somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক সালমান জাবেদ
তন্ত্র,মন্ত্র যতই জপি না কেন জবানে,যৌবনের আসিলে ঋতু রাজে,কোকিল কুহু কুহু সুরে গান করে, আমি পাগল তোমারি,প্রেম সুধা পানে, ভোমর পান করে মধু ফুলে বসে ,সে হোক গোলাপ বৈকি ঘাঁস ফুলে।আমার পরিচয় ছন্দের মাঝে।।

পলিটির মধ্যে গণতন্ত্র ও ধনিকতন্ত্রীদের যে সমন্বয় সাধিত হয় তার ত্রুটিপূর্ণ ভারসাম্যের ফলে পলিটির মধ্যে বিপ্লবের সূচনা হয়

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ নিয়ে আমার কিছু কথা,তার কারণ হলো আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, নাগরিক হিসেবে আমি / আপনার কতর্ব্য দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে আগামীতে আমার আপনার সন্তানে জন্য একটি সুন্দর ভবিষৎ উপহার দেবার জন্য দেশ কে এগিয়ে নেয়া,দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে সামনের দিকে আরো উন্নয়নশীল ১০ টা দেশের মধে্য স্থান করে নেয়া।আর তা সম্ভব আমাদের কঠোর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে।দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কে শিক্ষা,ঐক্য,খেলাধুলা,বিজ্ঞান,রাজনীতি,আইনের শাসন প্রায় সব শাখাতেই সমান ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।আমরা আমাদের নীজ দ্বায়িত্ব নীজ-নীজ ভাবে সম্পন্ন করতে হবে,তাহলে হয়তো আমরা একদিন জাতিগত ভাবে উত্তম হতে পরবো। কিন্তু বিপত্তি এখানে বাঁধে আমাদের নৈতিকতার সম্যস্যা আমাদের মাঝে হানা-হানী,মারা-মারি আমরা একে অপরের ভালো চাই না,আর যদি কেউ ভালো কিছু করে আমরা উৎসাহের বদলে তাকে তিষ্কার করি।

আমার আলোচনাটি আজকের এই বাংলাদেশের পেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিপূর্ণ তা জানি না তবে এই আলোচনাটি আমার চাইতে বহু বড় -বড় গুণী লোক করেছেন,আমি সামান্য এক ব্লগার যা আমার মনে হয় আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতার প্রয়োজন,দরকার সঠিক ও সুস্থ রাজনীতির।

তাই আমার লেখাটি অনেকের নিকট অপ্রিয় মনে হবে,যদি আমার এই লিখা করো মনে কষ্ট দেয় তা হলে আমাকে ক্ষমা করবেন।

শুরু যাক -এখন দেশের জন্য সবচাইতে বড় সম্যস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক,উদাহরণ হিসেবে বলা যায় :-

Politics এর প্রথম পুস্তকে এরিষ্টটল বিপ্লবের বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে আলোচনা করার পর কিভাবে তা এড়ানো যায় তার একটি পন্থা নির্দেশ করেছেন। বিপ্লব শব্দটি তিনি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তার ফলে যেকোন রকমের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিপ্লবের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণতন্ত্র, ধনিকতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, অভিজাততন্ত্রের যেকোন পরিবর্তন, সংবিধানের যেকোন সংশোধন- এককথায় সরকার বা সংবিধানের যেকোন পরিবর্তনকে তিনি বিপ্লবের আওতাভুক্ত করেছেন। এরিষ্টটল বিপ্লবের বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রীক স্টাটিস শব্দটি ব্যবহার করেছেন। স্টাটিস শব্দটির সঠিক ভাষান্তর বিপ্লব নয়। “স্টাটিস বলতে এমন একটি অস্তির অবস্থাকে বুঝানো হয়, যে অস্থির অবস্থাতে হিংসাত্বক বিস্ফোরন অবশ্যম্ভাবি হয়ে উঠে”। সুতরাং স্টাটিস শব্দের অর্থ বিপ্লব না হয়ে আস্থিরতা বা পরিবর্তনশীলতা হতে পারে। বিপ্লবের উদ্ভব ও শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন কিভাবে এক্ষেত্রে এরিষ্টটল কতগুলো কারন উল্লেখ করেছেন।

তার মধ্যে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এরিষ্টটলের নিন্নের আলোচনা গুলোর মিল আছে যথা:-

ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তারা যখন অত্যাচারী হয়ে উঠে এবং যখন তারা নিজেরা মুনাফা অর্জন করতে থাকে তখন যেমন পরস্পরের বিরোদ্ধে আঘাত করে। বর্তমান যে শাসন ব্যবস্থা তাদের ক্ষমতার উৎসের বিরুদ্ধেও আঘাত

