somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোজো মোজো প্রেমের গল্প

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইয়ারে বহুৎ কষ্টে পটাইয়া বাইর করলাম ভ্যালেন্টাইন ডেতে। মাইয়ার চেহারা ছবি ভালো, গতরও বেশ নধর, তয় স্বভাব খারাপ। খালি খাইতে চায়। দুইজন মিলা কই রিকশা দিয়া ঘুরুম, গায়ে গা লাগাইয়া, আর ভালোবাসা দিবসের মজা লমু, তা না, বাসা থিকা বাইর হওয়ার পাচ মিনিট পরেই কয় খামু। জিগাই, কি খাইবা সোনা। কয় পিজ্জা।

আমার তো গলা গেলোগা হুগাইয়া। বাপরে। পিজ্জা খাইবো। যে-ই কলেবর, বড় পিজ্জা একাই একটা খাইয়া ফালাইতে পারবো। মিনমিন কইরা কইলাম, চল পিজ্জা হাটে যাই।

পিজ্জা হাটে গিয়া দেখি ঐখানে হাটবার। গিজগিজ করতাছে লোকজন। প্রত্যেক পোলার লগেই নাদুসনুদুস মাইয়া। কইলে কইবেন খারাপ কথা কয়, কিন্তু সব মাইয়ারেই আমার পছন্দ হইল। আমার লগেরটারে মনে হইতে লাগল কোন রাক্কুসী। চারিদিকে হট হট মাইয়া, কি তাদের উচ্চমাধ্যমিক, কি তাদের নিম্নমাধ্যমিক! আর আমার লগে যে বাইর হইছে হে চিনে খালি মাধ্যমিক :( ...

মিজাজটা বিলাই হইল। মাইয়া কয়, শুনো, কয়েকপদের টেস্ট কইরা দেখি কি বল? আমার তো গলা গেলো আর হুগাইয়া। কয় কি মাইয়া। একটা পিজ্জার দাম দিতে গিয়াই তো খবর হইয়া যাইতাছে, কয়েকটা খাইতে চায়! খাইতে যে সে পারবে, সেই ঈমান আমার অবশ্য ততক্ষণে হইছে। মিনমিন কইরা কইলাম, সোনা তুমি যা বল। মনে মনে পেরতিজ্ঞা করলাম, খাড়া ছেরি, পাইয়া লই তরে বাগে, পিজ্জা উসুল করুম রগে রগে, লগে লগে ...

পিজ্জা আসতে আসতে ভাবলাম একটু রসের কথা কই। হাত ধইরা কইলাম সোনা আজকে তোমাকে যে কি সোন্দর লাগতে আছে ... মাইয়া কয় হাত ছাড় লজ্জা লাগে।

রাগে গলা গেল আরো হুগাইয়া। পিজ্জা খায় এক হালি লজ্জা লাগে না, আর হাত ধরলে লজ্জা। খাড়া ছেরি, কত কি যে ধরি দেহিছ! বজ্রশপথ লই মনে মনে।

পিজ্জা আসে।আমার ভ্যালেন্টাইন তো হাতা গুটাইয়া ঝাপাইয়া পড়ে। হাবভাব দেইখা বগ ডর লাগে। গলা যায় হুগাইয়া। কই, ডালি্লং আস্তে খাও ... গলায় ঠেকব ত! সে কি আর শুনে ধর্মের কাহিনি। সামনে গরম পিজ্জা। সে খালি গিলে।

খাওয়ার মধ্যেও রস করার চেষ্টা করি। হাত ধরি, টেবিলের নিচে পায়ে পায়ে রগড়ারগড়ি, রানেও হাত দিতে যাই। মাইয়া আমার পায়ে মারে লাত্থি! আমি কই উফ বাবারে! পিজ্জা হাটে লোকজন ফিরাও চায় না। সবাই খায় আর রস করে।

রাগে দুঃখে গলা যায় হুগাইয়া। মাইয়া ততক্ষণে পিজ্জা খাইয়া ঢেক তুলে। ওয়েটাররে ডাইকা কয় কিছু স্লাইস পইড়া রইছে প্যাক কইরা দেন। বাসায় লইয়া যাইব পোটলা বাইন্দা।

চোখের পানি টিসু দিয়া মুছতে গিয়া দেখি পানি বাইর হইতাছে না। হেবি্ব পিপাসা লাগছে। ওয়েটাররে ডাইকা কই মামু দুই গ্লাস মোজো দেন। তিয়াস লাগছে।

মাইয়া ফট কইরা উইঠা কয় কি? মোজো? তুমি মোজো খাও? দ্যাট ডার্টি আনকুথ ডিরিঙ্ক? ঐটা কোন ভদ্রলোকে খায়? ওয়াক থু। তোমার মত খ্যাতের লগে আমি আর ঘুরুম না। খোদা হাপেপজ!

মাইয়া যায়গা, ওয়েটার তার হাতে পিজার টুকরাটাকরা যা বাকি আছিল ধরাইয়া দ্যায়। আমি বইয়া থাকি বেকুবের মত।

এক ওয়েটার আইসা কয় স্যার আমরা মোজো সার্ভ করি না। ঐসব এইখানে চলে না।

আমি তো ফাইটা পড়ি। কই ক্যা মোজো ব্যাচো না কেন হালার ভাইরা ... জানো মোজো কি চিজ?

ওয়েটার হাসে। কয় জানি স্যার। সামহোয়্যারে অ্যাড দেখছি।



সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:১০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×