দাত মাজতে মাজতে মাঝে মাঝে হুশজ্ঞান থাকে না। শইলে গুরু ভর করে। মাজি আর মাজি। ইচ্ছা করে দাতের লগে দুইন্যাটারে মাইজ্যা বিনাশ করতে।
ঐদিন মাজতে মাজতে এমনটা হইল। শইল চাবাইতে লাগল। লুঙ্গি পইরাই বাইর হয়া গেলাম ঘর থিকা। কান্ধে তোয়ালা।
সিড়িকোঠায় গিয়া দাত মাজি আর ভাবি, দ্যাশটার হইল কি। কি আছিল আর কি হইল। কোন চুৎমারানি দ্যাশটার ঐ হাল করল। সাতপাচ ভাবি আর মাথায় রক্ত উইঠা যায়। মাজতে মাজতে দাতের গোড়া খয় কইরা ফালাই। এই মাজনের পর যদি দাত থিকা আলো না বাইর হয় তো টুথপেস্ট কোম্পানির মায়রে আমি ...।
ভাবতে ভাবতে ঘরে ঢুইকা দেখি অবাক তামশা। গোবদা এক পোলা বয়া বয়া সালাদ সাজাইতাছে। কোনদিক দিয়া ঢুকল বুইঝা পাই না। হালার চোরচামাট্টায় ভইরা গেল দ্যাশটা।
আগাইয়া গিয়া সব ঘর চেক করি। না, সব কিছু ঠিক আছে। পোলা কোন কিছুতে হাত দেওয়ার সময় পায় নাই। আর মানিব্যাগ তো আমার লুঙ্গির গোপন পকেটেই থাকে। চিন্তা কি।
ফিরা আইসা দেখি পোলা তখনো এক বিঘা হা কইরা চাইয়া রইছে আমার দিকে। সমস্যা কি। আয়োডিন খায় নাই নাকি লবণের লগে? দাত মাজতে মাজতে কই, "এ গেলি নাকি পুলিশ ডাকুম?" পোলায় কিছু কয় না, চাইয়া থাকে।
হাল ছাইড়া দেই। অরে বইলা কিছু হইব না। দ্যাশটাই এমন। জোর কইরা লোকজন ঘরের ঢুইকা বইয়া পড়ে। মাইর লাগবো মাইর। লাঠির খোজে আবার বাইর হই ঘর থিকা।
লাঠি হাতে লইয়া ঘরে ফিরা দেখি পোলা নাই। সালাদও নাই। হালায় সালাদ চোর।
তারপর ঐদিন আবারর দ্যাখা পোলার লগে। ঘরের বাইরে পায়চারি করি আর দাত মাজি, আর মনে মনে গাইল পাড়ি, দেখি মোটকা বাইর হইছে লিফট থেইকা। হাবভাব সুবিধার না। ইতিউতি চায়। মেজাজটা খাট্টা হইয়া যায়। দাত মাজতে মাজতে কই, "ঐ তরে কইলাম চোখে চোখে রাখছি। চুরিদারি করতে আবি আবার তো মাইরা খেদামু।"
পোলায় কয়, "হ হ বুঝছি বুঝছি।" তারপর যায়গা।
আমি আবারও দাত মাজি। পোলাডারে ধইরা একদিন শক্ত মাইর দিতে হইব। মাইরের উপরে ওষুধ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



