somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদা কাগজের লেখক হতে চাই।

২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

অনেকদিন পর ফেইসবুকে বসলাম। আচ্ছা মানুষ কিভাবে ফেইসবুকে বসে? নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম। নিজেই জবাব দিলাম। আমি জানি না।


২.

আমি একটা চেয়ার কিনেছি। তার নাম দিয়েছি ফেইসবুক। আমি সেটাতে বসি। নিয়মিত বসি। আমি সব কাজ নিয়মিত করি। আমাকে ফেইসবুকে বসতে হয়। নাহলে রাত আর সকালের খাবার খেতে পারিনা। আমি চব্বিশ ঘন্টায় দুবার খাই। রাত আর সকালে। আমি আগে রাতের খাবার খাই। তারপর সকালে খাই। আমি দুপুর আর সন্ধ্যায় খাইনা। তখন সময় পাইনা। আমি তখন ধৈর্যশীল হবার প্রশিক্ষন নেই। প্রথমে কমপ্লিট স্যুট আর শ্যু পরি। গায়ে লেপ জড়িয়ে নেই। তারপর ফ্যান বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকি। গরমে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য ধৈর্যের প্রশিক্ষণ নেই। আরও একটা কারণ আছে। আমার বাবা বলেন, "My son, if you really want to be patient, try to become a patient at first, as soon as you can." ধৈর্যশীল যদি হতে চাও রোগী হও তবে। কথাটা খুব ভাল লেগেছিল। রোগী আর ধৈর্যশীল ব্যাক্তির মধ্যকার মিল আমি জানতাম। আমি তাঁর সে কথাটা মানার চেষ্টাই করি। প্রথম স্তরে উঠতে পেরেছি সেদিন। জ্বর এসেছিল। ঠান্ডা লেগেছিল। খুব ভাল লেগেছিল তাতে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, খুব দ্রুতই আমি ধৈর্যশীলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠতে যাচ্ছি। খুব দ্রুতই।


৩.

মা আমার জন্য একটা তাবিজ এনেছিলেন। বাসার কাজের বুয়া এনে দিয়েছিল। বুয়াটার নাম সখিনার মা। সে প্রতিদিন দুপুরে ঘর মুছতে আসে। আমি তখন স্যুট পরে গায়ে লেপ জড়িয়ে বসে থাকি। আমাদের বাড়িতে তিনটে ঘর। আমি তৃতীয় ঘরে থাকি। সখিনার মা সব ঘর মোছার পর আমার ঘরে আসে। আমি তাকে আগেই বলে দিয়েছি। ঘর মোছার সময় সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। দাঁত ভেঙচিয়ে হাসে। তার হাসি দেখলে ভয় পাই। আমি তখন একটা সুপার গ্লু এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আমি সাধারণত এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনা। শুধু তখনই করি। জিপসী বুড়িদের মত লাগে তাকে তখন। আমাকে তাবিজ পরিয়ে দেবার জন্য মাকে ইন্ধন যুগিয়েছিল সে। আমার গলায় তাবিজ লটকাবার জন্য মা আর সখিনার মা যুদ্ধ করেছিলেন। সে যুদ্ধে আমি মার্টার হয়েছিলাম। মা আর সখিনার মা জিতে যায়। আমি তাবিজ পরেছিলাম। একপাশের মোমের প্রলেপ ছিল তাতে। বেশ ভাল করে পড়েছিলাম। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কাগজটা একদম বের করে পড়েছিলাম। সাদা কাগজ ছিল। তারপরও পড়েছিলাম।


৪.

আমি সাদা কাগজ পড়তে পারি। সবাই পারে না। পড়ার মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের এটি। আমার পরম শ্রদ্ধেয়ভাজন এক শিক্ষক বলেছিলেন, "রিকশাওয়ালা আক্কাস মিয়া আর তুমি দুজনেই লেখা পড়তে পার। তবে তোমার মধ্যে স্বকীয়তা কোথায়? তুমি তারেক তবে এক্সট্রা অর্ডিনারী হচ্ছো কোন দিক দিয়ে? তুমি কি সাদা কাগজ পড়তে পার? জানা আছে বিদ্যেটা?"

সেই থেকে আমি সাদা কাগজ পড়বার ইচ্ছে বোধ করলাম। শিখে ফেললাম। সাদা কাগজ পড়বার সব বিদ্যে স্যার শিখিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সব বিদ্যে আমার মস্তিষ্কে পাঁঠিয়ে দিয়েছিলেন। ব্লুটুথের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। ব্লুটুথের মাধ্যমে ডাটা পাঠালেও আসল ডাটা থেকে যায়। ক্ষয় হয়না। শেষ হয়ে যায়না। স্যারের বিদ্যেও শেষ হয়নি।


৫.

