হুয়ামূন আহমেদ মারা গেছেন। আসলে একজন বড় মাপের লেখকের তো কোন মৃত্যু নেই আমাদের এই প্রিয় লেখকেরও তাই মৃত্যু হয়নি উনি শুধু দৃষ্টির ওপারে চলে গেছেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো সত্যিকারের মূল্যায়ন করেছে। অন্য অনেক লেখক-সাহিত্যিকের মতো এক কলাম বা দুই কলামে শেষ হয়ে যায়নি হুমায়‚ন আহমেদে মৃত্যু সংবাদ। তার মৃত্যু সংবাদে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অনুভ‚তি প্রকাশ, পোস্ট এডিটরিয়াল এবং এডিটরিয়ালও ছাপা হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হয়েছে। মিডিয়ার দায়িত্ব যেমন জনগণকে সচেতন করা তেমনি মিডিয়া অনেক সময় পাঠকের কাছে কিছ‚ অন্য ধরণের সংবাদও তুলে দিতে পছন্দ করে।
হুমায়‚নের মৃত্যু সংবাদের সঙ্গে তার আগের দাম্পত্য জীবনের বিষয়টি আসাও যেন অনেকটাই তেমন।
হুমায়ুন আহমেদ বহুমুখী প্রতিভার এক বাংলাদেশী বাঙালি পুরুষ। তিনি একাধারে গল্পকার, উপন্যাসিক, সাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার, সমাজবিশ্লেষক, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সন্তান, চিত্রশিল্পীও। তার এমন এমন অনেক গুণ আছে যার জন্য তরুণ প্রজন্ম তাকে শ্রদ্ধা করতে বাধ্য। কিন্তু চাঁদের যেমন কলঙ্ক থাকে ঠিক তেমনি হুমায়ুন আহমেদেরও জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত কিছ‚ বিষয় তরুণ প্রজন্মের একেবারেই পছন্দ নয়। যেমন তার স্ত্রী গুলতেকিন, চার সন্তান, বিদিশা, শীলা, নোভা, নুহাশকে রেখে সেই শীলার বন্ধ‚ শাওনকে বিয়ে করা।
শুধূ বিয়ে করেই ক্ষ্যান্ত দেয়া নয়, বিয়ের পরেও তাদের প্রথম কন্যাসন্তানকে দেখতে কেন আগের ঘরের মেয়েরা দেখতে গেলনা তা নিয়ে আবার দেশের সবচেয়ে পঠিত সংবাদপত্রে লেখা এ যে ঠিক কোন ধরণের পারিবারিক সম্প্রীতির উদাহরণ আমার মাথায় অন্তত কিছুতেই ঢোকেনা।
হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন। আগামী বইমেলায় তার নতুন বই হয়তো আর একটা দুইটা আসবে। এরপরের বইমেলায় আর কোন নতুন বই আসবেনা হুমায়ুন আহমেদের। তার পুরনো লেখার ভীড়েই তাকে খূঁজে খুঁজে ফিরতে হবে। এটা আমার মতো অনেক পাঠকের জন্যই কষ্টের। তার মতো বড় মাপের লেখককে নিয়ে একটি বাক্য লিখব সেই দু”সাহস আমার মতো এত ক্ষুদ্র মানুষ এবং সাংবাদিকের একেবারেই নেই। তবু যে কারণে লিখতে বলেছি সেটার একটাই কারণ গুলতেকিনকে নিয়ে আমাদের মিডিয়ার অহেতুক বাড়াবাড়ি।
গুলতেকিন। হ্যাঁ, সেই নারী যিনি ১৯৭৩ সালে ভাল বেসে বিয়ে করেছিলেন আমাদের প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদকে। দাম্পত্যজীবনে তাদের আছে চারটি সন্তান। হুমায়নের বহুলেখায় গুলতেকিন আছেন। তার জীবনের এতদূর আসা বাংলাদেশের হুমায়‚ন আহমেদ হয়ে উঠার পিছনে আছে গুলতেকিনের ভ‚মিকা। সব কিছুই আমার মিডিয়া থেকে আর হুমায়ুনের লেখা থেকে জানা। যে কারণে এ লেখা লিখছি। হুমায়‚ন আহমেদের মা, ভাই বোন, সন্তানরা, সব্বাই যারা তাদের একান্ত আপনজনকে হারিয়েছে তাদের কষ্ট আমি বা আমরা কোনভাবেই দূর করতে পারবোনা। কিন্তু এই যে মিডিয়ায় এতো লেখালেখি সেটা তাদের জানানো যে, আমরাও তোমাদের দু:খে সমব্যথী।
কিন্তু এত ঘটনার ভীড়ে গুলতেকিনকে নিয়ে বাড়াবাড়ি আমার মোটেই ভাল লাগছেনা। হুমায়‚ন আহমেদ মারা যাবার পর সব মিডিয়া উঠে পড়ে লেগেছে যেন, গুলতেকিন ও তার সন্তানদের হুমায়‚নের কাছে আসতেই হবে। সন্তানদের মধ্যে তিনজন বাবার লাশের পাশে ছিলেন। কিন্তু মা গুলতেকিন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। কিন্তু হুমায়‚নকে কবরে রেখে এসেও গুলতেকিনের পিছ‚ ছাড়ছে না মিডিয়া। এ দৃশ্যটি আমার কাছে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। আমি যদিও গুলতেকিনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত নই, তারপরও তাকে এমন বিরক্ত করাটা আমার ভাল লাগছেনা। ২০০৩-২০১২ মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত হুমায়‚ন কি আদৌ কখনো গুলতেকিনের কাছে গেছেন। ১০৭২৩-২০০৩ তারা ৩০ বছর একটানা সংসার করেছেন। কিন্তু এরপরে তো হুমায়ুনের কোন লেখায় গুলতেকিনের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখিনি। তাহলে এখন কেন মিডিয়া জোর করে গুলতেকিনকে হুমায়ুনের কাছে পাঠাতে চাইছে। গুলতেকিনের তো অধিকার আছে একটি নির্ঝঞ্ঝাট শান্তিতে থাকার। মনে যদি কোন কষ্ট থাকে তা থাকুক না তার একান্ত একলার। আমার দৃষ্টিতে গুলতেকিনের হুমায়‚নতো মারা গেছে সেই ২০০৩ সালে যখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর এখন ২০১২ সালে তার মৃত্যুর পর এভাবে গুলতেকিন মিডিয়ার বা পরিবারের কারোরই বিরক্ত না করাই ভাল। আর গুলতেকিনও তো হুমায়‚নের মতো কলম ধরে লিখে যেতে পারেন তিনি যদি একান্তই কিছু দেশবাসীকে জানাতে চান তাকে তো নিশ্চয় দেশের মিডিয়াগুলো সে সুযোগ দেবার জন্য প্রস্তুত।
গুলতেকিনের ২০০৩ সালে মারা যাওয়া হুমায়‚নের শোক নিশ্চয় এখন নয় বছর পর তাকে তেমন বেশি কষ্ট দেয় না। যা তার মা আয়শা ফয়েজ, ভাই-বোন, সন্তানসহ দেশের ভক্ত অনুরাগীদের দিচ্ছে!
তাসকিনা ইয়াসমিন, ডিপ্লোম্যাটিক রিপোর্টার দৈনিক ডেসটিনি।
২৬.০৭.২০১২
গুলতেকিনের হুমায়‚ন তো ২০০৩ সালেই মারা গেছেন !
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।