গত সপ্তাহে আমারে আমার সুপারভাইজর ডাক দিয়া কইল "হাতের ফান্ড তো প্রায় শেষ। নতুন ধান্দা টান্দা কিছু একটা করা লাগে।" আমি বুইঝা ফালাইলাম। নতুন প্রপজাল দিতে হইব। জিগাইলাম "টপিক কি দিমু?" হ্যাতে কইল "এইবার ভিন্ন রকম একটা রিসার্চ করুম। রিনুয়েবল এনার্জি আর এনার্জি হার্ভেস্টিং মিশখাওয়া দ্যাও।" আমার তো চক্ষু কপালে (O_O), "শুধু সুর্যের রশ্মি দিয়া শক্তি আইব ক্যান? আরও তো কত রশ্মি আইতাসে, ওডির মধ্যে কুনোডারে কামে লাগানি জাই কিনা দেখ। আউট অফ বক্স চিন্তা কর। " আমি তো পুরায় টাস্কি। না স্যার এর মেধা বা জ্ঞানমুগ্ধ হয়া টাস্কি খাইনাই। টাস্কি খাইসি কারন এই টপিক টা আমি কুথায় যেন পরেসিলাম। কিন্তু কুথাই সেটা মনে করতে পারতেসিলাম না। দিন যাই রাত যাই শুধু ভাবি কুথাই পরেসিলাম। আজকে সকালে আঁতকা মনে পইরা গেল। ইউরেকা কইয়া চিৎকার দিয়া ফাল দিলাম মাগার বিবস্ত্র হইনাই (এই খানেই জ্ঞানী দের সাথে আমার মত নির্বধের পার্থক্য)। এইটা আমি পর্থম শুনসিলাম ঘনাদার মুখ থেইকা। যখন সুনসিলাম তখন এত কিছু বুঝতাম না। অনেক কঠিন লাগত বেপারগুলা। কিন্তু তবুও ঘনাদার মদ্ধে কেমন যেন ফেলুদা র শঙ্কু দুইটার গন্ধ একসাথে পাওয়া যাইত তাই গগ্রাসে গিলাতাম।
আজকে তাই পুরা ইন্টারনেট পাতা পাতা কইরা খুইজা বাইর করলাম কুন বই ছিল ঐটা। গল্পটা হইল সেই “তেল দেবেন ঘনাদা”। আমি সাহিত্যিক সমালোচক না। তাই ঘনাদার চরিত্রের সফলতা কতটুকু কবার পারবনা। কিন্তু প্রেমেন্দ মিত্রের ঐ সময়ে এত গভির ভাবে বিকল্প শক্তির দূরদর্শিতা আমারে টাস্কি খাওয়া দিসে।
আমরা এই সময়ে খুব ভালোভাবে টের পাইতেসি যে আমাদের শক্তির উৎস বদলানি লাগবে। ধারনা করা হইতেসে ২০৬০ সালের মদ্ধে ইউরোপের বড় বড় দেশ যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান ইত্যাদি ইত্যাদি উনারা সকলেই শক্তির চাহিদার ১০০% পুরণ করবেন রিনুএবল শক্তি উৎপাদন দিয়া। মাগার কথা হইল এই রিনুএবল শক্তিটা হবে কি? সাধ্যের মধ্যে সোলার প্যানেল দিয়া এখনো শুধু ৮ ওয়াটের ফ্যান আর ১৬ ওয়াটের বাতি জলে। ফটো ভল্টিক সেল গুলার যদি সেইরকম উন্নতি করা যায় যেন অল্প জাইগাতেই অনেক ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি করা সম্ভব হয় তখন আমরা ছাদে প্যানেল লাগাইয়া সারা ঘরের বাত্তি জালাইতে পারব ইনসাল্লাহ। এইটা নিয়া এখন ব্যপক রিসার্চ চলতেসে মাগার ফলাফল সুদিনের আলো এহনো দেখেনাই (আশা করতেসি খুব শিঘ্রয় দিনের আলো দেখা যাবে )। কুন কম্পানি যেন চুক্তি নিসে সাহারা মরুভুমি প্যানেল দিয়া পুরা ঢাইকা দিব। এতে মরুভূমি এর গরম কম হইব অনেক ইলেক্ট্রিসিটি পাওন যাইব মাগার ঘনাদার কথা কিন্তু ঠিকই থাকব। ওই শক্তি কম্পানির কুক্ষিগত থাকব। ব্যবহারকারীর হাতে আইতে আইতে অইডার দাম উঠব আইফেল টাওয়ারের মাথাত। এনার্জি হার্ভেস্টিং কইরা যে খুব বেশি শক্তি পাওন যাইব তাওনা। বাতাসের কল গুলা ভালই ছিল তয় ঐ কলে আস্তে বাতাস দিলে কাম করেনা আর জুরে বাতাস দিলে মোটর বাস্ট হয়া যাই। বড়ই বিপদ।
দ্যুবেরির মাথার ঐ ব্ল্যকাহোলের শক্তি ব্যবহারের চিন্তাটা আসলেই আমারে ভাবাই দিসে। এইটা কি আদৌ কুনোভাবে সম্ভব আর এই কথা প্রেমেন্দ মিত্রের আইলই বা ক্যামনে?! শুধু যে আইডিয়া আসচে তা না ঐ শক্তি দিয়া মিঃ ডস গাড়ির তেলের দাম ও দিয়া দিলেন?! দ্যুবেরি য্যাম্নে সহজ কইরা রেড জায়ান্ট, হোয়াইট ডয়ার্ফ আর ব্ল্যাক হোলের বর্ননা দিলেন তাতে ছুটো বাচ্চাদের বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হউয়ার কথা না। তবে ঘনাদা না থাকলে আমরা হয়ত দ্যুবেরির কাস থেইকা এত কিছু জানতেই পারতামনা। সত্যি ডস ইজ গ্রেট।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