মাহমুদ স্যার বাংলা পরীক্ষার খাতা দেখতেন। কলেজের নয়, কোচিংয়ের পরীক্ষার খাতা। সদা হাস্যজ্জল মানুষ ছিলেন। তার ভ্রু খুব পাতলা ছিল। তার ভ্রু কি তখন পরছিল না গজাচ্ছিল, তা দেখে বুঝতে পারতাম না। ভাবছি স্যারকে ফোন দিয়ে একদিন জিজ্ঞেস করবো। আমার খাতা দেখে তিঁনি খুব গম্ভীর হয়ে যেতেন। মুখে হাসিটা লেগে থাকত তারপরও। তখন তাকে মোনালিসার মত লাগত দেখতে। অবশ্য পুরুষ মোনালিসা। আমার মত কোন এক ছাত্রের খাতা দেখতে গিয়ে বিষণ্ণ হাসি দিয়েছিলেন হয়ত মোনালিসা। আচ্ছা মোনালিসা কি কারও শিক্ষিকা ছিলেন? এমন কি হতে পারে ভিঞ্চিই ছিলেন সেই ছাত্র? হলে হোক, তাতে আমার কী। এতে মোনালিসার ভ্রু আর গজিয়ে উঠবে না। মাহমুদ স্যার একদিন আমার খাতা দেখা শেষে বলেছিলেন, "তারেক, তোমার ভবিষ্যত্‍ খুব উজ্জ্বল। তবে সেটা কোন শিক্ষা প্রতিষ্টানে নয়, তোমার বিবাহিত জীবনে। তুমি তোমার স্ত্রীর বিরক্তির কারন হবে না কখনও। আমি তোমার খাতা দেখেই বুঝতে পেরেছি যা বোঝার। একটা ছাত্রের খাতা দেখেই তার সাইকোলজি বুঝতে পারি আমি। তোমাকে ঈর্ষা বোধ করছি রীতিমত। কাশ, তোমার মত হতে পারতাম! অপরচুনিটি পেলে কিন্তু ছাড়তাম না। জানই তো, মায়ের পায়ের নিচে তোমার জান্নাত, আর স্ত্রীর পায়ের নিচে তোমার সংসারের জান্নাত।" আমি স্যারের কথাগুলো অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে পারছিলাম। মাথা ঝাকিয়ে বললাম "জ্বি স্যার, দুয়া করবেন। আপনার দুয়াই তো আমাকে আজ এই স্তরে উঠতে সাহায্য করেছে।"


৬.

সাদা কাগজ পড়বার তুলনায় লেখা খুব কঠিন। সাদা কাগজের পাঠক মাত্রই লেখক হতে পারেন না। আমি সাদা কাগজের লেখক হতে চাই। বেশ বড় লেখক। গেল সেমিস্টারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন থেকেই লেখক হবার চেষ্টা করছি। ফাইনাল পরীক্ষার খাতায় প্র্যাকটিস করেছি। অনেক বেশি করেছি। ফাইনাল পরীক্ষা থেকেই আনুষ্ঠানিকতার শুরু। এর পিছনে কারণ ছিল। আমি স্যারদের প্রিয়মুখ হতে চাই। আমি তাঁদের কষ্ট চাইনা। তাঁরা কষ্ট করে শ্রম দিয়ে আমার খাতা দেখুক, আমি সেটা চাইনি। তারা আমাকে মনে রাখুক । আমিও তাদের মনে থাকতে চাই। আমি তার প্রমান দিতে চেয়েছি। গেল সেমিস্টারের রেসাল্টের অপেক্ষা করছি।


---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------




লেখক পরিচিতি:



হাসান মুহাম্মাদ তারেক। Tareque Hasan নামে পরিচিত। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ, ব্যাংকিং। আজ (24.6.11) কিছুক্ষন আগে সাইবে (সামহোয়্যার ইন ব্লগ) নিজের ব্লগ খুলেছেন। এটিই কোন ব্লগে তার প্রথম লিখা। ভাল লাগবে, এমন কোন কথা নেই। ভাল না লাগলে লেখক খুবই দুঃখিত। কারন তিনি কিছুই করতে পারবেন না আপনার জন্যে। এক্ষেত্রে তার মন্তব্য:
আমি লিখি। নিজের জন্যই লিখি। আমাকে লিখতে হয়। না লিখলে মস্তিষ্ক বিদ্রোহ করে বসে, হাতগুলো নিশপিশ করে। তাই লিখি। কারও মনোরঞ্জন করবার উদ্দেশ্যে আমার লিখা নয়। আমার আগে প্রমথ চৌধুরী প্রথমে কথাটা পরিষ্কার ভাষায় বলে গেছেন। কাজেই মাইনাস দিয়ে আমার লিখাকে হেয় করবার সুযোগ নেই।

লেখক নিজের জন্যেই লেখেন। লেখাটি ফেইসবুকে পাবলিশ করেছেন তিনি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×