
ইয়ামামার যুদ্ধ এটি সম্ভবত ৬৩২ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান সৌদি আরবের ইয়ামামা নামক স্থানে মুসলিম ও স্বঘোষিত নবী মুসায়লিমার পক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধ রিদ্দার যুদ্ধের একটি অংশ ছিল।মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর অনেক আরব গোত্র মদিনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। খলিফা আবু বকর বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করার জণ্য ১১টি সেনাদল গঠন করেন। তিনি ইকরিমা ইবনে আবি জাহলকে একটি সেনাদলের অধিনায়ক নিযুক্ত করেন। তাকে আদেশ হয় যাতে তিনি মুসায়লিমার সেনাদের সাথে ইয়ামামায় সাক্ষাত করে। তবে তাকে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তার সেনাসংখ্যা আক্রমণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অন্যান্য ক্ষুদ্র বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করার পর খালিদকে এই অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হয়। ইকরিমাকে নিয়োগের উদ্দেশ্য ছিল যাতে মুসায়লিমাকে ইয়ামামায় আটকে রাখা যায়। তার উপস্থিতিতে মুসায়লিমা আক্রমণের আশঙ্কায় নিজ শিবির ত্যাগ করতে সক্ষম হয়নি। মুসায়লিমার এমতাবস্থায় খালিদ উত্তর মধ্য আরবের বিদ্রোহী গোত্রগুলোকে মোকাবেলার জন্য সুযোগ পেয়ে যান। ইকরিমা অগ্রসর হয়ে ইয়ামামা অঞ্চলে শিবির স্থাপন করেন।
তার শিবিরের স্থান জানা যায়নি। এই শিবির থেকে তিনি বনি হানিফা গোত্রের উপর নজর রাখেন এবং খলিফার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। খলিফা খালিদকে মুসায়লিমার বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। পাশাপাশি শুরাহবিল ইবনে হাসানার সেনাদের কমান্ডও তার উপর ন্যস্ত করা হয়। খালিদ বুতার দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তার পুরনো সেনাদল তার অপেক্ষায় ছিল। ইতিমধ্যে খলিফা শুরাহবিলকে খালিদের অধীনে কাজ করার আদেশ দিয়ে চিঠি পাঠান। মুসায়লিমা তার চল্লিশ হাজার সেনা নিয়ে আকরাবার সমভূমিতে শিবির করেছে এ সংবাদ খালিদ জানতে পারেন। ইতিপূর্বে মুসায়লিমার সেনারা ইকরিমা ও শুরাহবিলকে পরাজিত করেছিল।
খালিদের নির্দেশে মুসলিমরা অগ্রসর হয়। মুসলিমরা পুরো শক্তি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। কিন্তু যুদ্ধ ভারসাম্য অবস্থায় চলে আসে। এরপর যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে মুসলিমরা সফল হয়।
মুসায়লিমার সেনাবাহিনীর এক চতুর্থাংশ এসময় টিকে ছিল। তারা একটি দেয়ালঘেরা বাগানে আশ্রয় নেয়। তাদের ডান পাশের কমান্ডার মুহাকিম পিছু হটতে সক্ষম হয়। মুসলিমরা এখানে উপস্থিত হলে মুসায়লিমাসহ ৭,০০০ এর কিছু বেশি বিদ্রোহী সৈনিক এতে উপস্থিত ছিল। বিদ্রোহীরা গেট বন্ধ করে দেয়। ফলে মুসলিমরা ভেতরে গিয়ে লড়াই করতে সক্ষম ছিল না।সেসময় মুসলিম সৈনিক আল বারা ইবনে মালিক তার অনুসারীদের নিয়ে দেওয়াল টপকে যাওয়ার জন্য আহ্বান করেন যাতে ভেতর থেকে গেট খুলে দেওয়া যায়। সৈনিকরা তারপর বাগানের ভেতর ঢুকে পড়েন এবং গেট খুলে দেয়। তারপর যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায় সম্পন্ন হয়।
তারপর লড়াই ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মুসায়লিমা তখনও লড়াই করছিলেন। মুসায়লিমা ওয়াহশি ইবনে হারবের নজরে পড়লে তিনি তার বর্শা মুসায়লিমার দিকে নিক্ষেপ করেন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উহুদের যুদ্ধে ওয়াহশি একই বর্শা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে নিক্ষেপ করেছিলেন। মুসায়লিমার মৃত্যুর সংবাদে বিদ্রোহীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। বাকি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে নিহত হয়।
এই যুদ্ধ আরব ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়।ইয়ামামার যুদ্ধ আবু বকরের কুরআন সংকলনে ভূমিকা রাখে। মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় কুরআনের বিভিন্ন অংশ সাহাবীদের কাছে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় লিখিত ছিল। ইয়ামামার যুদ্ধে সাতশত জন হাফিজ নিহত হন। উমর ইবনুল খাত্তাবের অণুরোধে আবু বকর সমগ্র কুরআন একটি খন্ডে সংকলনের নির্দেশ দেন।
তথ্যসূত্রঃ
A.I. Akram, The Sword of Allah: Khalid bin al-Waleed, His Life and Campaigns, Nat. Publishing. House, Rawalpindi (1970) ISBN 0-7101-0104-X
এবং ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


