
পুলিশকে মানুষ যতই খারাপ বলুক কিন্তু পুলিশের উপর আমার শ্রদ্ধাবোধ সবসময়ই কাজ করে। এটা কোন আত্মীয়তার জন্য নয় বরং তাদের দায়িত্ব ও দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে কম সুযোগ পেয়েও যেভাবে নিরলসভাবে কাজ করে তা থেকেই এই শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে।
আমার এই বক্তব্য শুনার পর অনেকেই হয়তো ক্ষেপে গেছেন। কেউ কেউ হয়তো বলছেন, "আপনি(আমি) কখনো পুলিশ নির্যাতনের স্বীকার হয়নি বা আমার কোন আত্মীয়কে ক্রসফায়ারে হত্যা করেনি তাই বলছি "।
আপনার অভিযোগটি সত্য। কিন্তু একটিবার কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন যে, পুলিশ কোথা থেকে এসেছে? এরা কি ভীনগ্রহের কোন প্রাণী? এরা কারা? এরা কি আমাদের সমাজের অংশ নয়?
এরা তো আমাদেরই কারো ভাই, কারো বাবা, বোন, বন্ধু, প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজন। নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিতেই এরা চাকুরীতে যোগ দিয়েছে।
তাহলে পুলিশের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ কেন? এমন কি আলাদিনের চেরাগ ভর করেছে যে, যেই ছেলেটি গতকালও আমাদের কাছের কেউ ছিলো সেই ছেলেটি পুলিশে যোগ দেওয়ার সাথে সাথেই আমাদের চক্ষুশূল হয়ে গেল?
পুলিশ জনগণের বন্ধু। আমাদের দেশে এটা প্রযোজ্য নয়। উন্নত বিশ্বে ঠিকই পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশে পুলিশ শত্রু হিসেবে পরিচিত। তবে সবার কাছে নয়।
আমাদের দেশে সরকারি দলের সমর্থকদের(ব্যাতিক্রমও আছে) কাছে পুলিশ বন্ধু হিসেবেই পরিচিত। আর বিরোধী দলের জন্য পুলিশ হলো ত্রাসের নাম। আসলে এটার জন্য দায়ী কে বা কারা? আমরা যারাই ক্ষমতায় আছি বা ছিলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশকে কি অপ ব্যবহার করিনি?
প্রশ্ন রেখে গেলাম
সারা বিশ্বে শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা কর্ম দিবসের জন্য অনেক আন্দোলন। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরাও পত্রিকায় বড় বড় কলাম লেখে। আচ্ছা, বাংলাদেশের পুলিশের কর্মঘণ্টা কতো আপনি জানেন?? কখনো কাউকে পুলিশের ৮ ঘন্টা কর্ম দিবসের জন্য কাউকে কিছু বলতে শুনেছেন?
আমরা গনতান্ত্রিক ভাবে সরকার নির্বাচন করে শুধু সংসদেই পাঠাই না। গ্রামের ছেঁচড়া পাতি নেতাটাকেও মন্ত্রীর ক্ষমতা দিয়ে থাকি। হতমূর্খ ক্ষমতাসীন(যে যখন ক্ষমতায় থাকে) দলের একজন ওয়ার্ড সদস্যও একজন এসপির সাথে কথা বলতে দুইবার ভাবে না। আর এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই বদলিসহ, বিরোধী দলের এজেন্ট, প্রমশন বন্ধ ও চাকুরি হারানো ভয় তো থাকেই। নিজের স্বার্থে পুলিশকে এভাবে ব্যবহার করে সেই পুলিশ থেকে ভালো কিছু আশা করতে লজ্জা লাগে না?
প্রশ্নটা জমা রাখুন
আমি বলছি না এই বাহিনী কলঙ্কমুক্ত। কিন্তু কলঙ্কমুক্ত হওয়ার সুযোগটাকি আমরা তৈরি করেছি? পুলিশের অনেক সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে। কিন্তু কি লাভ? সেই রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে দেখাযায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিতে পারে না!
পুলিশের কাজ সরকারি দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সরকারি দলের রাজনৈতিক কাজেও পুলিশকে ব্যবহার করা হয়। এখানেই মূল সমস্যা। আর এটার জন্য পুলিশ বাহিনীকে অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। তাদের মধ্যে এই উপলব্ধি জাগাতে হবে, নিজেদের বাহিনীকে যুগপোযোগী করতে হবে। পরিশুদ্ধি আনতে হবে। পুলিশকে সরকারি কাজ করতে গিয়ে যেন সরকারের(যারা যখন ক্ষমতায় থাকে) রাজনৈতিক দলীয় কাজে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে থেকেই প্রতিবাদ আসতে হবে।
আজ(৫. ৬.১৬) নিজ সন্ত্রানকে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে আসার পথে চট্টগ্রাম জিওসি মোড়ে বাংলাদেশের নিবেদিত প্রান, তরুণ পুলিশ অফিসার এসপি বাবুল আকতারের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা! এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না। যেই অফিসার নিজের জীবন নিঃশেষে করে দিচ্ছে জাতির জন্য তার কপালেই কিনা নির্মম আঘাত। এটাই কি তার কাজের প্রতিদান?
এই ক্ষতি শুধু এসপি বাবুল ও তার পরিবারের নয়। এটা বাংলাদেশের ক্ষতি। আমাদের জাতির ক্ষতি। যা কখনো পূরণ হবার নয়। কারণ একজন ভালো সহধর্মিণীর সহযোগিতা ছাড়া এমন সুযোগ্য অফিসার হওয়া সম্ভব না। মাহমুদা খানম মিতু আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন। আপনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
আশা করি সন্ত্রাসীরা অচিরেই ধরা পরবে। এবং দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



