কিছুক্ষন আগের ঘটনা , ঢাকার কোনো গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ফোন আসলো আমার নম্বরে । প্রথমে ভাবলাম ফেসবুকের কারো ফোন , কলটা আমার মা ধরলো । কিছুক্ষন পর মা কিছু বুঝতে না পেরে আমাকে ফোনটা দিলেন ।
সমস্যার ব্যাপার হলো আমি আমার সিমটা বাসার একটা ফোনে ঢুকিয়ে ছিলাম কোনো কারনে যার করে মা রিসিভ করেছেন নয়তো আমার ফোন মা রিসিভ করেন না ।
এক ফোনে দুই নম্বর হওয়াতে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কলটা কোন নম্বরে আসছে । একটু খেয়াল করে দেখলাম কলটা দীতিয় সিমে ,মানে আমার নম্বরে !
ভাবলাম কোনো ফ্রেন্ড বুঝি !
এই সেরেছে রে , কারন মা একটু ক্ষুদক্ষুদে টাইপের সব কিছুতেই তার সন্ধেহ যেন আমি ছেলে নই মেয়ে ! কোনো মেয়ে আমাকে ডিস্টাব করলো কিনা ? একদম অসয্য ।
এবার ফোনটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি ফেসবুকের কিনা ?
(ফেসবুক ছাড়া আপাদত কল করার মত কেউ নেই)
উনি উত্তর করলেন ," না " উল্টো একটা নম্বর লিখতে বললেন এবং দেখতে বললেন আমি নম্বর খানা চিনি কিনা ।
একটা এয়ারটেল নম্বর , জীবনে দেখেছি বলে মনেহয় না ।
আমি উত্তর বললামঃ , না তো দেখি নি ।
উনি বললেনঃ আমার কাছে ইনফর্মেশন আছে , আপনার নম্বর থেকে এই নম্বরে সর্ব শেষ 27 তারিখ দুপুরে ১ ঘন্টা কথা বলা হয়েছে ।
(একেতো নম্বর চিনি না তার উপর ইনফরমেশন ! মজার ব্যাপার হলো আমার ফোনে ব্যালেন্স থাকে না বলেই কাউকে কল করা হয়না আর ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস নেই )
উনি বলতেই থাকলেনঃ ঐ নম্বরের লোকটি একটা ক্রিমিনাল ওনার সাথে আপনার নম্বরে কথা বলা হয়েছে উনি কে বলুন তো ?
>সরি আপনি হয়তো ভুল ইনফর্মেশন পেয়েছেন । আরেকবার সব কিছু দেখুন , এই নম্বর আমি চিনি না কলতো দুরের কথা ।
> না ,অফিস থেকে আমরা সঠিক ইনফরমেশনই এনেছি !
(বুঝতে পারলাম আমি যতোই "না" বলবো শব্দ টা ততোই হ্যাঁ বোধক রুপে তার কানে ধরা দেবে কারন তারা না শব্দ টা শুনতে শুনতে অভ্যাস্ত , ভাবলাম এর সাথে অন্য মুডে কথা বলা দরকার । ততক্ষনে ভয়ে মায়ের পালপিটিশন শুরু হয়ে গেছে :/ )
এরপর উনি ঠিকানা জানতে চাইলেন , বললাম চিটাগাং এ থাকি নাম রিয়াদ হাসান ,স্টুডেন্ট ।
( অপরিচিত কাউকে নিজের সঠিক ইনফো জানাবো এতোবড় বোকা তো আমি নই )
উনি বললেনঃ উনি নাকি ঢাকার সম্ভবত মিরপুর থানা থেকে বলছেন .
প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরবর্তী তে বুঝতে পারলাম আসলেই মিরপুর থানা থেকেই বলা হচ্ছে ।
উনি পরবর্তি তে যোগাযোগ করবেন বলে কল কেটে দিলেন ।
সব কিছু শোনার পর সামান্য ভয় পেলাম , আমি যদি ক্রিমিনাল হইতবে কি পরিনতি হতে পারে সেটা নিজে চোখেই দেখতে পাচ্ছিলাম ।
ভাবতেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো । দিলাম গ্রামীন ফোনের কাষ্টমার কেয়ারে ফোন , দিলাম গালি কেমন ইনফর্মেশন দিছে গোয়েন্দা পুলিশ রে তাও ভুল !
রিতিমত অফিসের লোক মিষ্টির দোকান খুলে বসলেন ।
"সরি স্যার আমাদের অফিস থেকে এরকম কোন ইনফর্মেশন দেওয়া হয়না "
হয়তো কেউ আপনাকে ভয় দেখিয়েছে
> না ,উনি আসল গোয়েন্দা পুলিশ
>তাহলে আপনি ঐ পুলিশ কে আপনা এলাকার থানায় ডাকুন ।
কথাটা শোনা মাত্রই মেজাজ আরো গরম হয়ে গেলো এবং ফোন কেটে দিলাম ।
(উনি দেখি খাল কেটে কুমির আনার পরামর্শ দিতেছেন ! )
ইদানিং দেখছি বাংলাদেশের প্রশাসন বাহিনী আন্দাজে ঢিল মারে !! সাধারন মানুষকে হয়রানি করাই এদের কাজ বোধহয় ।
পরে আবার ফোন করলে কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না
শেষমেশ ফোনে কল ড্রাইভ অনকরে ,আমার এক আর্মি ফ্রেন্ডের নম্বর সেট করে দিলাম...
নে বাবা এখন বুইঝা খাঁ ......
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