ধনিকতন্ত্রে বিপ্লব সংঘটিত হয় মূলত জনতার প্রতি অন্যায় ও অত্যাচারমূলক আচরন করার ফলে এবং কিছুটা ধনিদের নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে।
পলিটির মধ্যে গণতন্ত্র ও ধনিকতন্ত্রীদের যে সমন্বয় সাধিত হয় তার ত্রুটিপূর্ণ ভারসাম্যের ফলে পলিটির মধ্যে বিপ্লবের সূচনা হয়।
অনেক সময় ভোটাধিকার বিন্যাসের সময় বিপ্লবের উদ্ভব হয়।

আমরা লক্ষো করলে দেখতে পাই যে আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতিতে জনতার অধিকার বলতে কিছুই প্রতিফলিত হচ্ছে না বরং ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত আছেন তারা আজ নিজেদের স্থান পাকা-পোক্ত করার জন্য ব্যস্ত জনগনের দিকে চোখ তুলে থাকাবার সময় তাদের নেই,অত্যাচারমূলক আচরনে জনগনের শ্বাস কন্ঠনালীর মাঝে এসে গেছে,এটা একটি রাষ্ট্রের জন্য বিপ্লবের করন মধে্য অন্যতম,জনগন এখন আমাদের দেশের রাজনীতির প্রতি অনিহা প্রকাশ করে,আমরা আরো দেখতে পাই যে-আইনে শাসন বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না-ক্ষমতার দাপটে ক্ষমতাশীলরা দিন-দুপুরে হত্যা,ঘুম,খুন করে আইনের ফাঁক দিয়ে সাবলীল সরাচর জনসম্মুখে চলাফেরা করছে,কখনো বা আই প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধ জগত এর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করছে।বিগত দিনের ইতিহাস টানতে চাই না,তা সকলেরই জানা আছে যেমন: র্যাবের সাত খুন,কিছু দিন পূর্বের কথা ছেলের সামনে মা'কে ধর্ষণ,ধর্ষণের প্রতিবাধ করায় পুলিশের গুলিতে ৩/৪ জন নিহত,বাবার অপরাধে ২বছরের শিশুর ১৮ ঘন্টা হাজত ইত্যাদি আর ও কত কি যে ঘটে যাচ্ছে তার কতটুকুই বা আমি/আমরা জানি। আর জনগনের ভোটাদিকার এখন কল্পনা করা অসম্ভব,স্বপ্নে দেখতে চাইলে ও এখন আর ভোটের স্বপ্ন চোখে আসে না, সুষ্ট ভোট হলো গনতন্ত্রের পূর্বশর্ত।শিক্ষাই হলো জাতির মেরুদন্ড তেমনি গনতন্ত্র হলো সঠিক দেশ চালনার মান দন্ড। দেশের উন্নয়নে গনতন্ত্র আবশ্যক।

এরিষ্টটল বিপ্লব প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

শাসন ব্যবস্থায় যারা অংশগ্রহণ করে তাদের এবং নিজেদের মধ্যে আচরনের মধ্যে তারা গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।
আইনহীনতা ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
গণতন্ত্রে ধনিকদের প্রতি সুবিবেচনা প্রদর্শন করতে হবে।
কতিপয়তন্ত্রে যারা স্বচ্ছল নয় তাদের স্বচ্ছলতার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
ধনিকতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের মধ্যে গণতন্ত্রে মেজাজ রক্ষা করতে হবে এবং কিছু কিছু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা যাতে গজিয়ে উঠতে না পারে- শ্রেনীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ লাভের ব্যাপারে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে।
এরিষ্টটল বিপ্লবের কারণ বিশ্লেষন ও তার নিবারনের পন্থা নির্দেশ করতে গিয়ে যেসব মতামত ব্যক্ত করেছেন সেগুলো যদিও তৎকালীন গ্রীক নগররাষ্ট্র গুলোর অবস্থার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে তথাপি এর উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। আধুনিক কালে যে কয়টি বৃহৎ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর পিছনে এরিষ্টটল প্রদর্শিত মনস্তত্ব সম্পূর্নরুপে বিরাজমান। যখন দেশের অধিকাংশ লোকের মনে যখন বঞ্চনার মনোভাব তীব্র আকার ধারন করে তখন তারা বিপ্লবের মাধ্যমে তার অবসান ঘটাতে প্রয়াস পায়। উদাহরনসরুপ যে রক্তাক্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তার মধ্যেও আমরা বহু মূর্ত অভিব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। শুধু বিপ্লবের কারণ বিশ্লেষনই নয় বিপ্লব এড়ানোর জন্য যেসব পন্থা নির্দেশ করেছেন সেগুলো আধুনিক বিপ্লব নিবারনের পন্থা হিসেবে সম্পূর্ন প্রযোজ্য।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:৪৩
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×