আটপৌরে দুপুরের কোল জুড়ে নৈমিত্তিক ক্লান্তি,
বিকেলের মিঠে রোদে ভর করা অজানা বিষন্নতা,
কিংবা আঁধারের বুকের ভাঁজে শুয়ে থাকা চেনা-অচেনা দুঃখ
কিছুই এখন আর খারাপ লাগে না আমার।
একবার একতারা বেজেছিল প্রাণে;
কালক্রমে তার শব্দ হারিয়ে গেল দূরে, আরও দূরে।
উজ্জ্বল আলোক, সেও সন্ধ্যায় মিলাল;
আলো দিতে দিতে একদিন কিছু তারা সত্যিই মরে গেল;
আমি দুঃখ পেলাম খুব।
সেদিন বিকেলে ফুলেরা ঘুম ভেঙে জেগেছিল;
কিছু প্রজাপতি ফুলেদের রঙ মেখে আরও বাহারী হল।
আমি মুগ্ধ হয়ে বললাম, ‘আমি প্রজাপতি ভালোবাসি।’
কিন্তু প্রজাপতিগুলো উড়ে গেল সবে,
ভালোবাসা বন্দীত্বের প্রতিনিধিত্ব করে না-এইটুকু বলে,
আমায় বন্দী করে ভালোবাসা ডোরে।
আমার বিকেলটাই গেল মাটি হয়ে, তাই
সেদিনও দুঃখ পেলাম খুব।
এইতো, এই শীতেও কত পাতা ঝরেছিল।
শুকনো ঝরা পাতা মাড়িয়ে কতবার,
আমি কতবার হেঁটে গেছি বুনো পথ ধরে।
পায়ের নিচে চুরমার হয়ে যাওয়া শুকনো পাতার বিলাপে
আমি অভিভূত হয়ে গেছি বার বার।
কী জানি, হয়তো অজানা কোন দুঃখই হয়েছিল।
হয়তো এই বর্ষায়ও আকাশ কাঁদবে খুব;
ভেসে যাবে সাধের আবাদী জমি।
নদীতে ডাকবে বান, ভেসে যাবে রাশি রাশি হাসি।
হৃদয় উপচানো দুঃখে ভাসবে একলা কোন পাখি;
অবিরাম বৃষ্টির কান্না শুনে ডেকে যাবে একঘেঁয়ে বিষণ্ণ সুরে।
আমারও দুঃখ হবে এই ভেবে জানি-
কতটা দুঃখ হলে আকাশ অমন করে কাঁদে।
হয়তো ভাবছো, বাহবা! এ তো দুঃখের দোকানদারী।
সত্যি বলছি, আমি অনেক ভেবেছি-
দুঃখ আমার কেমন লাগে। ভাবতে ভাবতে
দুঃখকে আমি আরও ভালোবেসে ফেলেছি।
জেনে অথবা না জেনে, একটু একটু করে
আমি আজ দুঃখ বিলাসী হয়েছি।
বিঃ দ্রঃ এটা অনেক দিন আগে একবার পোস্ট করেছিলাম। কিভাবে যেন ডিলিট হয়ে গেছে। তাই রিপোস্ট করলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
