লুঙ্গিতে গিটঠু মারি বচপান কা জমানা থিকা। লুঙ্গি আমি নতুন পিন্দি না। পুরান ঢাকার সর্দার ভি আমার লুঙ্গি পরার কিসিম দেইখা মোচ মোচড়ায়। রাইতে ঘুমাই লুঙ্গি পিন্দা, কারবারে ভি বহি লুঙ্গি পিন্দা। লুঙ্গি পইরা ক্রিকেট খেলি, ডেট করি মাইয়াগো লগে। লুঙ্গির বহুত ফয়দা, হুইনা কাম কি?
ঐদিন রাইতে লুঙ্গি পিন্দাই ঘুম দিছিলাম। আৎখা মনে হইল ক্যাঠা জানি লুঙ্গি গিটঠু ধইরা টানাটানি করতাছে। পয়লা ভাবছিলাম নিদের ঘোরে খোয়াব দেখতাছি, পরে মনে হইল না! হাছাই ত ক্যাঠা জানি লুঙ্গি খুলার ফিকির করতাছে! লুঙ্গির গোপন পকেটে থাকে আমার মানিব্যাগ। রাতবিরাইতে আমার ধনের উপর হামলা করে ক্যাঠা (খুব খিয়াল কইরা!)?
ফাল পাইড়া উইঠা চোট্টাটারে হাতে নাতে ধরি। আলো জ্বালাইয়া দেখি ঐদিনের সালাদ চোর। গোবদা পোলা বদমাইশের হাড্ডি। রাতবিরাইতে আইছে ভদ্দরলোকের লুঙ্গি খুলতে।
মারি একটা চটকানা ঠাস কইরা। পোলায় কাইন্দা দ্যায়।
আমি কান্দনের আওয়াজ সহ্য করতে পারি না। একটা ইস্টার ফিলটার ধরাইয়া জিগাই, ঐ চোট্টা, কি মতলবে হাত দিছিলি লুঙ্গিতে হাছা কইরা ক!
পোলায় কানতে কানতে কয়, মূল্য এক কোটি টাকা মাত্র।
আমি কই, দিললাগি করার জায়গা পাছ না? চটকানা মাইরা গাইড়া ফালামু মাটিতে। লুঙ্গির মূল্য আবার কবে থিকা এক কোটি টাকা? লুঙ্গি কি পঙখীরাজের বাল দিয়া সিলাইছে নিকি?
পোলায় কয়, অ্যা অ্যা অ্যা বই কিনুম। মূল্য এক কোটি টাকা মাত্র।
আরেকটা চটকানা মারি। পোলায় আরো কান্দে।
তারপরে বুঝি ঘটনা। পোলায় মাসুদ রানার বই পড়া ধরছে। মূল্য এক কোটি টাকা মাত্র। বইয়ের কভারে হাফন্যাংটা সাদা চামড়ার মাইয়া দেইখা মাথামুথা গরম হইছে।
আমি হাসি। কই, চুরি কইরা বই কিনতে গেছিলি ক্যান?
পোলায় কয়, আম্মারে কইছিলাম। আম্মা কইছে মাসুদ রানা পড়লে পোলাপাইন খাটাস হইয়া যায়।
আমি কই, হ হ তর মায় তো সব জানে। এই ল পনচাস ট্যাকা। আবার কোনদিন লুঙ্গির গিটটুতে হাত দিবি তো মাইরা সফেদ কইরা ফালামু। যা ফোট এখন।
পোলায় যায়গা খুশি মনে চোখ মুছতে মুছতে।
আমি আবার ঘুম দেই। জানি জিগাইবেন, এত বুদ্ধি লইয়া ঘুমাই ক্যামনে। সোজা জবাব, বাত্তি নিভাইয়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



