুটি যখন বড় হবে তখনতো তার বাবাও বৃদ্ধ বয়সে এই সন্তানের কাছে নিরাপদ আশ্রয় চাইবে।কিন্তু আজ এই বাবা নিজে কষ্ট করে যেভাবে বাচ্ছাটা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,তার সন্তান কি আগামীকাল তার বাবার জন্য এরকমটা করতে চাইবে?যদি তাই হতো তাহলে কেন বৃদ্ধাশ্রম?কেন যে বাবা মা নিজে না খেয়ে সন্তান কে মানুষ করেছে,সন্তানের অসুখ হলে সারা রাত তার মাথার কাছে বসে থাকে,প্রশ্রাব করে শিশু যখন কাথা ভিজিয়ে ফেলে তখা যে বাবা মা সন্তান কে বুকে নিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দেয়,সেই বাবা মা জীবনের শেষ সময়টুকু কেন এই আদরের সন্তানকে ছেড়ে কাটাবেন?তারা কি তাদের শেষ সময়টুকুতে আমাদের কাছ থেকে একটু ভালবাসা আশা করতে পারেন না?আমার ইচ্ছে হচ্ছিল পৃথিবীর সব বৃদ্ধাশ্রমগুলো ভেঙ্গে গুড়ু করে দেই।যারা নিজের বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রাখে তারা কি কারো সন্তান হয়ার যোগ্যতা রাখে?আমাদের বাবা-মা তো সারা জীবন আমাদের জন্য করে গেছেন।তবে আমরা কেন ওনাদের জীবনের শেষ সময়ে ওনাদের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করবোনা।আমরা কি সত্যিই সৃষ্টির সেরা জীব?আমরা কি সত্যি মানুষ হয়ে জন্ম নেই,না জন্মের পর কিছু মানুষ হই আর কিছু পশু?
আলোচিত ব্লগ
গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”
গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন
অধরা বালিকা

লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন
যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।
সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন
২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি
সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।