somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউরোপে বসবাস-২ (নৌকা ও গলুইয়ের অবিশ্বাস্য গল্প----বর্তমান বাস্তবতা)

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউরোপের সংস্কৃতি দেখে আমাদের দেশের তরুন সমাজ শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আর ভাবে আহারে আমার জন্ম কেন ওইসব দেশে হইলো না।
তাদের জন্য আমার দেশ ও ইউরোপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। এখানে আমার এক আত্মীয়র কিছু যথার্থ উপলব্ধির কথাও নকল করে হুবহু তুলে ধরলাম।

কিশোর বয়সে বড়দের কাছে গল্প শুনেছিলাম । রূপক এবং উপদেশমূলক এ ধরনের গল্পগুলো সমাজের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে । লোকসাহিত্যে এ গুলো খুবই মূল্যবান উপকরণ । গল্পটি ছিল নিম্নরূপ:

প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে এক মাঝি তার নৌকা শত চেষ্টা করেও গন্তব্যমুখী করতে পারছিলেন না । যতবারই নৌকার মুখ ঘুরাতে চেষ্টা করেন , ততবারই তীব্র স্রোতের কারনে নৌকার মুখ উল্টা দিকে ঘুরে যাচ্ছিল । অবশেষে মাঝি বিরক্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে গেলেন আর বললেন , নৌকা ! ফিরবা তো তবে গলুই থাকবে না - অর্থাৎ বেপরোয়া চলতে গিয়ে তীরের সাথে আছড়ে পড়ে নৌকার মুখ বা গলুই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা আছে ।

ভোগবাদী এই বর্তমান আলোকিত (? ) সভ্যতা , বিজ্ঞ দার্শনিক , উন্নতির বুলি আওড়ানো সমাজপতি ও রাজনীতিবিদ এবং জীবনকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখানোর দাবীদার তথাকথিত অর্থনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক মোড়লদের দেখে আমার মত নাখান্দা একজন মানুষের কেন যেন উল্লেখিত মাঝির কথাটা বার বার মনে পড়ে ।
পৃথিবী রূপী এই তরণীর আরোহী কোটি কোটি বনী আদম । জীবন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কি ভাবে তারা সফলতার সাথে কুলে উঠবে সে পথ মানুষের স্রষ্টাই দেখিয়ে দিয়েছেন । যুগে যুগে নবী রাসূলদের পাঠিয়ে তিনি সঠিক পথ বাতলিয়ে দিয়েছেন মানব জাতিকে । নবীদের দেখানো এই পথই জীবনের রাজপথ এবং সাফল্যের পথ । কিন্তু বেয়ারা এ তরণীর তথাকথিত মোড়লেরা নবী রাসূলদের দেখানো এ পথকে সর্বদাই উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায় মনে করেছে । তারা দেখেছে , এ পথ নৈতিকতার পথ -এ পথ সংযমের , এ পথ ত্যাগের । এ পথে হাঁটলে ভোগের সাগরে গা ভাসানোর সুযোগ নেই - সুযোগ নেই লালসা পুরনের। কিন্তু তাদের দেখানো উন্নতি ও প্রগতির (? )পথে চলতে গিয়ে গোটা মানব জাতিকে মাশুল দিতে হচ্ছে অনেক বেশি । মানবতার নামে লুন্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকার , স্বাধীনতার নামে গলায় পরানো হচ্ছে অধীনতার শৃঙ্খল , বাক স্বাধীনতার নামে মানব জাতির মুখে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে কালো টেপ । দারিদ্র দূর করার নামে গুটিকয়েক মানুষ লুন্ঠন করছে পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ আর অসহায় বনী আদম পরিনত হচ্ছে তাদের দাসানুদাসে ।

নবী রাসূলগন বলেছিলেন সুদ মানবতার জন্য এক ভয়ংকর অভিশাপ , আল্লাহ এ সুদকে নিষিদ্ধ করেছেন । এর মাধ্যমে সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়ে যায় ; বঞ্চিত হয় সিংহভাগ মানুষ , লাঞ্চিত হয় মানুষের মৌলিক অধিকার । কিন্তু এ মোড়লেরা সুদকে জীবনের অপরিহার্য বিষয় বানিয়ে নিল যার ফলে এখন ৯৯ শতাংশ সম্পদ এক শতাংশ মানুষের কাছে কেন্দ্রীভুত হয়ে গেছে বলে অক্সফামের রিপোর্ট আমাদের জানান দিচ্ছে । আমাদের আলোকিত মানুষ প্রফেসর ইউনুস , অমর্ত্য সেনেরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ।

