somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

চিন্তিত নিরন্তর
জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে দিয়েছি চিন্তা করতে করতে। কখনো চিন্তা করার উপযুক্ত সময়ে, কখনো পড়তে বসে এমনকি খেতে বসেও চিন্তা করে সময় পার করেছি। চিন্তা করি নিজেকে নিয়েই বেশি। পরিবার, সমাজ, দেশ ধর্ম, সৃষ্টিকর্তা, বহির্বিশ্ব ইত্যাদি কত ব্যাপর নিয়েই নিজ

আপনি আপনার অতিরিক্ত খাবার অন্যদের দিয়ে দিচ্ছেন তো ঃ ধন্যবাদ ফিকলা ইয়েল এমন উদ্যোগের জন্য

১২ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কখনো কখনো তারকাদের ভাল কাজগুলো এতটাই বেশি প্রচারিত হয় যে, তাদের অনুসরন করা মানুষেরা এতে অনুপ্রাণিত হয়ে সে কাজগুলো করতে থাকে, যদিও বাস্তব জীবনে তারকারা মানুষ হিসেবে খুব একটা ভাল নন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খেলার জগতে লিওনেল মেসির বিয়ের আদ্যপান্ত সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ব্যক্তিগত জীবনে এই মানুষটির খুত ধরা খুব কঠিন যেমনটা খেলার জগতে । তার বিয়ের অনুষ্ঠানটির শেষ প্রান্তে এসে অন্যরকম মাত্রা পেয়েছে। সেটা বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত খাবার দান করা নিয়ে। সে মানুষ হিসেবেও অনুকরণীয় তার প্রমাণ আবারো রেখেছে।

নিজ ঘরের অতিরিক্ত খাবার অভুক্তদের কিংবা পথচারীদের দিয়ে দেয়ার উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন ফিকলা ইয়েল নামে একজন অষ্ট্রেলিয়ান । গতবছরের রমজান মাসে তিনি তার বাড়ি সামনে অন্যদের খাবার জন্য অতিরিক্ত খাবারগুলো রেখে দিতেন। ব্যপারটি আরো বেশি অলোচিত হয় যখন আরব আমিরাত সরকারী উদ্যোগে দেড়শতের ও বেশি ফ্রিজ স্থাপন করে। হয়তবা প্রতিবেশি দেশের এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে সৌদি আরব মসজিদ্গুলোতে বড়মাপের ফ্রিজ স্থাপন করে। ধনী পরিবারগুলোর রাতের অতিরিক্ত খাবার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত খাবার যা তারা সংরক্ষণ করতে পারছেনা, সে খাবারগূলো যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য এই ফ্রিজগুলো স্থাপন করা হয়েছে। আগে অতিরিক্ত খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দিত। দেরীতে হলেও আরবদের টনক নড়ছে।

এই অবস্থা গুলো সৃষ্টির পেছনে সিরিয়া যুদ্ধ অনেকটা দায়ী। যুদ্ধের পর আরব আমিরাতে সিরিয়ার রিফিউজি বেড়েছে । ভিক্ষাবৃত্তিও শুরু হয়েছে। তাদের ফ্রি খাবার যোগান দেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবে দিন্ দিন প্রবাসী বাড়ছে, দরিদ্র বাড়ছে। পথচারী, মুসাফিরদের অতিরিক্ত খাবারগুলো খাইয়ে দিতে পারলে মন্দ হয়না। পরিস্থিতি যাই হউক, উদেশ্য খুব ভাল। মানুষ অস্ত্র আর যুদ্ধের প্রতিযোগিতায় না নেমে এমন অন্যদের মুখে বিনা নামকরনে, বিনা মিডিয়া কভারেজ নিয়ে ক্ষুধার্তদের মধ্যে খাদ্য বিলিয়ে দিলে কত শান্তিই না হত আমাদের পৃথিবীটা। ভারত , ইসরাইল, আমেরিকা, সৌদিয়ারব, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স যেভাবে অস্ত্র চুক্তি করতে হুমরি খেয়ে পড়েছে তার কিঞ্চিৎ যদি ধনী দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোর খাদ্যাভাব মেটাতে ব্যয় করত, তাহলে পৃথিবীতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধকেরও বেশি কমে যেত ।

আমাদের দেশেও এমন উদ্যোগ নিলে মন্দ হয়না। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা ও দূর্নিতিপরায়ন মনোভাব এধরনের উদ্যোগের জন্য প্রতিবন্ধকতা। তবে একটু পজেটিভলি চিন্তা করলে ব্যপারটা অন্যরকম দাঁড়ায়। আমরা যারা অতিরিক্ত খাবার অন্যদের দিয়ে দিচ্ছি, সেগুলো প্রকৃত ক্ষুধার্তের কছে না পৌছুলেও এই ভেবে শান্তি পেতে পারি খাবারগুলো অন্তত নষ্ট হচ্ছেনা। আপনার অতিরিক্ত খাবারগুলো ব্যকটেরিয়ার খাদ্য হবার চেয়ে কোন মানুষের কিংবা প্রানীর খাবার হওয়াটা বেশি ভাল নয়কি ?

সুতরাং আপনি আপনার অতিরিক্ত খাবার অভুক্তদের দিয়ে দিচ্ছেন তো ..

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৪৯
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×