
আমার আলোচনাটি আজকের এই বাংলাদেশের পেক্ষাপটে কতটুকু যুক্তিপূর্ণ তা জানি না তবে এই আলোচনাটি আমার চাইতে বহু বড় -বড় গুণী লোক করেছেন,আমি সামান্য এক ব্লগার যা আমার মনে হয় আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতার প্রয়োজন,দরকার সঠিক ও সুস্থ রাজনীতির।
তাই আমার লেখাটি অনেকের নিকট অপ্রিয় মনে হবে,যদি আমার এই লিখা করো মনে কষ্ট দেয় তা হলে আমাকে ক্ষমা করবেন।
শুরু যাক -এখন দেশের জন্য সবচাইতে বড় সম্যস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক,উদাহরণ হিসেবে বলা যায় :-
Politics এর প্রথম পুস্তকে এরিষ্টটল বিপ্লবের বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে আলোচনা করার পর কিভাবে তা এড়ানো যায় তার একটি পন্থা নির্দেশ করেছেন। বিপ্লব শব্দটি তিনি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তার ফলে যেকোন রকমের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিপ্লবের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণতন্ত্র, ধনিকতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, অভিজাততন্ত্রের যেকোন পরিবর্তন, সংবিধানের যেকোন সংশোধন- এককথায় সরকার বা সংবিধানের যেকোন পরিবর্তনকে তিনি বিপ্লবের আওতাভুক্ত করেছেন। এরিষ্টটল বিপ্লবের বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রীক স্টাটিস শব্দটি ব্যবহার করেছেন। স্টাটিস শব্দটির সঠিক ভাষান্তর বিপ্লব নয়। “স্টাটিস বলতে এমন একটি অস্তির অবস্থাকে বুঝানো হয়, যে অস্থির অবস্থাতে হিংসাত্বক বিস্ফোরন অবশ্যম্ভাবি হয়ে উঠে”। সুতরাং স্টাটিস শব্দের অর্থ বিপ্লব না হয়ে আস্থিরতা বা পরিবর্তনশীলতা হতে পারে। বিপ্লবের উদ্ভব ও শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন কিভাবে এক্ষেত্রে এরিষ্টটল কতগুলো কারন উল্লেখ করেছেন।
তার মধ্যে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এরিষ্টটলের নিন্নের আলোচনা গুলোর মিল আছে যথা:-
ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তারা যখন অত্যাচারী হয়ে উঠে এবং যখন তারা নিজেরা মুনাফা অর্জন করতে থাকে তখন যেমন পরস্পরের বিরোদ্ধে আঘাত করে। বর্তমান যে শাসন ব্যবস্থা তাদের ক্ষমতার উৎসের বিরুদ্ধেও আঘাত
ধনিকতন্ত্রে বিপ্লব সংঘটিত হয় মূলত জনতার প্রতি অন্যায় ও অত্যাচারমূলক আচরন করার ফলে এবং কিছুটা ধনিদের নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে।
পলিটির মধ্যে গণতন্ত্র ও ধনিকতন্ত্রীদের যে সমন্বয় সাধিত হয় তার ত্রুটিপূর্ণ ভারসাম্যের ফলে পলিটির মধ্যে বিপ্লবের সূচনা হয়।
অনেক সময় ভোটাধিকার বিন্যাসের সময় বিপ্লবের উদ্ভব হয়।
আমরা লক্ষো করলে দেখতে পাই যে আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতিতে জনতার অধিকার বলতে কিছুই প্রতিফলিত হচ্ছে না বরং ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত আছেন তারা আজ নিজেদের স্থান পাকা-পোক্ত করার জন্য ব্যস্ত জনগনের দিকে চোখ তুলে থাকাবার সময় তাদের নেই,অত্যাচারমূলক আচরনে জনগনের শ্বাস কন্ঠনালীর মাঝে এসে গেছে,এটা একটি রাষ্ট্রের জন্য বিপ্লবের করন মধে্য অন্যতম,জনগন এখন আমাদের দেশের রাজনীতির প্রতি অনিহা প্রকাশ করে,আমরা আরো দেখতে পাই যে-আইনে শাসন বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না-ক্ষমতার দাপটে ক্ষমতাশীলরা দিন-দুপুরে হত্যা,ঘুম,খুন করে আইনের ফাঁক দিয়ে সাবলীল সরাচর জনসম্মুখে চলাফেরা করছে,কখনো বা আই প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধ জগত এর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করছে।বিগত দিনের ইতিহাস টানতে চাই না,তা সকলেরই জানা আছে যেমন: র্যাবের সাত খুন,কিছু দিন পূর্বের কথা ছেলের সামনে মা'কে ধর্ষণ,ধর্ষণের প্রতিবাধ করায় পুলিশের গুলিতে ৩/৪ জন নিহত,বাবার অপরাধে ২বছরের শিশুর ১৮ ঘন্টা হাজত ইত্যাদি আর ও কত কি যে ঘটে যাচ্ছে তার কতটুকুই বা আমি/আমরা জানি। আর জনগনের ভোটাদিকার এখন কল্পনা করা অসম্ভব,স্বপ্নে দেখতে চাইলে ও এখন আর ভোটের স্বপ্ন চোখে আসে না, সুষ্ট ভোট হলো গনতন্ত্রের পূর্বশর্ত।শিক্ষাই হলো জাতির মেরুদন্ড তেমনি গনতন্ত্র হলো সঠিক দেশ চালনার মান দন্ড। দেশের উন্নয়নে গনতন্ত্র আবশ্যক।
এরিষ্টটল বিপ্লব প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
শাসন ব্যবস্থায় যারা অংশগ্রহণ করে তাদের এবং নিজেদের মধ্যে আচরনের মধ্যে তারা গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।
আইনহীনতা ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
গণতন্ত্রে ধনিকদের প্রতি সুবিবেচনা প্রদর্শন করতে হবে।
কতিপয়তন্ত্রে যারা স্বচ্ছল নয় তাদের স্বচ্ছলতার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
ধনিকতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের মধ্যে গণতন্ত্রে মেজাজ রক্ষা করতে হবে এবং কিছু কিছু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা যাতে গজিয়ে উঠতে না পারে- শ্রেনীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ লাভের ব্যাপারে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে।
এরিষ্টটল বিপ্লবের কারণ বিশ্লেষন ও তার নিবারনের পন্থা নির্দেশ করতে গিয়ে যেসব মতামত ব্যক্ত করেছেন সেগুলো যদিও তৎকালীন গ্রীক নগররাষ্ট্র গুলোর অবস্থার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে তথাপি এর উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। আধুনিক কালে যে কয়টি বৃহৎ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর পিছনে এরিষ্টটল প্রদর্শিত মনস্তত্ব সম্পূর্নরুপে বিরাজমান। যখন দেশের অধিকাংশ লোকের মনে যখন বঞ্চনার মনোভাব তীব্র আকার ধারন করে তখন তারা বিপ্লবের মাধ্যমে তার অবসান ঘটাতে প্রয়াস পায়। উদাহরনসরুপ যে রক্তাক্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তার মধ্যেও আমরা বহু মূর্ত অভিব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। শুধু বিপ্লবের কারণ বিশ্লেষনই নয় বিপ্লব এড়ানোর জন্য যেসব পন্থা নির্দেশ করেছেন সেগুলো আধুনিক বিপ্লব নিবারনের পন্থা হিসেবে সম্পূর্ন প্রযোজ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

