somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তরুন ইউসুফ
কাব্যগ্রন্থ : ট্রাফিক সিগন্যালে প্রজাপতি, না গৃহী না সন্ন্যাসী; রম্যগল্পগ্রন্থ : কান্না হাসি রম্য রাশি। ছোটদের বই : রহস্যে ঘেরা রেইনফরেস্ট ইতিহাস গ্রন্থ: শেরে বাংলা ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিছু দুষ্প্রাপ্য দলিল

পেশাদারিত্ব বনাম মানবিকতা?

২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পেশাদারিত্ব বনাম মানবিকতা কোনটা আগে। পেশাদারিত্ব না মানবিকতা। কিছু কিছু পেশা আছে যেখানে নাকি সেই পেশার মানুষদের হরহামেশাই এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তেমনি একটি পেশা ফটো সাংবাদিকতা। যেখানে টাইমিংটা খুব জরুরি। একটু সময়ের এদিক সেদিকের ফলে খুব ভাল একটা ফটো মিস হতে পারে। আবার ঠিক উল্টোটাও। খুব ভাল টাইমিং এর কারনে হয়ে যেতে পারে খুব ভাল একটা ছবি, হয়তবা তা সারা বিশ্বের মানুষের নজর কাড়ে। এবং অনেক সময় বিভিন্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়। ফটোগ্রাফার সবার কাছে বাহ বা পায়। একটা ভাল ছবি একটা শিল্পও বটে তবে...

তবে টা শুরু করার আগে খুব সমসাময়িক এবং খুব এর সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ঘটনার উল্লেখ করছি। ঘটনার সময়কাল ১৫ এপ্রিল, ২০১৭। স্থান উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার রাশিদিন এলাকা। ৭৫টি বাসের একটি কনভয় দাঁড়িয়ে আছে। সিরিয়ার আসাদ সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে কোনও আশ্রয়ে। সেই আশায় বাসে চড়ে আলেপ্পোর কাছে রাশিদিনে জড়ো হয়েছিলেন কেফ্রায়া ও আল-ফোয়ার বাসিন্দারা। ওই বাসগুলিতে চাপিয়েই সরানো হচ্ছিল আপাতত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দু’টি গ্রামের শিয়া মতাবলম্বী গ্রামবাসীদের। সরকারপন্থীদের দখলে থাকা এলাকায় বিদ্রোহী এবং বিদ্রোহীদের এলাকায় থাকা সরকারপন্থী মানুষজনদের স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল। আলেপ্পোয় ঢোকার মুখে শহরের অদূরে দাঁড়িয়েছিল ওই কনভয়। সেই সময়ই বাস থেকে নেমে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছিলেন যাত্রীরা।

কাছেই ছিল চিপসের একটি দোকান। সেখানেই পরিবারের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল ছোট্ট একটি ছেলে। হঠাৎই তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ। চিত্রসাংবাদিক এবিডি আলকাদর হাবাক সেখানে গিয়েছিলেন ছবি তুলতে। একজন চিত্র সাংবাদিক হিসেবে। কিছুটা সখের বশে ছবি তুলতে গিয়ে হয়তবা অনেকটা পেটের দায়ে ছবি তোলা। সেইসময় তাঁর সামনেও প্রশ্নটা আসলো ছবি তুলবেন নাকি মানুষ বাঁচাবেন। কিন্তু সিরিয়ার চিত্রসাংবাদিক এবিডি আলকাদর হাবাক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। ভুলে গেলেন পেশাদারিত্ব। সকলেই খবর সংগ্রহে, ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু মানবিকতার দায় উপেক্ষা করতে পারেননি আলকাদের। মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেন ঝাঁপিয়ে পড়ার। ততক্ষণে আশপাশের পরিবেশটা যেন নরক। বোমা, রক্ত, শিশুদের চিৎকার, মায়ের বুক ফাটা কান্না...।
শেষ চেষ্টা করলেন বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোকে উদ্ধার করার। পুরোটা সফল হলেন না। যে ছোট ছেলেটিকে নরকযন্ত্রণা থেকে উদ্ধার করলেন, বিস্ফোরণের ভয়াবহতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ততক্ষণে নিষ্প্রাণ সেই খুদে শরীর। তাকে নামিয়ে রেখে ছুটে গেলেন তালগোল পাকিয়ে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকে পড়া অন্য একটি শিশুর দিকে।

‘‘ও আমার হাত ধরল। আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তখনও ধুকপুক করছিল ও। আমি অ্যাম্বুল্যান্স অবধি পৌঁছে দিয়েছিলাম ওকে’’— সংবাদ সংস্থাকে এমনই জানালেন আলকাদর।

কিন্তু প্রথম শিশুটির করুণ পরিনতির কথা ভুলতে পারেননি আলকাদের। শিশুর মৃতদেহ সামনে রেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯ এপ্রিল)

প্রশ্ন হল আলকাদের কি পেশাদারিত্ব ভুলে গিয়েছিলেন। আমার মনে হয় না। কারণ পৃথিবীতে আমরা যা করছি তা সবই মানুষের জন্য। বেঁচে থাকার জন্য। আমদের পরবর্তী প্রজন্মকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিয়ে যাবার জন্য।আলকাদের কয়জন শিশুকে রক্ষা করতে পেরেছিল তা সে নিজেও জানে না। যদি সেটা একজনও হয় তাই বা কম কি। পৃথিবীর সব কয়টা ভাল ফটোর মূল্যও সেই একটি শিশুর প্রানের দামের কাছে কিছুই না। অথবা অন্য দিকে বলতে গেলে একটি প্রান বাঁচানোর চেয়ে বড় কোন পেশা বা বড় কোন শিল্প আছে কি না আমার জানা নেই। আমার মনে হয় আলকাদের বড় পেশাদারিত্বের কাজটিই করেছে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে আলকাদেরর ফটো তুলে যে সাংবাদিক আলকাদেরকে আমাদের সামনে আনল তাঁর অবাদান কম কিসে। তা না হলে তো আমরা আল কাদেরের কথা জানতে পেতাম না। আমি বলি কি তারচেয়ে যদি এমন একটা খবর পেতাম যে ওই ফটো সাংবাদিকের প্রচেষ্টায় অথবা অন্য কোন মানুষের প্রচেষ্টায় আরও একটি শিশু অথবা মানুষ অর্থাৎ আরও একটি প্রাণ রক্ষা পেয়েছে সেই সংবাদটা কি আরও বেশি সুখকর হত না?

যদিও সবচেয়ে বড় প্রহসন সিরিয়া সহ সারা পৃথিবীতে যে যুদ্ধ হচ্ছে যে যুদ্ধে হাজার হাজার শিশু মারা যাচ্ছে তা আমরা যারা সুসভ্য মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে দাবি করি তাদেরই সৃষ্টি। এই যুদ্ধ না থাকলে তো মানুষ বাঁচানোর প্রশ্নই আসত না। প্রশ্ন আসত না নৃশংস পেশাদারিত্বের অথবা এমন কোন পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোর যার মূল্য কোন নিষ্পাপ শিশু তাঁর ছিন্নভিন্ন শরীর দিয়ে মিটিয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×