বাংলাদেশে যখন কোনো বাঙালি হিন্দু নির্যাতিত হয় তখন মিডিয়াতে বলা হয় একজন হিন্দু নির্যাতিত হয়েছে। কেউ বলেনা একজন বাঙালি নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু কোন বাঙ্গালী মুসলমান খুন হলে বলা হয়না মুসলমান খুন হয়েছে। আবার হিন্দুদের কোনো কালচার যেমন মঙ্গল প্রদীপ, মোমবাতি প্রজ্জলন, মঙ্গল শোভাযাত্রা ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতীক যখন মতাদর্শ নিরপেক্ষ উৎসবে (যেমন পহেলা বৈশাখ) দেদারসে ব্যবহৃত হয় তখন এগুলোকে বলা হয় বাঙালি কালচার। তখন এটাকে হিন্দু কালচার বলা হয় না।
এভাবে মিডিয়া নির্যাতিত হইলে হিন্দু আইডেন্টিটি সামনে এনে প্রমান করতে চায় বাংলাদেশে হিন্দুরা ভালো নাই। কিন্তু হিন্দুত্ববাদ চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাঙালি আইডেন্টিটি সামনে এনে বাঙালি মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে।ফলে ওপারের ভারতীয়রা মনে করছে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় মনে হয় জাহান্নামে আছে।আসলে কি?
আমরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নানা ইস্যু নিয়ে গবেষণা করে বুঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি।বুঝতে চেষ্টা করছি আসলে তাদের অভিযোগের মূল বিষয়গুলো কি কি। আমাদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে সরকারী চাকুরীতে হিন্দুদের অবস্থান তাদের জনসংখ্যার অনুপাতের প্রায় ৩ গুন বেশি। বাংলাদেশের সরকারী চাকুরীতে সংখ্যালঘুদের অবস্থান ২৯% যদিও জনসংখ্যার অনুপাতে তাদের সংখ্যা ১০% এর কম। তাহলে এই নালিশ কেন? সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যুকে ফুলিয়ে পাপিয়ে প্রচার করে এভাবে দেশটাকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে কেন? কাঁর স্বার্থে?
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কনসার্ন আছে।ভারতে হিন্দু হয়েও দলিতদের কি করুণ অবস্থা, সেজন্য কি তারা পাকিস্তান বা চীনের সাহায্যের জন্য আবেদন জানায়? বা মুসলমানরা? নিজেদের আভ্যন্তরীণ ইস্যু নিজেদেরকেই মোকাবেলা করতে হবে।নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্রের।সংখ্যালঘু নেতারা কি রাষ্ট্রের দিকে নিজেদের আঙুল তুলছেন? সেটা না করে কেন বহিঃরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন?
আমরা ভারতকে বুঝার অংশ হিসেবে রেফারেন্স সমৃদ্ধ বিভিন্ন লেখা, গবেষণা উপস্থাপন করছি।ভারতের আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রীয় পলিসির কারণে ভারতের অভ্যন্তরীন নাগরিকেরাই ভারতের বিভিন্ন অংশে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে।অথচ হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কেউ আমাদের গবেষণাগুলোকে বলার চেষ্টা করেন ভারত বিরোধী।ভারত বিরোধীতাকে নামিয়ে আনেন 'ভারত বিদ্বেষে' সেটাকে নামিয়ে আনেন হিন্দু বিরোধীতায়! কি আজিব ন্যারেটিভস।
আমরা সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করিনা।আমরা সম-সাম্প্রদায়িকতায় বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।দেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রদায়গত উন্নয়ন পুরো দেশের উন্নয়ন।এখানে কোন প্রতিযোগিতা নেই।বাংলাদেশের ৯০% মানুষ যে ধর্মের অনুসারী তাদের হুশ নাই বর্তমান রাষ্ট্রীয় সংকট নিয়ে।আমরা বুঝার চেষ্টা করছি কোথায় ভুল হয়ে গেল (What went wrong that we are in this mess)।এর অংশ হিসেবে আমরা প্রচলিত ন্যারেটিভসকে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করছি।এর অংশ হিসেবে আদি ইতিহাস থেকে বিভিন্ন সময়ের দ্বন্ধগুলো বুঝার চেষ্টা।যাতে করে বর্তমানের সংকট ও দ্বন্ধগুলো বুঝা সহজ হয়।
৯০% মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে ফেইল করে তাহলে ১০% আরামে থাকবেনা।সিরিয়ার আলাওয়ী সম্প্রদায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হয়েও সংখ্যাগুরুর ওপর যে রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ চালিয়েছে সেখান থেকে আমাদের সকলের শিক্ষণীয় আছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সুত্র কেবল নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা হলে ভুল হবে।আমি তখনই বাঁচব যদি আমি আপনাকে বাঁচাতে পারি।ভুলে গেলে চলবেনা বন্যা-প্রলয় যখন আসে তখন মসজিদ মন্দির সবই ডোবায়।
http://www.muldharabd.com/?p=716
মূলধারা বাংলাদেশ নামক ফেসবুক পেজ থেকে
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

