somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমান বাংলা সিনেমা নির্মাণ ও বাস্তবতা

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকে সিনেমার সাথে পরিচয় হওয়া মানে এফডিসির সাথে পরিচয় হওয়া ।সেই সাথে নায়ক নায়িকা ভিলেন গান এসব নিয়ে অদ্ভূত এক বড় ক্যানভাসের নাম সিনেমা।বর্তমান সময়ে সিনেমা বিশেষ করে বাংলা সিনেমা নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা বা আলোচনা হচ্ছে -এটা অব্যশই ভাল দিক ।কিন্তু এটা খুব দূরুহ একটা ব্যাপার নির্মাণের ব্যাপারে।প্রচুর অর্থ লাগে !তার সাথে দক্ষতা,প্রতিভা যোগ না থাকলে ঠিক সিনেমা হয়ে উঠে না।বাণিজ্যিক আর বিশেষ বা র্শট কোনটা কোন অংশে কম নয়।সাহিত্যের যেমন বিভিন্ন রকমফের আছে সিনেমার ক্ষেত্রে ও তাই।একটা কথা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবসময়ই প্রযোজ্য-সেটা হল পেশাদারিত্ব।এটা যে শুধু সিনেমার ক্ষেত্রে তা না সবর্ক্ষেত্রে এটা একধরনের কালিমা আমাদের দেশের জন্য।পেশাদারিত্ব হল উৎকৃষ্টের উৎকৃষ্ট ।এখানে সর্বোচ্চটা দিতে হয় তা না হলে টিকে থাকা যায় না আর এখানেই ভাল কিছু তৈরীর নিয়ামক ও পাওয়া যায়।যার যার জায়গায় জবাবদিহিতা থাকে হোক সে অফিস বা জনগণ বা রাষ্ট্র।আ্মার যতদূর জানা ৯০ দশকে এফডিসিতে প্রায় একলক্ষ লোকের কর্মসংস্থান ছিল।এদিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ও লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে !এতগুলো শ্রমিকের জন্য সরকারের যে দরদ সেটা এফডিসির বেলায় ছিল না ।মনে রাখা দরকার শ্রমের মূল্য সবজায়গায় এক কাজের ধরণটা ভিন্ন হতে পারে।তাহলে কেন সরকার এফডিসিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেননি বা বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেননি-সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয় ।পুঁজি কতটুকুন খাটাবেন কতটুকুন তুলে আনবেন সেটা বিনিয়োগ কারীরাই ভাল জানবেন।এত জানাজানির মধ্যে আজ এত হাহাকার কেন? কেন হতাশা কেন?এত নৈরাজ্য কেন? এরপর কেবল টিভির প্রসার বিনোদনের সহজলভ্যতা বাংলা সিনেমাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে গেছে।এজন্য বিদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে দায়ী করতে পারি না তাছাড়া মুক্তবাণিজ্য অর্থনীতির ক্ষেত্র আমরা অনুশীলন করছি।এতে কর্মসংস্থান,বিনিয়োগ,মানুষের আয়,যোগ্যতা নির্ণয় হয় ।জীবন মানে যুদ্ধ আর সক্ষমতার পরিচয় দেয়া এর বিকল্প কোন কিছু নেই।এর জন্য শিক্ষা ,দক্ষতা অনির্বায্য হয়ে উঠে।এরপর বাংলাদেশে এফডিসির বাইরে এসে নতুন নতুন পুঁজিপতিরা সিনেমা বানানোর কাজে হাত দিল।ভাল কথা ।এটা সারাবিশ্বে নানা ভাবে হয়েই থাকে।তবে বিশ্ব হলিউডের দিকে নজর দিলে দেখা যায় আমেরিকায় সে সিনেমা বানানো হয় তার বেশিরভাগ হলিউড কেন্দ্রিক।ওদের মত কারো তুলনা করা ঠিক নয়।এখন সিনেমা তৈরী করতে গিয়ে বাংলা সিনেমার গতানুগতির কাহিনী,নির্মাণ এ মানুষ বোরিং হয়েগিয়েছিল আর তা থেকে পরিত্রাণ দিতে গিয়ে ভিন্ন ধাঁচের সিনেমা তৈরীর একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা ব্যক্তিবিশেষে,কিছু টিভি চ্যানেল,কিছু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ।ভাল কথা একেবারে কিছু যে হয়নি তাও নয়।তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাল সিনেমাতো দূরের কথা খারাপ সর্বনিম্নপর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।যে ভাল অভিনয় ও জানে না তাকে পরিচালক বানানো হয়েছে,যারা ভাল নির্মাতা নন তাদেরকে ও পরিচালক,নিজেদের সিনেমা নিজেরা বানায় নিজেরা হিট বলে নিজেরা দেশ বিদেশের গ্রাম পল্লিতে গিয়ে পুরষ্কার কিনে আনা মানে সিনেমা নয়।যাদের জন্য সিনেমা বানান তাদেরকে যদি আপনি সম্প্ৃক্ত না করতে পারেন তারা যদি পচা বলে ফেলে দেয় সেইসব সিনেমাকে পর্যন্ত তারা আর্ন্তজাতিক নাম দিয়ে ফলাও করে নিজেদের মিডিয়ায় প্রচার করে মানুষকে বোকা বানানোর হিড়িক পড়েছে এই দেশে।প্রতিবেশী ভারত তাদের টাকা আছে শতকোটি বাজেটের সিনেমা হয় কিনতু কাহিনী সেই আগের জায়গায় আছে ।নতুন কিছু নেয়—এটা নাসিরুদ্দিন শাহের কথা ।তাদের দেশের টিভি চ্যানেল’রা কিন্তু সিনেমা বানায় না সিনেমা বানায় তারা ঠিক এক জায়গাতে সেই হাবটা হল মুম্বাই।ওরা বাজার বড় করতে পেরেছে তাদের গল্পে হয়ত ঘাটতি আছে কিন্তু সিনেমার অন্যান্য জায়গায় ভালই পেশাদিরিত্ব রপ্ত করছে আসলে এটার বিকল্প কিছু নেই।বাণিজ্যিক সিনেমাকে আমাদের এখানে খুব অবহেলা করা হয়।ভাল সিনেমা মানে টেনেটুনে টেলিফিল্ম বানানো নয়-এখানে ভাল সিনেমা বলতে মনে হয় তাই বুঝে সবাই।একটা র্শট ফিল্ম দেখলে বুকের মধ্যে অনেকটা টান পড়ে অথচ মাত্র দু –তিন মিনিট বড়জোর পাঁচ-সাতমিনিট হয়।গতিহীন সবকিছু ক্লান্ত ক্লান্ত লাগে ।আমরা এফডিসিকে সার্থক না করে এর বাইরে নিয়ে গিয়ে আমরা বাংলা সিনেমার চুড়ান্ত সর্বনাশ করেছি এটা উপলদ্ধি করতে না পারলে কিছুই হবে না।একটা থিয়েটার স্কুল নেই,টেনিক্যাল কোন সার্পোট নেই ,ভাল অভিনয়ের কোন ব্যবস্থা নেই এত সংকটকে কোনভাবে অতিক্রম করা যায় না দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আর ডেডিকেশনই পারে ভাল সিনেমা উপহার দিতে দর্শকদের বিনোদন দিতে।একটা সময় এক টিকেটে দুই সিনেমা দেখার চেয়ে বাংলা সিনেমায় বেশি র্দশক ছিল বেশি আজ কেন নেই তা অনুধাবন করা জরুরী।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×