নবী রাসূলগন বলেছিলেন মাদক বা মদ আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন , এটা মানষের মনুষ্যত্বকে বিনষ্ট করে , তার বিচার বুদ্ধি লোপ পাইয়ে দেয় । ফলে মানব সমাজে ভয়ংকর বিপর্যয় দেখা দেয় । আমাদের এ মোড়লেরা মদ বা মাদক কে সভ্যতার অপরিহার্য অনুসঙ্গ বানিয়ে নিলেন । তারা বললেন কুলীন এবং শালীন হতে হলে এ সমস্ত রঙিন পানি পান করা জরুরী । গড়ে উঠলো হাজার হাজার পানশালা , উৎপাদিত হতে লাগলো রং বেরংয়ের পানীয় এবং সুদৃশ্য পানপাত্র। আমাদের খাবার টেবিল গুলো সুশোভিত হতে থাকলো এ সমস্ত সুরাভর্তি দামী পাত্রে । আমরা উচ্ছসিত হলাম কুলীন হওয়ার আনন্দে । কিন্তু এখন হিরোইন , ইয়াবা , মদ -গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকের সর্বনাশা ছোবলের ভয়াবহ পরিণতি দেখে আমরা বলতে শুরু করছি গেল গেল ! আমাদের দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখছি মাদক বিরোধী শ্লোগান । আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সভা করছেন , লিফলেট পোষ্টার বিতরণ করছেন মাদক গ্রহন না করতে । আমাদের রড্রিগো দূতের্তেরা ( ফিলিপিনের প্রেসিডেন্ট ) রাস্তা ঘাটে গুলি করে বিনা বিচারে হাজারো মানুষ মেরে ফেলছে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যাদিয়ে । উদ্দেশ্য -মাদক নিয়ন্ত্রন ।

ইসলাম নারী পুরুষের সমমর্যাদার ভিত্তিতে কর্ম ও দায়িত্বের মধ্যে একটি বিভাজন করেছে মানব বংশের সুরক্ষা ও স্থিতির স্বার্থে । দায়িত্ব ও কর্মের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তাদের উভয়ের শারিরীক গঠন ও মানসিক প্রবনতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন মানুষের স্রষ্টা । নারীর নিরাপত্তা , মর্যাদা,স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতার স্বার্থেই তাকে একটা ড্রেসকোড দেয়া হয়েছে । অপ্রয়োজনে বাইরে যেতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে- নিষেধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকজন আপনজন ছাড়া অন্য পুরুষদের সাথে একান্ত হতে । কিন্তু আমাদের প্রগতির (?) ধারক মোড়লেরা বলে উঠলেন এটা একটা মধ্যযুগীয় ধারনা । মেয়েদের অধিকার ও স্বাধীনতা হরণ করার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা ষড়যন্ত্র ! এরকম প্যাকেট করে ফেলে মূলত নারীকে দারুনভাবে অবমাননা করা হয়েছে । তার সৌন্দর্য ঢেকে রাখার কিছু হলো ? এটা সবাইকে প্রদর্শন করাই প্রগতি ও উন্নতির দাবী । হিজাব নিকাবকে পশ্চাৎপদতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করার এক অশুভ প্রবনতা শুরু হলো । এখন তো ভীতিকর উপাদান হিসেবে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধই শুরু হয়েছে।অতএব , কাজের চেয়ে অকাজের জয়জয়কার শুরু হলো । ফল যা হবার হতে শুরু করলো । ঘর ভাঙা,পরকীয়া, ধর্ষন ,খুন ইত্যাদির সয়লাব শুরু হলো । চার বছরের শিশু থেকে চুরাশি বছরের বুড়িও ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না । তনু, খাদিজা , শারমীন - ইয়াসমীনদের কিসসা দীর্ঘ হতে শুরু করলো । প্রগতির (?) যোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দুনিয়া ।

ক'টি উদাহরণ দেব ? কলেবর বাড়িয়ে পাঠকদের কষ্ট দিয়ে কি হবে ? 'আকলমান্দ কা ইশারাই কাফি ' । ঐশী জ্ঞান বিবর্জিত তথাকথিত আলোকিত এই সমাজ , যারা ঐশী জ্ঞান তথা ওহী ভিত্তিক জ্ঞানকে কুসংস্কার বলতে পুলক বোধ করে , স্বসৃষ্ট সমস্যাগুলো যখন উপলব্ধি করে এবং প্রতিকারের জন্য ছুটাছুটি করে ততদিনে পানি অনেক গড়ায় , সমাজ দেহে ক্ষত হয়ে যায় অনেকখানি।

সবশেষে বলতে হয়, আল্লাহর বিধানই নির্ভুল, কালজয়ী এবং কল্যানকর । এটা যত তাড়াতাড়ি সভ্যতাগর্বী বর্তমান সমাজ বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল । নয়তো বলতেই হবে, ' নৌকা ! ফিরবা তো , তবে গলুই থাকবে না ।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×