somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মজার ঘটনা--রুশ সাহিত্য থেকে

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই ছোটবেলা থেকেই রুশ সাহিত্যের পোকা আমি। প্রথম বইটি ছিল, "চুক আর গেক"-আর্কাদি গাইদারের এক অনন্য শিশু সাহিত্য ! এরপর থেকে কত বই যে পড়েছি--সবগুলো আমার বড়বোনের দেয়া। আপা তখন মেডিকেলে পড়ত, স্কলারশীপের টাকা বাঁচিয়ে আমাকে আর বই পাগল আব্বা-আম্মাকে বই কিনে দিত। রুশ ছোট গল্পসংকলন আমার বেশি প্রিয় ছিল, অবশ্য এতে প্রগতী প্রকাশনের ননী ভৌমিকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল--ওনার প্রান্জল অনূবাদে দূর্বোধ্য রুশ ভাষা প্রানের বাংলায় পরিপূর্ন রূপ পেয়ে আমার হৃদয়ে নির্মল জলধারার মতো বইতো! আর চিত্রকর দ দুবিন্সকীর স্কেচ! ওনার আঁকা থেকেই আমার প্রথমে ছবি আঁকা, পরে আর্কিটেক্ট হওয়ার অনুপ্রেরনা শুরু হয়--



চুক আর গেক এর পরে পুশকীনের রুশ দেশের রূপকথা আমাকে অন্য জগতে নিয়ে যেত---ছোট ইভান বড় বদ্ধিমান, ডাইনি বুড়ি বাবা ইয়াগা আরও কত অজানা চরিত্রের ভীড়ে!
রুশ ছোট গল্পের বেশ বড় একটা সিলেকশন ছিল আমার, এর মধ্যে ভাসিলি সুকশীন, আর দস্তয়ভস্কীর এর লেখা খুব প্রিয় ছিল। সুকশীনএর লেখার বিষয়বস্তু খুব সাধারন গ্রাম্য মানুষদের নিয়ে--গল্পগুলো আমাকে খুব কাছে টানত, সেই যে রুশ গ্রাম্য বুড়িটি তার নাতি কে যারপরনাই বিরক্ত করছে পাতার পর পাতা বিশাল টেলিগ্রাম লিখতে তার ছেলের কাছে; অথবা হেমন্তের শুরুতে খেতে কাজ করতে করতে কোন ক্লান্ত কৃষক ছোট টিলায় হেলান দিয়ে নুনে জারানো চর্বি আর শশা খেতে খেতে জগতের রহস্য বুঝতে গিয়ে হাই দিয়ে ওঠে, পাশ দিয়ে সরসর করে ঘিনঘিনে নিরীহ সাপ চলে যায় আর তা দেখে ইভান নামের ছুলি ভরা মুখের সেই কৃষকটি বিষন্ন গলায় গেয়ে ওঠে "পপ্‌লার গা-- ছ , ওরে পপ্‌লার গা-- ছ !"
মিখাইল শলোখভের "না পাঠানো চিঠি" পরে কতোবার যে কেঁদেছি--একদল খনি কাজে নিযুক্ত মানুষ সাইবেরিয়ার ভয়ংকর তুষারঝড়ের সাথে যুদ্ধ করতে করতে দিশেহারা হয়ে আর খাদ্যের অভাবে একেএকে সবাই মারা পরে , শুধুমাত্র গল্পের লেখক পুরো ঘটনাটি চিঠি আকারে লিখে রাখে প্রিয়জনের নামে, সেও প্রকৃতির কাছে একদিন আত্ম সমর্পন করে। একসময় সেই চিঠি উদ্ধার হয় পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর ভেতর থেকে!---
বেশ বড় হবার পরেও পড়েছি শিশুতোষ লেখা "পিতা ও পুত্র", ভেরা পানোভা এর। পড়তে গিয়ে গল্পের প্রধান চরিত্র সেরিওজার বাবার উপরে কত অভিমান যে হয়েছিল আমার! সেই যে সেরিওজাকে ফেলে ওর বাবা নতুন মা আর সেরিওজার সৎভাইকে নিয়ে মস্কোতে চলে যাচ্ছে--দরজায় দাড়িয়ে সেরিওজার সে কি আকুল কান্না !.
একটা মজার ঘটনা দিয়ে শেষ করছি!--সুকশীনের একটা ছোট গল্প, সেই বরাবরের মত রুশ গ্রাম্য চরিত্র, ধরাযাক তার নাম পাভেল (নামটা ভুলে গেছি আসলে) সে প্রথমবারের মতো প্লেনে উঠেছে।কিছুতেই সীট বেল্ট বাধবেনা পাভেল, ফলে যা হবার হলো, প্লেন টেক অফ করতেই হুড়মুড় সে সীট থেকে ছিটকে পড়ল! মুখ থেকে বাঁধানো দাঁত দুটো ছিটকে পড়ল দূরে--একজন ভদ্রলোক সেগুলো খুঁজে পেয়ে পাভেল দিতেই, ভীষন খেপে গিয়ে যা বলল, তা মনে হলে এখনও হেসে কুটিকুটি হই আমি!,
পাভেল বলেছিলো "হাত দিয়ে ওতা না ধল্লেই কি তলথিলো না! এখন আমি এতাকে গলম দলে ফোতাই কোথায়, কোথায় ফোতাই বলুন?" :D B-) :-B
১৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×