ভাইয়্যা, ভাইয়্যা... সম্বোধন শুনে চমকে উঠি। তাকিয়ে দেখি, পাতলা খান। এ নামেই তাকে সবাই ডাকে। তার আসল নাম ভুলে গেছি। হ্যাংলা চিপচিপে শরীর, ওর দিকে তাকালে মনে হবে পরগাছার মত এঁকে বেঁকে বহুত উচুঁতে একটা সুপারি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। 6 ফুট 4 ইঞ্চির কম লম্বা হবে না। বয়সে আমার চেয়ে কমপ ে4 বছর বেশি হবে। তারপরও সে কোনো এক অদ্ভুত কারনে আমাকে ভাইয়্যা সম্বোধন করে। একেবারে বাচ্চা ছেলেদের মত। উহু, তারও চেয়ে মিষ্টি সম্বোধন। প্রথম প্রথম অস্বস্তিতে থাকতাম। এখন সয়ে গেছে। আমার সাথে তার প্রীতির কারন কিছুদিন পরে জেনেছি। তার কাছে আমি বিল গেটসের মতই একজন মহান ইনভেন্টর!!! ভয়ঙ্কর কথা। তারচেয়েও বড় ভয়ঙ্কর সে যেসব সমস্যা আমার সামনে উত্থাপন করে সেগুলো।
বললাম- কোনো সমস্যা?
পুরো শরীরে ঝাকি তুলে সে ডান হাত দিয়ে তার লম্বা চুলগুলোকে বাম দিকে সরিয়ে নিল; চেহারায় কিছুটা মেয়েলী ভঙ্গী এনে বললো--
--- ইকবাল ভাই বলেছে- রাস্তা দিয়ে একটা লোক হেঁটে যাচ্ছে আর তার মাথায় একটা কাক মলত্যাগ করে দিয়েছে; এমন একটা অ্যানিমেশন করতে। আমার প্রশ্ন, এত জীবজন্তু থাকতে তিনি কাউয়্যার কথা কেন বললেন?
--- আমি মুখে কৃত্রিম গম্ভিরতা এনে বললাম- তাইতো! এক কাজ করেন, কাউয়্যা না এঁকে উট পাখি এঁকে দেন।
--- কি বলেন? ওটা আঁকাতো আরো কঠিন।
--- তবে, যা পারেন তাই এঁকে দেন।
--- আচ্ছা ছোট পাখি আঁকলে হবে না?
--- হবে না কেন? অবশ্যই হবে; চড়ুই টড়ুই কিংবা টুনটুনিও আঁকতে পারেন।
সে প্রস্থান করিলো এবং আমি শিওর সে আবার ফিরিয়া আসিবে, শীঘ্রই আসিবে।
সে আসিলো। বলিলো-
--- একটা সমস্যা হয়ে গেছে। আমার পিসিতে একটু আসবেন?
অগত্যা উঠতে হলো। ম্যাক্রোমিডিয়া ফ্যাশ খুলে বসে আছে সে। কন্ট্রোল এন্টার দিয়ে দেখলাম- একটা লোক হেঁটে যাচ্ছে। হেঁটে যাচ্ছে বললে ভুল হবে, লোকটার একটা পা নড়ছে, বাকীটা স্থির। উপর থেকে কালো একটা জিনিস বাম থেকে ডান দিকে যাচ্ছে এবং ক্রমাগত লোকটার মাথা থেকে একটা সাদা বস্তু উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। বললাম- এটা কেমন করে হয়? পাখিটার মল দেখি লোকটার মাথা থেকে পাখিটার দিকে যাচ্ছে?
--- এটাইতো সমস্যা ভাইয়্যা। সে কাচুমুচু করে বললো। আপনি ঠিক করে দিবেন ভাইয়্যা?
ঠিক করে দিলাম। কেবল ঐটুকুই। সে ভিষন আনন্দে সবকটি দাঁত দেখিয়ে দিল এবং আমি নিশ্চিত আমার এই ফালতু সমাধানের পরিপ্রেেিত সে আমাকে বিল গেটসের বাবার আসনে বসিয়ে দিবে। অতপরঃ ভবিষ্যতে এমনই কিছু অদ্ভুত সমস্যা এনে আমার আয়েশী জীবন যাপনের ব্যাঘাত ঘটাবে। আমি হিমু মানুষ। যদিও মানব গবেষনায় কিঞ্চিত সময় ব্যয় করি, তথাপি এমন হিজিবিজি মানুষের মনমর্জি এখনো বুঝে উঠতে পারলাম না। কখনো পারবো বলেও মনে হয়না। এদের হেয়ালীর যে কোনো শেষ নেই!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




