যখন আমরা দেখি শিক্ষকতা করার জন্য কর্মস্থলে পাবলিক বাসে যাতায়াত করেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজের অদূরে অবস্থিত সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পায়ে হেটে সাধারন পথচারীদের সাথে কুশল বিনিময় করতে করতে যান, তখন ভাবতে বেশ ভালই লাগে। তাঁদের সত্যিকার নেতা বলে মনে হয়। তাঁদের প্রতি মনের মধ্যে আলাদা রকম শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেয়।
আহমাদিনেজাদ সাহেবের পাবলিক বাসে যাতায়াতের সংবাদ শুনে এই গরমে সাধারন যাত্রী হিসেবে যেন প্রশান্তি পেলাম। তিনি যদি পারেন, আমার পারতে অসুবিধা কোথায়? লজ্জায় বা কিসের? আমার মতো পাবলিক বাসের যাত্রীরা নিশ্চয়ই আহমাদিনেজাদ সাহেবকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাবেন। কিন্তু আহমাদিনেজাদ যে উচ্চতার মানুষ তা কি এদেশের তাঁর সম-উচ্চতার মানুষরা বুঝবেন?
ওবামা হয়তো বুঝেছিলেন কিছুটা, তাই কোন ধরনের বডিগার্ড ছাড়া হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়েছিলেন। পথে সাক্ষাৎ হওয়া শিশুদের উপহার দিয়েছেন চকোলেট, আর বড়দের কাছে জানতে চেয়েছেন তাঁদের বর্তমান অবস্থা।
ওবামার এই আচরণ প্রতিদিনের নয়, তবুও তিনি করেছেনতো এটাতেই তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আহমাদিনেজাদ, যে মানুষটা দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট হয়েও, প্রতিটা দিন পাবলিক বাসে কর্মস্থলে যান, বাসের মধ্যে সিট পেলে বসেন নয়তো দাড়িয়েই যান তাঁকে শ্রদ্ধা না করে কি পারা যায়!
আমাদের দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের নেতাই হয়তো আল্লাহ্র কাছে দোয়া করবেন, হে আল্লাহ্, তুমি যত পারো 'আহমাদিনেজাদকে আরও বেশি করে তোমার পথে চলার তৌফিক দান করো, কিন্তু আমাদেরকে তাঁর পথে, তাঁর মতো করে চালাইও না। আমরা তাঁর মতো ফকিরের বেশে চলতে পারবো না। মরে গেলেও না! এমন কি বনানী কবরস্থানে কবর দিলেও না!'
আমাদের দেশে এ দোয়া 'ওপেন সিক্রেট'।
নেতা-আমলা আর কতজন হন, তাঁরাতো হাতে গোনা, কিন্তু সাধারনের মধ্যে তাঁরা অনেক প্রভাব বিস্তার করে, তাঁরা যদি সৎ ও ধার্মিক হন তাহলে তাঁদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ সত্যিকার অর্থেই অনেকগুন বেড়ে যায়।
যারা সাধারন জীবন-যাপনে অভ্যস্ত তাঁরা আমার মতো নিশ্চয় চাইবেন আহমাদিনেজাদের মতো সম্মান নিয়ে সুখে থাকতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



