প্রকৃতি অতি রহস্যময়। প্রকৃতির অনেক রহস্যই আমাদের বিজ্ঞান এখনও ব্যাখ্যা করতে পারেনি। প্রকৃতির এমনি এক রহস্যময় সৃষ্টি মৌমাছি। আমরা অনেকেই জানি মৌমাছির চাক গড়ে ওঠে রানি মৌমাছিকে কেন্দ্র করে যেখানে শুধুমাত্র একটি রানি মৌমাছি থাকে। রানি মৌমাছি সাধারণত চাকের অন্যান্য মৌমাছির চেয়ে বড় হয়। এই রানি মৌমাছিকে ঘিরে বেশকিছু চমকপ্রদ ঘটনা মৌচাকে সংঘটিত হয়। রানিকে কেন্দ্র করে মৌমাছিদের রয়েছে নানা দায়িত্ব। একদল রয়েছে যারা রানিকে খাওয়ায় এবং সেবা করে, একদল আছে যারা কর্মী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আর আরেকদল আছে পুরুষ মৌমাছি যাদের দায়িত্ব রানিকে গর্ভবতী করা।
রানির গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টাও অদ্ভুত এবং মজার। কোন এক উজ্জ্বল দিনে রানি মৌমাছি চাক থেকে বের হয়ে আসে। সেই সাথে বেরিয়ে আসে সব পুরুষ মৌমাছির দল। জিবনে ওই একবারই রানি মিলিত হয় তাঁর পুরুষ প্রেমিকের সাথে। শত শত পুরুষের মধ্যে শুধু একজনই মিলিত হতে পারে রানির সাথে। বাকি যে সব পুরুষ মৌমাছি আছে তারা মিলিত হতে পারে না এবং মৌচাকেও ফিরে যায় না। একে একে মারা যায়। অনেকটা দেবদাসের মত প্রেম বিরহে প্রাণত্যাগ।
এবার আসি কুইন্স সাবস্ট্যান্সের কথায়। রানির শরীর থেকে একধরনের অজানা শক্তি প্রবাহিত হয়। কর্মী মৌমাছিরা যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তাদের শরীরের শক্তি নিঃশেষিত হয়ে যায় তখন তারা দ্রুত চাকে ফিরে এসে রানি মৌমাছির খুব কাছে ভিড় করে। রানির শরীর থেকে যে শক্তি প্রবাহিত হয় তা থেকে কর্মী মৌমাছিরা শক্তি সংগ্রহ করে। অনেকটা ব্যাটারি চার্জের মত বিষয়। বিজ্ঞানিরা এখনও এই শক্তি সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা দিতে পারেনি। এই অজানা শক্তিকেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় কুইন্স সাবস্ট্যান্স। রহস্যময় নয় কি? প্রকৃতই প্রকৃতি বড়ই রহস্যময়!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




