আটশত শতক থেকে বাঙালির ইতিহাসে যে নতুন সঙ যুক্ত হয়েছে বা দ্বনদ্ব যুক্ত হয়েছে তা উনিশ শতক পেরিয়ে একুশ শতকেও উপমহাদেশের রাজনীতি ও সামাজিক পরিমন্ডলে-বাঙালির আগে মুসলমান বসবে নাকি পরে মুসলমান বসবে সে আত্মপরিচয় বাঙালি নির্ধারণ করতে পারেনি।সে হিসাবে সমাজ ও রাজনীতির মাঠে যেমনটাই খেলা হবে তেমনটিই খেলবে: মূলত এটাই শিক্ষা!এই শিক্ষাটা সবাই প্রায় মেনে নিয়েছে। আদৌ সবাই মেনেছে কিনা সেটা বড় নয়।বেশিরভাগ যখন মেনেছে তাহলে ঠিক আছে।দু-চারজন যেহেতু সমাজের দশজনের মধ্য থেকে এগারজন হওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের কথা কে শুনবে? ধোপে না টিকার মত যারা পাল্টে দিতে চেয়েছে সে পাল্টানোটা ব্যক্তির পাল্টানোর জায়গাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সে প্রভাব সমাজের ওপর তেমন পড়েনি যতটুকুন পড়ার মত হয়েছে ততটুকুনতো অবশ্যই নয়।যদি পড়ত তাহলে শতকে শতকে যে সমাজ আছে সে সমাজ একুশ শতকেও একই চেহারা নিয়ে আছে কি করে? বরং বলা যায় চেহারার ওপর আরো নানা পলল বসিয়ে চেহারা বড় করেছে বা মাস্ক বানিয়েছে।নির্মোহ সত্য সবাই বলতে পারে না।সত্য বলার তেজ তারই থাকে যার উদ্দেশ্য সামাজিক,রাজনীতিক ও অর্থনীতিকের চেয়েও অনেক উঁচু পরিমন্ডলে অবস্থান করে।সমাজের ভেতর অবস্থান করে সমাজের কুৎসিত সত্য উন্মোচন করতে গেলেই যখন বিরোধ বাঁধে তখনই সম্প্রদায়,বর্ণ,লিঙ্গ,ধর্মভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠে।বাঙালির আগে পরে তখন সব বিশেষণ একত্র হয় সে অদ্ভূতাকার সামাজিক বল হয়ে উঠে যা খেলার সামগ্রি হিসাবে অনুষঙ্গ যোগে বিরাট খেলার চরিত্র ধারণ করে।সে মাঠে সবসামাজিকতাই খেলা।দাঁড়ি বনাম গোঁফ, টুপি বনাম ফেজটুপি, জপমালা বনাম তসবিহ,বাম বনাম ডান,লুঙ্গি বনাম ধুতি,জল বনাম পানি,পায়জামা বনাম প্যান্ট, কৃষ্ণ বনাম মোহাম্মাদ,বোরকা বনাম শাড়িসহ সব সব। যা মনে লাগে সবযোগে সামাজিক যে শিক্ষায় সবাই শিক্ষিত হয়েছে এবং মেনে নিয়েছে সে শিক্ষাটা ঠিক আছে! এরচে বেশিশিক্ষার যে বদহজম তাতো ফ্লাজিল খেলেও নিরাময় হওয়া যাবে না।সমাজকে ফ্লাজিলটা কে খাওয়াবে?সেই শিক্ষাটাই বরং রপ্ত করা যেতে পারে।যেটা করতে গেলে বাঙালির যে ভয়।সে ভয় সন্দেহযোগে আরো পোক্ত হয়েছে,পিলার হয়ে গেছে।সন্দেহ বাঙালি কনফিউজ বাঙালির মুক্তি যে কিসে হবে তা জানার চেয়ে বরং আরো উন্নত লো- বাঙালি আধুনিক বাঙালির বেশে কাটলেটই খাক।সে কাট-লেটে যদি ভিটামিন বাঙালি পাওয়া যায়!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




